ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা জোরদার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা জোরদার
এন রায় রাজা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ। এ অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। চলছে নানা ধরনের সংস্কার ও ধোয়া-মোছার কাজ। কর্মকর্তা কর্মচারীদের দম ফেলার সময় নেই। অনেকেই সংসদ ভবনকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এবারে সংসদ অধিবেশন বসার মতো পরিবেশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যূত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারত পালিয়ে যান। এরপর একদল উশৃঙ্খল জনতা সংসদ সচিবালয়ে ঢুকে পড়ে এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী, ল্যাপটপ, কম্পিউটার,আলমারি, টেবিল, চেয়ার ভাঙচুর এবং লুটপাট করে। এতে সংসদ সচিবালয়ের কর্মপরিবেশ ছিল না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ হয় পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি। নতুন সংসদ সদস্যরা এবং মন্ত্রী পরিষদ শপথ নেন ১৭ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, গত ২৩ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন । ওই দিন বেলা ১১টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব মিজ কানিজ মাওলা সিটিজেন জার্নালকে বলেছেন, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ওই দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে উপস্থিত হয়ে ভাষণ দেবেন। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। আমি সব বিভাগেই জোর প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। অনেকেই এই রোজার সময়ও অতিরিক্ত কাজ করে অধিবেশন বসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে চলেছেন।
অধিবেশনের প্রস্তুতি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের আইন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সংসদে অধিবেশন শুরু হলে তাদের কাজ বেড়ে যায়। প্রশ্ন ও উত্তর, আইন প্রণয়ন কার্যাবলী, কমিটি গঠন, সব মিলিয়ে তাদের ঘুম হারাম। তবে আশা করছি ১২ মার্চ যথারীতি অধিবেশন বসবে এবং সব কাজ কর্ম সঠিকভাবে হবে। আইন বিভাগের সবাই খুব ব্যস্ত, মূলত সংসদ বসলে তাদের কাজ বেড়ে যায়।
এদিকে সংসদের ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন রাত পরিশ্রম করে কাজ করে যাচ্ছেন। বিদ্যুতের তার স্থাপন, ডাবল লাইনের জন্য নতুন করে বিদ্যুৎ বিভাগের কাজ ঢেলে সাজানো হয়েছে। ওয়াইফাই, সেন্টাল শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ (এসি) সব কক্ষের এসির কাজও মেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী পরিষদের সবার কক্ষ যথাযথভাবে সাজানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে সংসদীয় বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতির রুম, চিফ হইপ ও হুইপদের অফিস কক্ষ, তাদের পিএস, এপিএসের কক্ষও প্রস্তুত।
ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সফলভাবে শুরু করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ সহকারী পরিচালক সাব্বির আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে জানান, গত বছরের দীর্ঘ সময় আমাদের কাজের পরিবেশ ছিল না। ছিল না ল্যাপটপ, ডেক্সটপ কম্পিউটার, ফাইলপত্রসহ নানা জরুরি সরঞ্জাম। পরে সচিবালয় থেকে কেনা কাটা করে নতুন কম্পিউটারসহ টেবিল চেয়ার দেওয়ার পরে কাজের পরিবেশ ফিরে আসে। এর পরে গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পরে আমাদের কাজের চাপ অনেকাংশে বেড়ে গেছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সবকিছু ঘষেমেজে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
এদিকে সংসদ টেলিভিশরে যন্ত্রপাতি সচল আছে কিনা যা যাচাই করে দেখে গেছেন বিটিভির কর্মকর্তারা । সাউন্ড সিস্টেম, ওয়াইফাই ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা।
কী হবে নতুন সংসদের প্রথম দিন
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রথম বৈঠকে স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি দিয়ে নতুন স্পিকারের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি বৈঠক বসবে। নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শোক প্রস্তাব পাঠসহ সংসদের বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া এদিনের বৈঠকে বিগত সংসদের পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, সেগুলো উপস্থাপন করা হবে। আইনমন্ত্রী অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করবেন। প্রথম বৈঠকের পর দ্বিতীয় বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব তোলা হবে। ওই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেবেন। সঙ্গে চলবে আইন প্রণয়ণ কার্যাবলী।
পাতা হচ্ছে লাল গালিচা
অধিবেশন উপলক্ষে সংসদ ভবনের বাইরের অংশ ও টানেল সাজানো হচ্ছে চোখজুড়ানো ফুলের টব দিয়ে। সংসদের টানেল থেকে রাষ্ট্রপতির চেম্বার, প্রধানমন্ত্রী কক্ষ হয়ে মূল সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষ পর্যন্ত বাহারি ফুলের টবে সাজানো। লাল গালিচা আনা হয়েছে, যা ১১ মার্চে টানেল থেকে মূল গেট হয়ে চলে যাবে রাষ্ট্রপতির চেম্বারে। সেখান থেকে সংসদ কক্ষে। সংসদের ভিতরে লিফটের আশপাশে সাজানো হয়েছে বিশেষ বাহারী ফুলের টব দিয়ে। সংসদের বাইরে টানেলজুড়ে রয়েছে লাল হলুদ সবুজ বিভিন্ন রঙের ফুল ও পাতা বাহারি ফুলের সারি। সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও তার সামনের মাঠ ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছে। ধুয়ে মুছে সাফ করা হয়েছে সংসদের চারপাশ। গেটগুলোর সামনে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার
সংসদ অধিবেশন চলাকালে যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সংসদ সচিবালয়কে।
এদিকে গত ৫ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পরে ভারপ্রাপ্ত সচিব জেবুন্নেসা করিমের (অতিরিক্ত সচিব, কমিটি সাপোর্ট উইং) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দুর্ঘটনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় সরকারি ও ব্যক্তিগত তহবিলসহ প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি নিরুপন করা হয়। তুলে ধরা হয় ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ। এ অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। চলছে নানা ধরনের সংস্কার ও ধোয়া-মোছার কাজ। কর্মকর্তা কর্মচারীদের দম ফেলার সময় নেই। অনেকেই সংসদ ভবনকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এবারে সংসদ অধিবেশন বসার মতো পরিবেশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যূত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারত পালিয়ে যান। এরপর একদল উশৃঙ্খল জনতা সংসদ সচিবালয়ে ঢুকে পড়ে এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী, ল্যাপটপ, কম্পিউটার,আলমারি, টেবিল, চেয়ার ভাঙচুর এবং লুটপাট করে। এতে সংসদ সচিবালয়ের কর্মপরিবেশ ছিল না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ হয় পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি। নতুন সংসদ সদস্যরা এবং মন্ত্রী পরিষদ শপথ নেন ১৭ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, গত ২৩ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন । ওই দিন বেলা ১১টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব মিজ কানিজ মাওলা সিটিজেন জার্নালকে বলেছেন, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ওই দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে উপস্থিত হয়ে ভাষণ দেবেন। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। আমি সব বিভাগেই জোর প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। অনেকেই এই রোজার সময়ও অতিরিক্ত কাজ করে অধিবেশন বসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে চলেছেন।
অধিবেশনের প্রস্তুতি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের আইন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সংসদে অধিবেশন শুরু হলে তাদের কাজ বেড়ে যায়। প্রশ্ন ও উত্তর, আইন প্রণয়ন কার্যাবলী, কমিটি গঠন, সব মিলিয়ে তাদের ঘুম হারাম। তবে আশা করছি ১২ মার্চ যথারীতি অধিবেশন বসবে এবং সব কাজ কর্ম সঠিকভাবে হবে। আইন বিভাগের সবাই খুব ব্যস্ত, মূলত সংসদ বসলে তাদের কাজ বেড়ে যায়।
এদিকে সংসদের ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন রাত পরিশ্রম করে কাজ করে যাচ্ছেন। বিদ্যুতের তার স্থাপন, ডাবল লাইনের জন্য নতুন করে বিদ্যুৎ বিভাগের কাজ ঢেলে সাজানো হয়েছে। ওয়াইফাই, সেন্টাল শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ (এসি) সব কক্ষের এসির কাজও মেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী পরিষদের সবার কক্ষ যথাযথভাবে সাজানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে সংসদীয় বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতির রুম, চিফ হইপ ও হুইপদের অফিস কক্ষ, তাদের পিএস, এপিএসের কক্ষও প্রস্তুত।
ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সফলভাবে শুরু করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ সহকারী পরিচালক সাব্বির আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে জানান, গত বছরের দীর্ঘ সময় আমাদের কাজের পরিবেশ ছিল না। ছিল না ল্যাপটপ, ডেক্সটপ কম্পিউটার, ফাইলপত্রসহ নানা জরুরি সরঞ্জাম। পরে সচিবালয় থেকে কেনা কাটা করে নতুন কম্পিউটারসহ টেবিল চেয়ার দেওয়ার পরে কাজের পরিবেশ ফিরে আসে। এর পরে গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পরে আমাদের কাজের চাপ অনেকাংশে বেড়ে গেছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সবকিছু ঘষেমেজে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
এদিকে সংসদ টেলিভিশরে যন্ত্রপাতি সচল আছে কিনা যা যাচাই করে দেখে গেছেন বিটিভির কর্মকর্তারা । সাউন্ড সিস্টেম, ওয়াইফাই ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা।
কী হবে নতুন সংসদের প্রথম দিন
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রথম বৈঠকে স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি দিয়ে নতুন স্পিকারের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি বৈঠক বসবে। নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শোক প্রস্তাব পাঠসহ সংসদের বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া এদিনের বৈঠকে বিগত সংসদের পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, সেগুলো উপস্থাপন করা হবে। আইনমন্ত্রী অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করবেন। প্রথম বৈঠকের পর দ্বিতীয় বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব তোলা হবে। ওই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেবেন। সঙ্গে চলবে আইন প্রণয়ণ কার্যাবলী।
পাতা হচ্ছে লাল গালিচা
অধিবেশন উপলক্ষে সংসদ ভবনের বাইরের অংশ ও টানেল সাজানো হচ্ছে চোখজুড়ানো ফুলের টব দিয়ে। সংসদের টানেল থেকে রাষ্ট্রপতির চেম্বার, প্রধানমন্ত্রী কক্ষ হয়ে মূল সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষ পর্যন্ত বাহারি ফুলের টবে সাজানো। লাল গালিচা আনা হয়েছে, যা ১১ মার্চে টানেল থেকে মূল গেট হয়ে চলে যাবে রাষ্ট্রপতির চেম্বারে। সেখান থেকে সংসদ কক্ষে। সংসদের ভিতরে লিফটের আশপাশে সাজানো হয়েছে বিশেষ বাহারী ফুলের টব দিয়ে। সংসদের বাইরে টানেলজুড়ে রয়েছে লাল হলুদ সবুজ বিভিন্ন রঙের ফুল ও পাতা বাহারি ফুলের সারি। সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও তার সামনের মাঠ ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছে। ধুয়ে মুছে সাফ করা হয়েছে সংসদের চারপাশ। গেটগুলোর সামনে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার
সংসদ অধিবেশন চলাকালে যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সংসদ সচিবালয়কে।
এদিকে গত ৫ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পরে ভারপ্রাপ্ত সচিব জেবুন্নেসা করিমের (অতিরিক্ত সচিব, কমিটি সাপোর্ট উইং) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দুর্ঘটনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় সরকারি ও ব্যক্তিগত তহবিলসহ প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি নিরুপন করা হয়। তুলে ধরা হয় ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা জোরদার
এন রায় রাজা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ। এ অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। চলছে নানা ধরনের সংস্কার ও ধোয়া-মোছার কাজ। কর্মকর্তা কর্মচারীদের দম ফেলার সময় নেই। অনেকেই সংসদ ভবনকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এবারে সংসদ অধিবেশন বসার মতো পরিবেশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যূত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারত পালিয়ে যান। এরপর একদল উশৃঙ্খল জনতা সংসদ সচিবালয়ে ঢুকে পড়ে এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী, ল্যাপটপ, কম্পিউটার,আলমারি, টেবিল, চেয়ার ভাঙচুর এবং লুটপাট করে। এতে সংসদ সচিবালয়ের কর্মপরিবেশ ছিল না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ হয় পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি। নতুন সংসদ সদস্যরা এবং মন্ত্রী পরিষদ শপথ নেন ১৭ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, গত ২৩ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন । ওই দিন বেলা ১১টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব মিজ কানিজ মাওলা সিটিজেন জার্নালকে বলেছেন, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ওই দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে উপস্থিত হয়ে ভাষণ দেবেন। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। আমি সব বিভাগেই জোর প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। অনেকেই এই রোজার সময়ও অতিরিক্ত কাজ করে অধিবেশন বসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে চলেছেন।
অধিবেশনের প্রস্তুতি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের আইন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সংসদে অধিবেশন শুরু হলে তাদের কাজ বেড়ে যায়। প্রশ্ন ও উত্তর, আইন প্রণয়ন কার্যাবলী, কমিটি গঠন, সব মিলিয়ে তাদের ঘুম হারাম। তবে আশা করছি ১২ মার্চ যথারীতি অধিবেশন বসবে এবং সব কাজ কর্ম সঠিকভাবে হবে। আইন বিভাগের সবাই খুব ব্যস্ত, মূলত সংসদ বসলে তাদের কাজ বেড়ে যায়।
এদিকে সংসদের ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন রাত পরিশ্রম করে কাজ করে যাচ্ছেন। বিদ্যুতের তার স্থাপন, ডাবল লাইনের জন্য নতুন করে বিদ্যুৎ বিভাগের কাজ ঢেলে সাজানো হয়েছে। ওয়াইফাই, সেন্টাল শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ (এসি) সব কক্ষের এসির কাজও মেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী পরিষদের সবার কক্ষ যথাযথভাবে সাজানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে সংসদীয় বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতির রুম, চিফ হইপ ও হুইপদের অফিস কক্ষ, তাদের পিএস, এপিএসের কক্ষও প্রস্তুত।
ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সফলভাবে শুরু করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ সহকারী পরিচালক সাব্বির আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে জানান, গত বছরের দীর্ঘ সময় আমাদের কাজের পরিবেশ ছিল না। ছিল না ল্যাপটপ, ডেক্সটপ কম্পিউটার, ফাইলপত্রসহ নানা জরুরি সরঞ্জাম। পরে সচিবালয় থেকে কেনা কাটা করে নতুন কম্পিউটারসহ টেবিল চেয়ার দেওয়ার পরে কাজের পরিবেশ ফিরে আসে। এর পরে গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পরে আমাদের কাজের চাপ অনেকাংশে বেড়ে গেছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সবকিছু ঘষেমেজে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
এদিকে সংসদ টেলিভিশরে যন্ত্রপাতি সচল আছে কিনা যা যাচাই করে দেখে গেছেন বিটিভির কর্মকর্তারা । সাউন্ড সিস্টেম, ওয়াইফাই ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা।
কী হবে নতুন সংসদের প্রথম দিন
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রথম বৈঠকে স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি দিয়ে নতুন স্পিকারের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি বৈঠক বসবে। নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শোক প্রস্তাব পাঠসহ সংসদের বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া এদিনের বৈঠকে বিগত সংসদের পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, সেগুলো উপস্থাপন করা হবে। আইনমন্ত্রী অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করবেন। প্রথম বৈঠকের পর দ্বিতীয় বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব তোলা হবে। ওই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেবেন। সঙ্গে চলবে আইন প্রণয়ণ কার্যাবলী।
পাতা হচ্ছে লাল গালিচা
অধিবেশন উপলক্ষে সংসদ ভবনের বাইরের অংশ ও টানেল সাজানো হচ্ছে চোখজুড়ানো ফুলের টব দিয়ে। সংসদের টানেল থেকে রাষ্ট্রপতির চেম্বার, প্রধানমন্ত্রী কক্ষ হয়ে মূল সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষ পর্যন্ত বাহারি ফুলের টবে সাজানো। লাল গালিচা আনা হয়েছে, যা ১১ মার্চে টানেল থেকে মূল গেট হয়ে চলে যাবে রাষ্ট্রপতির চেম্বারে। সেখান থেকে সংসদ কক্ষে। সংসদের ভিতরে লিফটের আশপাশে সাজানো হয়েছে বিশেষ বাহারী ফুলের টব দিয়ে। সংসদের বাইরে টানেলজুড়ে রয়েছে লাল হলুদ সবুজ বিভিন্ন রঙের ফুল ও পাতা বাহারি ফুলের সারি। সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও তার সামনের মাঠ ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছে। ধুয়ে মুছে সাফ করা হয়েছে সংসদের চারপাশ। গেটগুলোর সামনে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার
সংসদ অধিবেশন চলাকালে যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সংসদ সচিবালয়কে।
এদিকে গত ৫ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পরে ভারপ্রাপ্ত সচিব জেবুন্নেসা করিমের (অতিরিক্ত সচিব, কমিটি সাপোর্ট উইং) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দুর্ঘটনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় সরকারি ও ব্যক্তিগত তহবিলসহ প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি নিরুপন করা হয়। তুলে ধরা হয় ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান।




