শিরোনাম

নির্বাচনে সরকারকে নিরপেক্ষ মনে করে ৪৮ শতাংশ মানুষ: জরিপ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
নির্বাচনে সরকারকে নিরপেক্ষ মনে করে ৪৮ শতাংশ মানুষ: জরিপ
প্রাক-নির্বাচনী জনধারণা জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠান। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিরপেক্ষ বলে মনে করেন ৪৮ শতাংশ মানুষ। তবে ১১ দশমিক ৩ শতাংশের ধারণা, সরকার নিরপেক্ষ নয়। বেসরকারি সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) ও তাদের যুব প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ ফর পলিসির (ওয়াইএফপি) করা এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কতটা জেনে-বুঝে নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ?’ শীর্ষক প্রাক্–নির্বাচনী জনধারণা জরিপের এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

দেশের ৮ বিভাগের ৪০টি জেলার মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জরিপে অংশ নেন মোট ৯ হাজার ৮৯২ জন।

জরিপে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে করা প্রশ্নে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, সরকার নিরপেক্ষ কি না, তা তারা জানেন না। এ ক্ষেত্রে নারী উত্তরদাতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তার হার তুলনামূলক বেশি। এ ছাড়া ৭ শতাংশ উত্তরদাতা এ প্রশ্নে কোনো মত দিতে চাননি।

ভোটের দিনের নিরাপত্তা নিয়েও জরিপে প্রশ্ন করা হয়। উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরাপদ বোধ করবেন বলে আশা করেন। একই সঙ্গে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন, তাদের এলাকায় ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুরা ভয় ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন।

তবে ভোটের দিনের নিরাপত্তা নিয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আছে। ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নির্বাচনের দিনে সমস্যা বা নিরাপত্তাহীনতা মানুষকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে।

গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তির আশঙ্কা

গণভোটের ব্যালটে ভোটারকে একটি মাত্র বাক্সে চিহ্ন দিতে বলা হয়েছে– ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’। কিন্তু প্রশ্নটি একাধিক সংস্কার-বিষয়কে একসঙ্গে জুড়ে দিয়েছে এবং সেগুলোকে জুলাই সনদ ও বিভিন্ন কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বাস্তবে, একটি মাত্র ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের মাধ্যমে একাধিক প্রতিশ্রুতি ও পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চাওয়া হচ্ছে। জরিপের ফল বলছে, যেসব দলিলের কথা উল্লেখ আছে, সেগুলোর সঙ্গে বহু ভোটারের পরিচিতি সীমিত। ফলে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিলে বাস্তবে কী দাঁড়ায়– সে বিষয়ে অনেকেরই আত্মবিশ্বাস কম।

ব্যালট/প্রস্তাবনা বোঝার সক্ষমতায় বড় ঘাটতি

জাতীয়ভাবে মাত্র ৩৭.২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা জুলাই সনদে কী আছে তা জানেন। তবে এই গড়ের আড়ালে বড় বৈষম্য আছে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারদের মধ্যে জানেন বলেছেন ২৩.২ শতাংশ, যেখানে ১৮-৩৫ বয়সীদের মধ্যে তা ৪৫.৭ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলের উত্তরদাতাদের মধ্যে জানেন বলেছেন ৩২.৪ শতাংশ, নগরে ৪১.৪ শতাংশ। আর যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তাদের মধ্যে মাত্র ৮.৪ শতাংশ বলেছেন, তারা সনদের বিষয়বস্তু জানেন; বিপরীতে ৭৭.২ শতাংশ বলেছেন ‘না’ অথবা ‘জানি না’।

নির্দিষ্ট সংস্কার বিষয়েও ধারণা দুর্বল। উদাহরণ হিসেবে, মৌলিক অধিকার নিয়ে কী পরিবর্তন প্রস্তাব করা হয়েছে– তা জানেন বলেছেন ৪৩.১ শতাংশ। জাতীয়ভাবে এ বিষয়ে ‘জানেন না’ বা ‘জানি না’ বলেছেন ৫৫.৩ শতাংশ, যা বয়স্ক ও কম শিক্ষিত উত্তরদাতাদের মধ্যে আরও বেশি।

প্রাক্-নির্বাচনী অন্তর্ভুক্তির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেখা যায় ব্যালটের ভাষা পড়া ও বোঝার সক্ষমতার ক্ষেত্রে। জাতীয়ভাবে ৭২.৪ শতাংশ বলেছেন, তারা গণভোটের ব্যালটের লেখা সহজে পড়তে ও বুঝতে পারেন। কিন্তু ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার নেমে আসে ৫৭.৪ শতাংশে। আর যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তাদের মধ্যে তা আরও নেমে ২৬.৬ শতাংশে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, সামাজিকভাবে যারা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে বেশি, ব্যালটের লেখা বুঝতে তাদের আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে কম।

আবার বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ জিতলে বা ‘না’ জিতলে কী হবে– তা-ও তারা পরিষ্কারভাবে জানেন না। ‘হ্যাঁ’ জিতলে কী হবে, সে বিষয়ে জাতীয়ভাবে জানার ঘাটতি আছে ২৯.৬ শতাংশের; ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ৪২.৭ শতাংশ, আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন ভোটারদের মধ্যে ৬২.২ শতাংশেরই বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই।

একইভাবে, ‘না’ জিতলে কী হবে– এ বিষয়ে জাতীয়ভাবে ৩৩.৬ শতাংশের স্পষ্ট ধারণা নেই। ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ৪৭.৮ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন ভোটারদের মধ্যে ৬৭.৫ শতাংশ। ফলাফলের পরিণতি বোঝার ক্ষেত্রেও গ্রামাঞ্চলের মানুষ নগরের মানুষের তুলনায় কম হারে জানান যে তারা বিষয়টি বোঝেন।

অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন আইআইডির নির্বাহী প্রধান সাঈদ আহমেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়াইএফপির প্রধান সানজিদা রহমান, আইআইডির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম পরিচালক মারিয়াম তাসনিম প্রমুখ।