শিরোনাম

৫ মাসে পুলিশের ওপর ২৬৮ হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মাসে পুলিশের ওপর ২৬৮ হামলা
ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) পুলিশের ওপর ২৬৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। জুন মাসের মাঝামাঝিতে আরও তিনটি বড় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত পুলিশের ওপর হামলার সংখ্যা ৮৭০ ছাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আসামি গ্রেপ্তার, অপরাধবিরোধী অভিযান পরিচালনা কিংবা আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। শুধু পেশাদার অপরাধী নয়, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জনতা, রাজনৈতিক কর্মী, আসামির স্বজন কিংবা সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীও হামলায় জড়িত হচ্ছে। একইসঙ্গে কিছু এলাকায় ‘মব জাস্টিস’এর প্রবণতা বেড়েছে। যেখানে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর বাহিনীটি বড় ধরনের সংকটে পড়ে। সে সময় ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের অনেক সদস্য আত্মগোপনে চলে যান। এরফলে দেশের পুলিশি ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে ভেঙে পড়ে এবং কয়েক দিন থানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর এবং বর্তমান সরকারের চার মাস পার হলেও বাহিনী এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এছাড়া, অভিযানে গেলে আগের তুলনায় অনেক বেশি বাধা ও প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেক সময় জনতা পুলিশকে ঘিরে ফেলে, ভিডিও ধারণ করে কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬০০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালেও ৬০১টি ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ধরন আরোও উদ্বেগজনক। প্রকাশ্যে হামলা, আসামি ছিনতাই, পুলিশ সদস্যদের আহত করা এবং সরকারি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা বাড়ছে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (সাবেক আইজিপি) আবদুল কাইয়ুম বলেন, পুলিশের ভেতরে যে ভয় বা ট্রমা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে নেতৃত্বের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্ব কাঠামো থেকে পুলিশ সদস্যদের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে আইনসম্মতভাবে দায়িত্ব পালন করলে বাহিনী তাঁদের পাশে থাকবে। তবে পুলিশকেও আগের মতো চললে হবে না; স্বচ্ছতা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইনের ঊর্ধ্বে ভাবার মানসিকতা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের মনোবল পুনর্গঠন, পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধার এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কঠোরভাবে দমন না করা গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

/এসবি/