শিরোনাম

দেশের প্রথম ভিএইচটি প্ল্যান্ট উদ্বোধন, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
দেশের প্রথম ভিএইচটি প্ল্যান্ট উদ্বোধন, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা
ভিএইচটি প্ল্যান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন-উর রশীদ।

আমসহ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতে দেশের প্রথম ভ্যাপার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ভিএইচটি) উদ্বোধন করেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন-উর রশীদ। সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর গাবতলীতে অবস্থিত প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী আমিন-উর রশীদ বলেছে, দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে হাইজিনিক প্যাকিং ও ট্রিটমেন্ট সুবিধাসম্পন্ন একটি আধুনিক প্যাকিং ইউনিট উদ্বোধনের মাধ্যমে নতুনভাবে ফল রপ্তানির দ্বার উন্মোচন হলো। আন্তর্জাতিক মানের এই ব্যবস্থা চালুর ফলে আমসহ বিভিন্ন ফল ও সবজির রপ্তানি বাড়বে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং বৈদেশিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আধুনিক হাইজিনিক প্যাকিং ও ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যান্টে বিশ্বমানের প্যাকিং ও ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে আম, লিচু, কাঁঠাল, বরই, পেঁপে, টমেটো, আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানির উপযোগী করে প্রস্তুত করা যাবে।

প্ল্যান্টটি কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। উৎপাদন বাড়লেও দেশের বাজারে চাহিদার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। এ অবস্থায় রপ্তানি বাড়ানোই হতে পারে কৃষকের আয় বৃদ্ধির অন্যতম পথ। আর সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানের প্যাকিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন এই ট্রিটমেন্ট ও প্যাকিং ব্যবস্থার ফলে আম ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের সঙ্গে ক্ষতিকর পোকামাকড় বা জীবাণু বিদেশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। এতে আমদানিকারক দেশগুলোর আস্থা আরও বাড়বে এবং রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

কৃষিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের আমের প্রতি জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়ছে। একইভাবে কাঁঠালসহ অন্যান্য ফলেরও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে। নতুন প্যাকিং সুবিধা এসব বাজারে প্রবেশকে আরও সহজ করবে।

এসময় রপ্তানিকারকদের সুবিধার জন্য প্যাকিং ইউনিটেই কোয়ারেন্টাইন সেবা চালুর ঘোষণা দেন তিনি। এতে একই স্থানে পণ্য ধোয়া, প্যাকিং এবং কোয়ারেন্টাইন সনদ নেওয়ার সুযোগ মিলবে। এতে সময় ও ব্যয় কমবে এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

এ ছাড়া বিমানবন্দরে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগের বিষয়ে জানান তিনি। পাশাপাশি কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা ও সমন্বয় বাড়াতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে দেশজুড়ে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যার লক্ষ্য উৎপাদিত পণ্যের অপচয় কমানো, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সারা বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে ভোক্তার কাছে কৃষিপণ্য পৌঁছে দেওয়া।

রপ্তানিকারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং ক্রেতার সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করা জরুরি। এতে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্যাকিং, ট্রিটমেন্ট, কোয়ারেন্টাইন ও সংরক্ষণব্যবস্থার সমন্বয়ে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি নতুন গতি পাবে এবং কৃষি দেশের অর্থনীতির আরও শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

/এফআর/