শিরোনাম

পে-স্কেল নিয়ে অপেক্ষার পালা বাড়লো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
পে-স্কেল নিয়ে অপেক্ষার পালা বাড়লো
পে-স্কেল। ছবি: সিজেডএন গ্রাফিক্স

বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেক্ষা আরও বাড়লো। বুধবার (১৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নসংক্রান্ত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসবে সচিব কমিটি।

জানা গেছে, বৈঠকে প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেড নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে গ্রেডের সংখ্যা বা কাঠামোয় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও মতামত উঠে আসে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি এবং আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কার্যকরের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে মঙ্গলবারের বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা, ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন পদ্ধতি, সম্ভাব্য প্রশাসনিক জটিলতা এবং সফটওয়্যার কাঠামোর প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এমন একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা চলছে যাতে একদিকে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পান, অন্যদিকে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।

বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড রয়েছে। দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পে স্কেল অনুসারে বেতন-ভাতা পান। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।

নতুন পে-স্কেলে পূর্বের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। সেখানে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের জন্য প্রস্তাবিত মূল বেতন যথাক্রমে ১ লাখ ৩২ হাজার, ১ লাখ ১৩ হাজার, ১ লাখ এবং ৮৬ হাজার টাকা। ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের জন্য মূল বেতন যথাক্রমে ৭১ হাজার, ৫৮ হাজার, ৪৭ হাজার ২০০, ৪৫ হাজার ১০০ এবং ৩২ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১১তম থেকে ১৫তম গ্রেডের ক্ষেত্রে মূল বেতন নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে যথাক্রমে ২৫ হাজার, ২৪ হাজার ৩০০, ২৪ হাজার, ২৩ হাজার ৫০০ এবং ২২ হাজার ৮০০ টাকা।

এছাড়া ১৬তম গ্রেডের জন্য ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা।

এদিকে নতুন পে-স্কেল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ১২ জুলাই থেকে ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সংস্থাটির মতে, এই বেতন বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ সৃষ্টি হবে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

/জেএইচ/