শিরোনাম

আমি নিজেও গুমের শিকার, তাই চাইবো না আর কেউ গুম হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমি নিজেও গুমের শিকার, তাই চাইবো না আর কেউ গুম হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশনে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমি হোম মিনিস্টার। আমি নিজেই এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের (গুম) শিকার। আমি চাইবো না দেশে আর গুম হোক। তাই দেশে একটি শক্তিশালী গুম প্রতিরোধ আইন প্রতিষ্ঠা করা আমাদেরও প্রত্যাশা।’

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে দেশে কোনো এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স (গুম), বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে অনেক ঘটনা ঘটলেও আগের ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় থাকলে এসব ঘটনায় অনেকেই জেলে যেতেন। তবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে দু-একটা ব্যত্যয় হয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমরা তাদের ‘ফ্র্যাজাইল’ (ভঙ্গুর) বাহিনী হিসেবে পেয়েছি। গত ছয় মাসে তাদের নৈতিকতা, মনোবল ও মোটিভেশন বাড়ানোর কাজ করা হয়েছে।

নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি নিজেও এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের শিকার হয়েছি। আমি চাইবো না বাংলাদেশে একটা শক্তিশালী গুম প্রতিরোধ আইন হোক? এখানে কি আমাদের কারো কোনো অন্যরকম স্বার্থ থাকতে পারে? না। আমরা আজকে সরকারে আছি, আগামীতে তো নাও থাকতে পারি। কিন্তু এই আইনটা থাকবে। এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স-এর শিকার যে-ই হোক, সে বিচার পাবে।’

র‌্যাবের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করার জন্য আইন আনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনটি মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে এটি আসবে। তবে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজন আছে। বর্তমান সময়ে সাইবার ক্রাইম মোকাবিলায় ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট, সাইবার ইন্টেলিজেন্স ও অ্যানালাইসিস সক্ষমতা প্রয়োজন।’

মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়েও সরকার আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আইন প্রণয়নের চেষ্টা করেছে। জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠন, সাংবাদিক, আইনজীবী ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।’

/এফআর/