ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফুলহাতা পোশাক ও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফুলহাতা পোশাক ও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
সিজেডএন ডেস্ক

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, মশার কামড় এড়াতে সবাইকে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে এবং ফুলহাতা শার্টের সঙ্গে লম্বা পায়জামা বা লুঙ্গি পরার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালীবিধির ৭১ বিধিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি করছে। মশার বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্প্রে করা হচ্ছে এবং লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং লম্বা পায়জামা বা লুঙ্গি পরতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণে ব্যবহৃত রিএজেন্টের বর্তমানে সর্বোচ্চ মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় গুদামেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কিট সংরক্ষিত রয়েছে।
দেশব্যাপী চিকিৎসা প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। তবে সরকার এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না, কারণ এখনো নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএসওয়ান১ পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০টি পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ৫ লাখ কিট যুক্ত হবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ স্যালাইন ব্যাগ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে তাদের ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ খালি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয়েও তারা সম্মতি জানিয়েছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা মোকাবিলায় মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও পাঁচটি জেলায় এ সুবিধা চালু করা হবে।
মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মশা খুবই ছোট একটি পতঙ্গ। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। অনেক সময় বাড়ির ভেতরে মশকনিধন কর্মীদের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ একযোগে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, মশার কামড় এড়াতে সবাইকে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে এবং ফুলহাতা শার্টের সঙ্গে লম্বা পায়জামা বা লুঙ্গি পরার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালীবিধির ৭১ বিধিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি করছে। মশার বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্প্রে করা হচ্ছে এবং লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং লম্বা পায়জামা বা লুঙ্গি পরতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণে ব্যবহৃত রিএজেন্টের বর্তমানে সর্বোচ্চ মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় গুদামেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কিট সংরক্ষিত রয়েছে।
দেশব্যাপী চিকিৎসা প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। তবে সরকার এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না, কারণ এখনো নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএসওয়ান১ পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০টি পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ৫ লাখ কিট যুক্ত হবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ স্যালাইন ব্যাগ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে তাদের ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ খালি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয়েও তারা সম্মতি জানিয়েছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা মোকাবিলায় মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও পাঁচটি জেলায় এ সুবিধা চালু করা হবে।
মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মশা খুবই ছোট একটি পতঙ্গ। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। অনেক সময় বাড়ির ভেতরে মশকনিধন কর্মীদের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ একযোগে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফুলহাতা পোশাক ও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
সিজেডএন ডেস্ক

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, মশার কামড় এড়াতে সবাইকে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে এবং ফুলহাতা শার্টের সঙ্গে লম্বা পায়জামা বা লুঙ্গি পরার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালীবিধির ৭১ বিধিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি করছে। মশার বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্প্রে করা হচ্ছে এবং লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং লম্বা পায়জামা বা লুঙ্গি পরতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণে ব্যবহৃত রিএজেন্টের বর্তমানে সর্বোচ্চ মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় গুদামেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কিট সংরক্ষিত রয়েছে।
দেশব্যাপী চিকিৎসা প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। তবে সরকার এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না, কারণ এখনো নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএসওয়ান১ পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০টি পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ৫ লাখ কিট যুক্ত হবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ স্যালাইন ব্যাগ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে তাদের ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ খালি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয়েও তারা সম্মতি জানিয়েছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা মোকাবিলায় মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও পাঁচটি জেলায় এ সুবিধা চালু করা হবে।
মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মশা খুবই ছোট একটি পতঙ্গ। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। অনেক সময় বাড়ির ভেতরে মশকনিধন কর্মীদের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ একযোগে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।








