গ্যাসের অপেক্ষায় থমকে গেছে তানজিয়ার রান্নাঘর

গ্যাসের অপেক্ষায় থমকে গেছে তানজিয়ার রান্নাঘর
নিজস্ব প্রতিবেদক

সকাল সাড়ে ৮টা। রান্নাঘরে চুলার সামনে বসে খালি হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছেন তানজিয়া বেগম। পাশে পড়ে আছে ধুয়ে রাখা চাল, ডাল ও কিছু সবজি। সব প্রস্তুত থাকলেও রান্না শুরু করতে পারছেন না তিনি। কয়েকবার চুলার নব ঘুরিয়েছেন, কিন্তু আগুন জ্বলেনি। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে চুলায় আগুন ধরলেও তা কয়েক সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না।
ঢাকার মিরপুর মাজার রোডের একটি ভাড়া বাসায় বেসরকারি চাকরিজীবী স্বামী, দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে থাকেন তানজিয়া। পরিবারের প্রতিদিনের রান্না নির্ভর করে পাইপলাইনের গ্যাসের ওপর। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সকাল ও সন্ধ্যার সময় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের সঙ্গে আলাপে তানজিয়া বেগম বলেন, ‘সকালে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর আগে নাশতা তৈরি করতে পারি না। কখন গ্যাস আসবে সেই অপেক্ষায় থাকতে হয়। অনেক দিন গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাশুড়ি নিয়মিত ওষুধ খান। সময়মতো খাবার না পেলে তাঁর শারীরিক সমস্যা বেড়ে যায়। আবার সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার আগে খাবার প্রস্তুত করা না গেলে তাদেরও বাইরে থেকে খাবার কিনে দিতে হচ্ছে।’
শুধু তানজিয়ার পরিবার নয়, একই এলাকার প্রায় সব বাসিন্দাই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। কোথাও ভোরে কিছু সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও দিনের বেশিরভাগ সময়ই গ্যাস থাকে না।
গত ২২ জুলাই এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর থেকেই দেশের গ্যাস পরিস্থিতিতে টানাপোড়েন শুরু হয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) এলএনজি কম সরবরাহ হচ্ছে। মোট সরবরাহের হিসাবে এ ঘাটতি প্রায় ১৭ শতাংশ।
গ্যাসের এ ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার বাসাবাড়িতে। বিশেষ করে দিনের বেলায় অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যায় যে চুলা জ্বালানো কঠিন হয়ে পড়ে। চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের ভোগান্তিতে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই।
তানজিয়ার পরিবারটির রান্নাঘরে এখন জায়গা করে নিয়েছে একটি ছোট বৈদ্যুতিক রাইস কুকার ও একটি ইলেকট্রিক চুলা। তবে বিদ্যুতের ওপরও পুরোপুরি নির্ভর করা যাচ্ছে না। একইসঙ্গে এসব যন্ত্র ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিলও বাড়ছে।
তানজিয়া বলেন, ‘গ্যাসের বিল দিচ্ছি, আবার গ্যাস না থাকায় বিদ্যুৎ দিয়ে রান্না করছি। এতে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’
গ্যাস সংকট শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়ছে পারিবারিক জীবনেও। কখন রান্না হবে, কখন খাবার খাওয়া হবে, সবকিছু নির্ভর করছে গ্যাসের ওপর। অনেক পরিবারের কর্মজীবী সদস্যদের অফিসে যাওয়ার সময়ের সঙ্গে রান্নার সময় মিলছে না। ফলে কেউ না খেয়ে বের হচ্ছেন, আবার কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
তানজিয়ার পরিবারে আগে প্রতিদিন সকালে রান্না শেষ হয়ে যেত। এখন দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। গ্যাস না এলে দুপুরের রান্নাও বন্ধ থাকে। রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন একসঙ্গে পরদিনের খাবারও রান্না করে রাখতে হয়।
এতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না, বাড়ছে মানসিক চাপও। রান্নাঘরে গিয়ে চুলা জ্বলবে কি না এ অনিশ্চয়তা এখন পরিবারের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
তানজিয়া বলেন, ‘সংসারে অনেক সমস্যাই মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু খাবার রান্না করতে না পারার কষ্টটা আলাদা। বাজার করে খাবার ঘরে এনে রাখছি, অথচ গ্যাসের অভাবে সেগুলো রান্না করতে পারছি না। এটা খুব হতাশার।’
তানজিয়ার পরিবারের মতো হাজারো পরিবারের কাছে গ্যাস এখন শুধু একটি জ্বালানি নয় এটি প্রতিদিনের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ। চুলা আছে, হাঁড়ি আছে, বাজারের খাবারও আছে, কিন্তু গ্যাসের অনিশ্চয়তায় রান্নাঘর যেন অচল হয়ে পড়েছে।
দিন শেষে তানজিয়ার একটাই প্রশ্ন-গ্যাসের বিল নিয়মিত দিতে হয়, তাহলে চুলায় আগুন নিয়মিত জ্বলবে না কেন। তিনি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেন আর প্রতিদিনই অপেক্ষা করেন কখন গ্যাস আসবে, কখন আবার তার পরিবারের জন্য চুলায় আগুন জ্বলবে।

সকাল সাড়ে ৮টা। রান্নাঘরে চুলার সামনে বসে খালি হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছেন তানজিয়া বেগম। পাশে পড়ে আছে ধুয়ে রাখা চাল, ডাল ও কিছু সবজি। সব প্রস্তুত থাকলেও রান্না শুরু করতে পারছেন না তিনি। কয়েকবার চুলার নব ঘুরিয়েছেন, কিন্তু আগুন জ্বলেনি। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে চুলায় আগুন ধরলেও তা কয়েক সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না।
ঢাকার মিরপুর মাজার রোডের একটি ভাড়া বাসায় বেসরকারি চাকরিজীবী স্বামী, দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে থাকেন তানজিয়া। পরিবারের প্রতিদিনের রান্না নির্ভর করে পাইপলাইনের গ্যাসের ওপর। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সকাল ও সন্ধ্যার সময় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের সঙ্গে আলাপে তানজিয়া বেগম বলেন, ‘সকালে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর আগে নাশতা তৈরি করতে পারি না। কখন গ্যাস আসবে সেই অপেক্ষায় থাকতে হয়। অনেক দিন গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাশুড়ি নিয়মিত ওষুধ খান। সময়মতো খাবার না পেলে তাঁর শারীরিক সমস্যা বেড়ে যায়। আবার সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার আগে খাবার প্রস্তুত করা না গেলে তাদেরও বাইরে থেকে খাবার কিনে দিতে হচ্ছে।’
শুধু তানজিয়ার পরিবার নয়, একই এলাকার প্রায় সব বাসিন্দাই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। কোথাও ভোরে কিছু সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও দিনের বেশিরভাগ সময়ই গ্যাস থাকে না।
গত ২২ জুলাই এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর থেকেই দেশের গ্যাস পরিস্থিতিতে টানাপোড়েন শুরু হয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) এলএনজি কম সরবরাহ হচ্ছে। মোট সরবরাহের হিসাবে এ ঘাটতি প্রায় ১৭ শতাংশ।
গ্যাসের এ ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার বাসাবাড়িতে। বিশেষ করে দিনের বেলায় অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যায় যে চুলা জ্বালানো কঠিন হয়ে পড়ে। চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের ভোগান্তিতে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই।
তানজিয়ার পরিবারটির রান্নাঘরে এখন জায়গা করে নিয়েছে একটি ছোট বৈদ্যুতিক রাইস কুকার ও একটি ইলেকট্রিক চুলা। তবে বিদ্যুতের ওপরও পুরোপুরি নির্ভর করা যাচ্ছে না। একইসঙ্গে এসব যন্ত্র ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিলও বাড়ছে।
তানজিয়া বলেন, ‘গ্যাসের বিল দিচ্ছি, আবার গ্যাস না থাকায় বিদ্যুৎ দিয়ে রান্না করছি। এতে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’
গ্যাস সংকট শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়ছে পারিবারিক জীবনেও। কখন রান্না হবে, কখন খাবার খাওয়া হবে, সবকিছু নির্ভর করছে গ্যাসের ওপর। অনেক পরিবারের কর্মজীবী সদস্যদের অফিসে যাওয়ার সময়ের সঙ্গে রান্নার সময় মিলছে না। ফলে কেউ না খেয়ে বের হচ্ছেন, আবার কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
তানজিয়ার পরিবারে আগে প্রতিদিন সকালে রান্না শেষ হয়ে যেত। এখন দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। গ্যাস না এলে দুপুরের রান্নাও বন্ধ থাকে। রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন একসঙ্গে পরদিনের খাবারও রান্না করে রাখতে হয়।
এতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না, বাড়ছে মানসিক চাপও। রান্নাঘরে গিয়ে চুলা জ্বলবে কি না এ অনিশ্চয়তা এখন পরিবারের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
তানজিয়া বলেন, ‘সংসারে অনেক সমস্যাই মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু খাবার রান্না করতে না পারার কষ্টটা আলাদা। বাজার করে খাবার ঘরে এনে রাখছি, অথচ গ্যাসের অভাবে সেগুলো রান্না করতে পারছি না। এটা খুব হতাশার।’
তানজিয়ার পরিবারের মতো হাজারো পরিবারের কাছে গ্যাস এখন শুধু একটি জ্বালানি নয় এটি প্রতিদিনের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ। চুলা আছে, হাঁড়ি আছে, বাজারের খাবারও আছে, কিন্তু গ্যাসের অনিশ্চয়তায় রান্নাঘর যেন অচল হয়ে পড়েছে।
দিন শেষে তানজিয়ার একটাই প্রশ্ন-গ্যাসের বিল নিয়মিত দিতে হয়, তাহলে চুলায় আগুন নিয়মিত জ্বলবে না কেন। তিনি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেন আর প্রতিদিনই অপেক্ষা করেন কখন গ্যাস আসবে, কখন আবার তার পরিবারের জন্য চুলায় আগুন জ্বলবে।

গ্যাসের অপেক্ষায় থমকে গেছে তানজিয়ার রান্নাঘর
নিজস্ব প্রতিবেদক

সকাল সাড়ে ৮টা। রান্নাঘরে চুলার সামনে বসে খালি হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছেন তানজিয়া বেগম। পাশে পড়ে আছে ধুয়ে রাখা চাল, ডাল ও কিছু সবজি। সব প্রস্তুত থাকলেও রান্না শুরু করতে পারছেন না তিনি। কয়েকবার চুলার নব ঘুরিয়েছেন, কিন্তু আগুন জ্বলেনি। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে চুলায় আগুন ধরলেও তা কয়েক সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না।
ঢাকার মিরপুর মাজার রোডের একটি ভাড়া বাসায় বেসরকারি চাকরিজীবী স্বামী, দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে থাকেন তানজিয়া। পরিবারের প্রতিদিনের রান্না নির্ভর করে পাইপলাইনের গ্যাসের ওপর। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সকাল ও সন্ধ্যার সময় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের সঙ্গে আলাপে তানজিয়া বেগম বলেন, ‘সকালে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর আগে নাশতা তৈরি করতে পারি না। কখন গ্যাস আসবে সেই অপেক্ষায় থাকতে হয়। অনেক দিন গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাশুড়ি নিয়মিত ওষুধ খান। সময়মতো খাবার না পেলে তাঁর শারীরিক সমস্যা বেড়ে যায়। আবার সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার আগে খাবার প্রস্তুত করা না গেলে তাদেরও বাইরে থেকে খাবার কিনে দিতে হচ্ছে।’
শুধু তানজিয়ার পরিবার নয়, একই এলাকার প্রায় সব বাসিন্দাই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। কোথাও ভোরে কিছু সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও দিনের বেশিরভাগ সময়ই গ্যাস থাকে না।
গত ২২ জুলাই এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর থেকেই দেশের গ্যাস পরিস্থিতিতে টানাপোড়েন শুরু হয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) এলএনজি কম সরবরাহ হচ্ছে। মোট সরবরাহের হিসাবে এ ঘাটতি প্রায় ১৭ শতাংশ।
গ্যাসের এ ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার বাসাবাড়িতে। বিশেষ করে দিনের বেলায় অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যায় যে চুলা জ্বালানো কঠিন হয়ে পড়ে। চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের ভোগান্তিতে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই।
তানজিয়ার পরিবারটির রান্নাঘরে এখন জায়গা করে নিয়েছে একটি ছোট বৈদ্যুতিক রাইস কুকার ও একটি ইলেকট্রিক চুলা। তবে বিদ্যুতের ওপরও পুরোপুরি নির্ভর করা যাচ্ছে না। একইসঙ্গে এসব যন্ত্র ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিলও বাড়ছে।
তানজিয়া বলেন, ‘গ্যাসের বিল দিচ্ছি, আবার গ্যাস না থাকায় বিদ্যুৎ দিয়ে রান্না করছি। এতে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’
গ্যাস সংকট শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়ছে পারিবারিক জীবনেও। কখন রান্না হবে, কখন খাবার খাওয়া হবে, সবকিছু নির্ভর করছে গ্যাসের ওপর। অনেক পরিবারের কর্মজীবী সদস্যদের অফিসে যাওয়ার সময়ের সঙ্গে রান্নার সময় মিলছে না। ফলে কেউ না খেয়ে বের হচ্ছেন, আবার কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
তানজিয়ার পরিবারে আগে প্রতিদিন সকালে রান্না শেষ হয়ে যেত। এখন দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। গ্যাস না এলে দুপুরের রান্নাও বন্ধ থাকে। রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন একসঙ্গে পরদিনের খাবারও রান্না করে রাখতে হয়।
এতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না, বাড়ছে মানসিক চাপও। রান্নাঘরে গিয়ে চুলা জ্বলবে কি না এ অনিশ্চয়তা এখন পরিবারের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
তানজিয়া বলেন, ‘সংসারে অনেক সমস্যাই মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু খাবার রান্না করতে না পারার কষ্টটা আলাদা। বাজার করে খাবার ঘরে এনে রাখছি, অথচ গ্যাসের অভাবে সেগুলো রান্না করতে পারছি না। এটা খুব হতাশার।’
তানজিয়ার পরিবারের মতো হাজারো পরিবারের কাছে গ্যাস এখন শুধু একটি জ্বালানি নয় এটি প্রতিদিনের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ। চুলা আছে, হাঁড়ি আছে, বাজারের খাবারও আছে, কিন্তু গ্যাসের অনিশ্চয়তায় রান্নাঘর যেন অচল হয়ে পড়েছে।
দিন শেষে তানজিয়ার একটাই প্রশ্ন-গ্যাসের বিল নিয়মিত দিতে হয়, তাহলে চুলায় আগুন নিয়মিত জ্বলবে না কেন। তিনি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেন আর প্রতিদিনই অপেক্ষা করেন কখন গ্যাস আসবে, কখন আবার তার পরিবারের জন্য চুলায় আগুন জ্বলবে।

গ্যাস সংকটে বন্ধ ২৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র, অসহনীয় লোডশেডিং
গ্যাস নেই, লাকড়ির চুলায় ফিরলো ঢাবির হল ক্যান্টিন
গ্যাসের সংকটে কমে গেছে আয়,
অটোরিকশা চালকেরা বিপাকে







