শিরোনাম

যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি
আন্দোলনাকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার।

এর আগে যমুনার নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। বিজিবি মোতায়েনের পরপরই ডিএমপির পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা এলো।

ডিএমপি কমিশনারের সরাসরি নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
ডিএমপি কমিশনারের সরাসরি নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

এর আগে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে ডিএমপি কমিশনারের সরাসরি নির্দেশে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। তবে এতেও আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরানো যায়নি।

পরে দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হলে এক পর্যায়ে যমুনার সামনে থেকে সরে যান আন্দোলনরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আজ (শুক্রবার) দুপুর ১টার পর আন্দোলনকারীরা যমুনা এলাকা ছেড়ে শাহবাগের দিকে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটকও করা হয়েছে।

দফায় দফায় সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপের পর যমুনা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন আন্দোলনরত সরকারি চাকরিজীবীরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
দফায় দফায় সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপের পর যমুনা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন আন্দোলনরত সরকারি চাকরিজীবীরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা করতে আসিনি। আমাদের ন্যায্য দাবি জানাতেই এখানে বসেছিলাম। সরকার আমাদের কথা শুনবে, এই বিশ্বাস থেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। কিন্তু কোনো আলোচনা ছাড়াই আমাদের ওপর টিয়ারশেল আর গ্রেনেড ছোড়া হলো।’

এর আগে সকালে সরকারি চাকরিজীবীরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন। পথে পুলিশের বাধা, ব্যারিকেড এবং জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

দাবি আদায়ের জন্য এর আগে তারা টানা তিন দিন প্রতিদিন দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন। বৃহস্পতিবার সেই কর্মবিরতি চার ঘণ্টায় বৃদ্ধি করা হয়। ধারাবাহিক এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ যমুনা ঘেরাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি আরও কঠোর করার প্রস্তুতি রাখছেন।

/জেএইচ/