শিরোনাম

চালের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে দরিদ্র হবে ১৪ লাখ মানুষ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
চালের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে দরিদ্র হবে ১৪ লাখ মানুষ
জমিতে সার ছিটাচ্ছেন কৃষক

আমন মৌসুমে কৃষকের হাতে সময়মতো সার না পৌঁছালে ধানের উৎপাদন কমে যেতে পারে। আর উৎপাদন কমে চালের দাম বাড়লে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, চালের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারেন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসেই বিশ্ববাজারে সারের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ।

বাংলাদেশের জরুরি সার আমদানিতে সম্প্রতি দেওয়া ৩০ কোটি ডলারের অর্থায়ন পর্যালোচনায় বিশ্বব্যাংক এসব তথ্য তুলে ধরেছে। গত মাসে খাদ্যনিরাপত্তা জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় দেওয়া এই অর্থায়নের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, এই অর্থায়ন মূলত চলতি আমন ও আগামী বোরো মৌসুমের জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য। দীর্ঘমেয়াদি সার চাহিদা কিংবা নিয়মিত ভর্তুকির জন্য এ অর্থ ব্যবহার করা হবে না।

আমদানিনির্ভরতায় বাড়ছে ঝুঁকি

দেশে বছরে প্রায় ৬৬ লাখ টন সারের প্রয়োজন হয়। এর প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যবহার করা হয় ধান চাষে। মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি সার আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহব্যবস্থায় কোনো সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব পড়ে দেশের কৃষিতে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ তার ডিএপি সারের মোট চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শুধু সৌদি আরব থেকে আমদানি করেছে।

অন্যদিকে গ্যাস–সংকটের কারণে দেশের সাতটি সার কারখানার মধ্যে তিনটি বন্ধ রয়েছে। এতে আমদানির ওপর নির্ভরতা আরও বেড়েছে। সংকট মোকাবিলায় গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমন এবং অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুম। দেশের মোট ধান উৎপাদনের ৯০ শতাংশের বেশি হয় এই দুই মৌসুমে। এ সময় ৪৩ লাখ টনের বেশি রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয়।

চালের দাম বাড়লে বাড়বে দারিদ্র্য

বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, সময়মতো সার না পেলে কৃষকেরা সার ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারেন। এতে ধানের ফলন কমে যাবে এবং উৎপাদন কমার প্রভাব পড়বে চালের বাজারে।

দেশের সবচেয়ে কম আয়ের ৪০ শতাংশ পরিবারের খাদ্য ব্যয়ের প্রায় ২২ শতাংশই চাল কেনার পেছনে যায়। ফলে চালের দাম বাড়লে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, চালের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন।

দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ কৃষক পরিবার ক্ষুদ্র কৃষকের অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা মোট আবাদি জমির প্রায় ৬৫ শতাংশ চাষ করেন। ফলে সার না পাওয়া কিংবা সারের দাম বেড়ে গেলে এই কৃষকদের ওপর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে।

মজুত আছে, তবু কেন পাচ্ছেন না কৃষকেরা

সরকারের হিসাবে দেশে বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। কোথাও কোথাও সার সরবরাহের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।

২৯ আগস্ট ফরিদপুরে এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

মন্ত্রী বলেন, বেশি দাম না দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে—এমন অভিযোগের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সব ধরনের সারের সম্মিলিত নিরাপত্তামজুত এখন প্রায় ১৭ লাখ টন, যা দিয়ে প্রায় তিন মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। চলতি অর্থবছরের শুরুতে দেশে সারের মজুত ছিল প্রায় ১৮ লাখ টন। ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তা কমে ১৪ লাখ টনে নেমেছে।

/এমআর/