শিরোনাম

যে কারণে মার্কিন হামলার দ্রুত জবাব দিচ্ছে ইরান

সিটিজেন ডেস্ক
সিটিজেন ডেস্ক
যে কারণে মার্কিন হামলার দ্রুত জবাব দিচ্ছে ইরান
তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার ব্যানারের সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছেন ইরানিরা

একটি মার্কিন অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার জন্য তেহরানকে দায়ী করে বুধবার (১০ জুন) ভোরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান।

দুই দেশের নতুন সংঘাতে একটি বিষয় সামনে এসেছে। সেটা হলো– ইরান যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট-এর নির্বাহী সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসি বলেছেন যে, ইরান যেকোনো মার্কিন আক্রমণের বিরুদ্ধে ‘আনুপাতিক, কিন্তু অত্যন্ত কঠোর ও দ্রুত’ জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এটা না করলে একটি নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র কমবেশি দায়মুক্তি নিয়ে ইরানের ওপর হামলা চালাতে থাকবে।’

‘ইরানিরা এটা স্পষ্ট করে দিতে চাইছে যে, আক্রমণের আকার ও পরিধি যাই হোক না কেন, তাদের ওপর যেকোনো আক্রমণের জবাব দেওয়া হবে, যোগ করেন পারসি।

তিনি বলেন, ‘এখন তারা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে চাইছে নাকি শান্ত করতে চাইছে, তা দেখার বিষয়। মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে তারা তাদের প্রতিক্রিয়া কীভাবে সাজিয়েছে, তার ওপর বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করবে।’

এর আগে ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানায়, ‘যুদ্ধবাজ মার্কিন সরকার আজ বুধবার (১০ জুন) ভোরে মিথ্যা অজুহাতে জাস্ক, সিরিক ও কেশমের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে সিরিকে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।’

সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, ‘আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার আনুপাতিক জবাব হিসেবে এই অভিযানটি চালানো হয়েছে।’

ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেছেন, দেশটির ভূখণ্ডের কাছে থাকা বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলো ‘নিরন্তর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালালে জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানি বাহিনী ‘কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না’। তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’

সূত্র: আল জাজিরা

/জেএইচ/