শিরোনাম

রাজস্ব আদায়ে করের চাপ, কিছু ছাড়ও মিলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজস্ব আদায়ে করের চাপ, কিছু ছাড়ও মিলবে
গ্রাফিক্স: সিটিজেন জার্নাল

টানা কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতির মুখে রয়েছে সরকার। এ অবস্থায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরও বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হতে পারে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বেশি। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়ানোর কারণে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের জোগান দিতে রাজস্ব আদায়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

করমুক্ত আয়সীমা বাড়তে পারে

আগামী বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি আগামী দুই বছর করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা রাখা হবে– এমন একটি রূপরেখাও দেওয়া হতে পারে।

শুধু সাধারণ করদাতাই নয়, নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতা, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং গেজেটভুক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর আহত জুলাই যোদ্ধাদের করমুক্ত আয়সীমাও বাড়ানো হতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মা-বাবা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রেও করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বছরজুড়ে রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ

আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ চালু হতে পারে। বাজেটে এমন ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বছরের শুরুতে রিটার্ন জমা দিলে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দিলে ৫ হাজার টাকা বা প্রদেয় করের ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।

ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগতে পারে টিআইএন

আগামী অর্থবছর থেকে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। তবে শিক্ষার্থী, সরকারি ভাতাভোগী এবং পেনশনভোগীদের মতো কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য এ ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হতে পারে।

বর্তমানে ব্যাংক আমানতের মুনাফা উত্তোলনের ক্ষেত্রে টিআইএনধারীরা কিছু সুবিধা পান। দেশে বর্তমানে ১৭ কোটির বেশি ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

এ ছাড়া ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থাকতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, বাজেটের শুল্ক-করসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এনবিআরই তৈরি করে। বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ও শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়। অনেক সময় ছোট ছোট খাতেও উৎসে কর আরোপ করা হয়।

তিনি মনে করেন, কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে এনবিআরের কর্মকর্তাদের যে ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে, সেখান থেকে আরও স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

/এফসি/