হরমুজ প্রণালি পারাপারের অপেক্ষায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’

হরমুজ প্রণালি পারাপারের অপেক্ষায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’
সিজেডএন ডেস্ক

পারস্য উপসাগরে প্রায় সাড়ে তিন মাস আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বর্তমানে প্রণালির স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির নৌবাহিনীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে জাহাজটি। পারাপারের অনুমতি পেলেই জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে রওনা হবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশে শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বাংলার জয়যাত্রা গতকাল (বৃহস্পতিবার) হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এসে অপেক্ষায় আছে। চ্যানেল পার হওয়ার অনুমতি পেলে অতিক্রম করবে।’
তিনি আরও বলেন, জাহাজ থাকা বাংলাদেশি নাবিকদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা সবাই ভালো আছেন।’
এদিকে, অনুমতি পাওয়া, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ হওয়া এবং প্রণালি পারাপারে অপেক্ষায় থাকা বিপুলসংখ্যক জাহাজের সারি ইত্যাদি কারণে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র হরমুজ পাড়ি দিতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে জানিয়েছেন শিপিং খাতের বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। এটি বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরের গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি। সেদিন কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে আসে সেটি। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ড্রোন ও মিসাইলের আনাগোনার মধ্যে ‘জয়যাত্রা’র নাবিকরা উদ্বেগ নিয়ে দিন পার করতে থাকেন। এর কয়েকদিন পর জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পুনরায় কাতারে ফেরার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেটি বাতিল হয়। এরপর ঠিক হয় ‘বাংলার জয়যাত্রা’র মুম্বাই যাবে।
কিন্তু সেখানে যেতে হলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা আর সম্ভব হয়নি। জাহাজটিতে বর্তমানে ৩৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সার রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা রয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রার’।
এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে অবস্থান নিয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। এই পথ পাড়ি দিতে জাহাজটির ৬-৭ ঘণ্টার মতো লাগতে পারে জানিয়েছেন বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাহাজটি আমরা ৩১ বাংলাদেশি নাবিক আছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সবাই সুস্থ আছি। এখন শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে বাংলার জয়যাত্রা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা সর্বশেষ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এখনও প্রণালি পুরোপুরি খোলেনি। আইআরজিসির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে না।
এদিকে, বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পারাপারের অনুমতি পেতে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, চ্যানেলে তিন লেয়ারের মাইন সেট করা আছে। সেখানকার ইরানি কর্তৃপক্ষই কেবল জানে কোথায় কোথায় কীভাবে মাইন সেট করা হয়েছে। মাইন সুইপিং এক্সপার্টরা আগে কাজ করে চ্যানেল নিরাপদ করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির সরু একটি অংশ হয়ত ওপেন করা হয়েছে। অপ্রশস্ত সেই অংশ দিয়ে ছোট আকারের জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে বড় আকারের জাহাজগুলো ওই অপ্রশস্ত অংশ দিয়ে পার হতে পারবে না।’
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে প্রায় ৫৫০টি জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে পারস্য উপসাগরে অপেক্ষায় থাকা জাহাজগুলো সেখানেই ক্লিনিং করতে হবে। সেজন্যও সময় লাগবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল হতে প্রায় একমাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সেই সময়ে আবার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর মধ্যে অবস্থান কী হয়, সেটাও দেখার বিষয়।’

পারস্য উপসাগরে প্রায় সাড়ে তিন মাস আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বর্তমানে প্রণালির স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির নৌবাহিনীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে জাহাজটি। পারাপারের অনুমতি পেলেই জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে রওনা হবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশে শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বাংলার জয়যাত্রা গতকাল (বৃহস্পতিবার) হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এসে অপেক্ষায় আছে। চ্যানেল পার হওয়ার অনুমতি পেলে অতিক্রম করবে।’
তিনি আরও বলেন, জাহাজ থাকা বাংলাদেশি নাবিকদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা সবাই ভালো আছেন।’
এদিকে, অনুমতি পাওয়া, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ হওয়া এবং প্রণালি পারাপারে অপেক্ষায় থাকা বিপুলসংখ্যক জাহাজের সারি ইত্যাদি কারণে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র হরমুজ পাড়ি দিতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে জানিয়েছেন শিপিং খাতের বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। এটি বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরের গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি। সেদিন কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে আসে সেটি। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ড্রোন ও মিসাইলের আনাগোনার মধ্যে ‘জয়যাত্রা’র নাবিকরা উদ্বেগ নিয়ে দিন পার করতে থাকেন। এর কয়েকদিন পর জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পুনরায় কাতারে ফেরার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেটি বাতিল হয়। এরপর ঠিক হয় ‘বাংলার জয়যাত্রা’র মুম্বাই যাবে।
কিন্তু সেখানে যেতে হলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা আর সম্ভব হয়নি। জাহাজটিতে বর্তমানে ৩৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সার রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা রয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রার’।
এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে অবস্থান নিয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। এই পথ পাড়ি দিতে জাহাজটির ৬-৭ ঘণ্টার মতো লাগতে পারে জানিয়েছেন বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাহাজটি আমরা ৩১ বাংলাদেশি নাবিক আছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সবাই সুস্থ আছি। এখন শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে বাংলার জয়যাত্রা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা সর্বশেষ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এখনও প্রণালি পুরোপুরি খোলেনি। আইআরজিসির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে না।
এদিকে, বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পারাপারের অনুমতি পেতে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, চ্যানেলে তিন লেয়ারের মাইন সেট করা আছে। সেখানকার ইরানি কর্তৃপক্ষই কেবল জানে কোথায় কোথায় কীভাবে মাইন সেট করা হয়েছে। মাইন সুইপিং এক্সপার্টরা আগে কাজ করে চ্যানেল নিরাপদ করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির সরু একটি অংশ হয়ত ওপেন করা হয়েছে। অপ্রশস্ত সেই অংশ দিয়ে ছোট আকারের জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে বড় আকারের জাহাজগুলো ওই অপ্রশস্ত অংশ দিয়ে পার হতে পারবে না।’
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে প্রায় ৫৫০টি জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে পারস্য উপসাগরে অপেক্ষায় থাকা জাহাজগুলো সেখানেই ক্লিনিং করতে হবে। সেজন্যও সময় লাগবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল হতে প্রায় একমাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সেই সময়ে আবার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর মধ্যে অবস্থান কী হয়, সেটাও দেখার বিষয়।’

হরমুজ প্রণালি পারাপারের অপেক্ষায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’
সিজেডএন ডেস্ক

পারস্য উপসাগরে প্রায় সাড়ে তিন মাস আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বর্তমানে প্রণালির স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির নৌবাহিনীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে জাহাজটি। পারাপারের অনুমতি পেলেই জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে রওনা হবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশে শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বাংলার জয়যাত্রা গতকাল (বৃহস্পতিবার) হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এসে অপেক্ষায় আছে। চ্যানেল পার হওয়ার অনুমতি পেলে অতিক্রম করবে।’
তিনি আরও বলেন, জাহাজ থাকা বাংলাদেশি নাবিকদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা সবাই ভালো আছেন।’
এদিকে, অনুমতি পাওয়া, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ হওয়া এবং প্রণালি পারাপারে অপেক্ষায় থাকা বিপুলসংখ্যক জাহাজের সারি ইত্যাদি কারণে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র হরমুজ পাড়ি দিতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে জানিয়েছেন শিপিং খাতের বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। এটি বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরের গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি। সেদিন কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে আসে সেটি। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ড্রোন ও মিসাইলের আনাগোনার মধ্যে ‘জয়যাত্রা’র নাবিকরা উদ্বেগ নিয়ে দিন পার করতে থাকেন। এর কয়েকদিন পর জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পুনরায় কাতারে ফেরার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেটি বাতিল হয়। এরপর ঠিক হয় ‘বাংলার জয়যাত্রা’র মুম্বাই যাবে।
কিন্তু সেখানে যেতে হলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা আর সম্ভব হয়নি। জাহাজটিতে বর্তমানে ৩৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সার রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা রয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রার’।
এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে অবস্থান নিয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। এই পথ পাড়ি দিতে জাহাজটির ৬-৭ ঘণ্টার মতো লাগতে পারে জানিয়েছেন বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাহাজটি আমরা ৩১ বাংলাদেশি নাবিক আছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সবাই সুস্থ আছি। এখন শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে বাংলার জয়যাত্রা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা সর্বশেষ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এখনও প্রণালি পুরোপুরি খোলেনি। আইআরজিসির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে না।
এদিকে, বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পারাপারের অনুমতি পেতে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, চ্যানেলে তিন লেয়ারের মাইন সেট করা আছে। সেখানকার ইরানি কর্তৃপক্ষই কেবল জানে কোথায় কোথায় কীভাবে মাইন সেট করা হয়েছে। মাইন সুইপিং এক্সপার্টরা আগে কাজ করে চ্যানেল নিরাপদ করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির সরু একটি অংশ হয়ত ওপেন করা হয়েছে। অপ্রশস্ত সেই অংশ দিয়ে ছোট আকারের জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে বড় আকারের জাহাজগুলো ওই অপ্রশস্ত অংশ দিয়ে পার হতে পারবে না।’
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে প্রায় ৫৫০টি জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে পারস্য উপসাগরে অপেক্ষায় থাকা জাহাজগুলো সেখানেই ক্লিনিং করতে হবে। সেজন্যও সময় লাগবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল হতে প্রায় একমাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সেই সময়ে আবার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর মধ্যে অবস্থান কী হয়, সেটাও দেখার বিষয়।’

হরমুজে বাংলার জয়যাত্রার নাবিকদের দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়


