ভোট দিতে কেন্দ্র দীর্ঘ লাইন

ভোট দিতে কেন্দ্র দীর্ঘ লাইন
নিজস্ব প্রতিবেদক

রক্তঝরা জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই প্রথমবারের মতো দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সূচিত হচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের বেদনার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত সাংবিধানিক গণভোট’। স্বৈরশাসনের অবসানের পর আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে ব্যালটের রায় দেওয় শুরু করেছে জাতি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচন। তবে ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন ভোটাররা। কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন।
এদিন ভোর থেকেই রাজধানীর সিদ্ধেশ্বর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি।

ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বলেন, ২০০৮ সালে ভোট দিয়েছিলাম, এরপর আজ ভোট দিতে আসছি। খুব ভালো লাগছে।
অপর একজন বলেন, দীর্ঘ দেড়যুগ পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
প্রসঙ্গত, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্ম। মোট ভোটারের প্রায় ৪৫ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী। পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও ডাকযোগে ভোট প্রদান করেছেন, যা নির্বাচনকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৩ জন।
সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। সারাদেশে স্থাপিত ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন, যা মোট কেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি বছর তিন দফায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
এ বিপুল সংখ্যক ভোটার ও কেন্দ্র পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। এছাড়া সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা।
ইসি জানিয়েছে, আগামীকালের সংসদ ভোটে সেনাবাহিনী (১ লাখ ৩ হাজার), পুলিশ (১ লাখ ৮৭ হাজার), আনসার (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন), বিজিবি (৩৭ হাজার ৪৫৩), নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব, কোস্টগার্ড ও বিএনসিসি মিলিয়ে মোট ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবার নির্বাচনে সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালন করছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশে এসেছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জনসহ কমনওয়েলথ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং সন্তোষজনক। তবে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এ পর্যন্ত ৩০০টি মামলা দায়ের এবং ৫০০টিরও বেশি তদন্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। দুষ্টচক্র সহিংসতা ঘটাতে চাইলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। কুমিল্লা, যশোর ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান তারই প্রমাণ।
এদিকে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটলেও সকালে জনগণের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে নির্বাচন। রাজধানীসহ দেশেব্যাপী ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোর থেকেই জড়ো হয়েছে মানুষ। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চায় তারা।

রক্তঝরা জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই প্রথমবারের মতো দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সূচিত হচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের বেদনার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত সাংবিধানিক গণভোট’। স্বৈরশাসনের অবসানের পর আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে ব্যালটের রায় দেওয় শুরু করেছে জাতি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচন। তবে ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন ভোটাররা। কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন।
এদিন ভোর থেকেই রাজধানীর সিদ্ধেশ্বর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি।

ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বলেন, ২০০৮ সালে ভোট দিয়েছিলাম, এরপর আজ ভোট দিতে আসছি। খুব ভালো লাগছে।
অপর একজন বলেন, দীর্ঘ দেড়যুগ পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
প্রসঙ্গত, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্ম। মোট ভোটারের প্রায় ৪৫ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী। পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও ডাকযোগে ভোট প্রদান করেছেন, যা নির্বাচনকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৩ জন।
সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। সারাদেশে স্থাপিত ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন, যা মোট কেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি বছর তিন দফায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
এ বিপুল সংখ্যক ভোটার ও কেন্দ্র পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। এছাড়া সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা।
ইসি জানিয়েছে, আগামীকালের সংসদ ভোটে সেনাবাহিনী (১ লাখ ৩ হাজার), পুলিশ (১ লাখ ৮৭ হাজার), আনসার (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন), বিজিবি (৩৭ হাজার ৪৫৩), নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব, কোস্টগার্ড ও বিএনসিসি মিলিয়ে মোট ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবার নির্বাচনে সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালন করছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশে এসেছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জনসহ কমনওয়েলথ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং সন্তোষজনক। তবে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এ পর্যন্ত ৩০০টি মামলা দায়ের এবং ৫০০টিরও বেশি তদন্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। দুষ্টচক্র সহিংসতা ঘটাতে চাইলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। কুমিল্লা, যশোর ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান তারই প্রমাণ।
এদিকে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটলেও সকালে জনগণের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে নির্বাচন। রাজধানীসহ দেশেব্যাপী ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোর থেকেই জড়ো হয়েছে মানুষ। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চায় তারা।

ভোট দিতে কেন্দ্র দীর্ঘ লাইন
নিজস্ব প্রতিবেদক

রক্তঝরা জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই প্রথমবারের মতো দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সূচিত হচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের বেদনার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত সাংবিধানিক গণভোট’। স্বৈরশাসনের অবসানের পর আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে ব্যালটের রায় দেওয় শুরু করেছে জাতি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচন। তবে ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন ভোটাররা। কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন।
এদিন ভোর থেকেই রাজধানীর সিদ্ধেশ্বর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি।

ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বলেন, ২০০৮ সালে ভোট দিয়েছিলাম, এরপর আজ ভোট দিতে আসছি। খুব ভালো লাগছে।
অপর একজন বলেন, দীর্ঘ দেড়যুগ পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
প্রসঙ্গত, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্ম। মোট ভোটারের প্রায় ৪৫ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী। পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও ডাকযোগে ভোট প্রদান করেছেন, যা নির্বাচনকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৩ জন।
সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। সারাদেশে স্থাপিত ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন, যা মোট কেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি বছর তিন দফায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
এ বিপুল সংখ্যক ভোটার ও কেন্দ্র পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। এছাড়া সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা।
ইসি জানিয়েছে, আগামীকালের সংসদ ভোটে সেনাবাহিনী (১ লাখ ৩ হাজার), পুলিশ (১ লাখ ৮৭ হাজার), আনসার (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন), বিজিবি (৩৭ হাজার ৪৫৩), নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব, কোস্টগার্ড ও বিএনসিসি মিলিয়ে মোট ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবার নির্বাচনে সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালন করছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশে এসেছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জনসহ কমনওয়েলথ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং সন্তোষজনক। তবে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এ পর্যন্ত ৩০০টি মামলা দায়ের এবং ৫০০টিরও বেশি তদন্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। দুষ্টচক্র সহিংসতা ঘটাতে চাইলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। কুমিল্লা, যশোর ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান তারই প্রমাণ।
এদিকে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটলেও সকালে জনগণের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে নির্বাচন। রাজধানীসহ দেশেব্যাপী ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোর থেকেই জড়ো হয়েছে মানুষ। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চায় তারা।




