শিরোনাম

ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞায় হজ ও কোরবানি বন্ধ গাজাবাসীর

সিটিজেন ডেস্ক
ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞায় হজ ও কোরবানি বন্ধ গাজাবাসীর

ইসরায়েলের কঠোর সামরিক নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মুখে পড়ে এবারও পবিত্র হজ পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গাজার হাজারো বাসিন্দা। এছাড়া টানা তৃতীয় বছরের মতো সেখানে কোরবানির পশু ছাড়াই উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে প্রতি বছর অন্তত ৩ হাজার ফিলিস্তিনি গাজা থেকে মক্কায় হজে যেতেন, সেখানে চলমান সংকটে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া এক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে গত ফেব্রুয়ারিতে মিশরের সাথে গাজার প্রধান প্রবেশদ্বার রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হলেও, তা সাধারণ হজযাত্রীদের জন্য কোনো কাজে আসছে না।

বর্তমানে এ সীমান্ত পারাপার দিয়ে সপ্তাহে মাত্র কয়েকশ মানুষকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যাদের অধিকাংশই গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি এবং তাদের সাথে থাকা অল্প কয়েকজন দেহরক্ষী। এ কঠোর সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অবরুদ্ধ গাজার এক বাসিন্দা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সীমান্ত পারাপার বন্ধ রেখে হজযাত্রীদের সাথে কেন এমনটা করা হচ্ছে তা তাদের বোধগম্য নয়, কারণ তারা কেবল তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে চান। ফোনের পর্দায় মক্কার তীর্থযাত্রীদের ইবাদতের ফুটেজ দেখতে দেখতে অশ্রুসজল চোখে আরেকজন বলেন, এ পবিত্র দিনগুলোতে তাদেরও মক্কার পবিত্র ভূমিতে থাকার কথা ছিল।

ধর্মীয় উৎসবের আবহে গাজার কৃষি মন্ত্রণালয় আরও এক নিদারুণ বার্তা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী ২৭ মে অনুষ্ঠেয় ঈদুল আজহায় গাজাবাসীরা কোনো ভেড়া বা গরু কোরবানি দিতে পারবেন না। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে গাজার প্রাণিসম্পদ খাতে পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। ক্রমাগত হামলায় সেখানকার পশুর খামার, গোয়ালঘর, পশুচিকিৎসা কেন্দ্র এবং পশুখাদ্যের গুদামগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে ইসলামের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবে পরিবার ও সমাজের দরিদ্র মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস ভাগ করে দেওয়ার ঐতিহ্য থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হতে হচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার লাখ লাখ মানুষকে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/