আচমকাই ‘কোড ১০০’ জারি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের শঙ্কা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
আচমকাই ‘কোড ১০০’ জারি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের শঙ্কা
কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সৌদি আরবে হুথি বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আবারও চড়েছে। এমন থমথমে পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ জাতীয় সতর্কতা জারি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক পরিভাষায় যাকে বলা হচ্ছে ‘কোড ১০০’। আমেরিকার সঙ্গে চরম সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার আগে তেহরান যে এক চুল জমিও ছাড়তে নারাজ, এ প্রস্তুতি তারই স্পষ্ট বার্তা।

ট্রাম্পের হুঙ্কার ও তেহরানের জবাব

সৌদি রাজধানী রিয়াদে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে নতুন করে আশঙ্কাজনক করে তুলেছে। যদিও সৌদির শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবুও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পুরোনো সংঘাত আবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান তাদের বর্তমান অবস্থান না বদলালে তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। এমনকি বাড়াবাড়ি চালিয়ে গেলে গোটা দেশটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

এর জবাবে তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা চালালে কোনো কিছু বিবেচনা না করেই তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। কথার লড়াইয়ের মাঝেই খুব দ্রুত বড়সড় কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইআরজিসির সদ্যরা
আইআরজিসির সদ্যরা

কোড ১০০ আসলে কী

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে হাতের বাইরে চলে যেতে পারে- এমন আশঙ্কায় আইআরজিসি, ইরানি সেনাবাহিনী আরতেশ, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবাহিনীকে একযোগে চরম প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সামরিক পরিভাষায় ‘কোড ১০০’ প্রোটোকল জারির অর্থ হলো, সম্ভাব্য সশস্ত্র সংঘাতের জন্য সেনাবাহিনীকে মুহূর্তের মধ্যে যুদ্ধের উপযুক্ত করে তোলা।

এ নির্দেশ জারির পর থেকেই দ্রুত সেনা মোতায়েন, যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ বা বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারগুলোকে শত্রুর নজর থেকে বাঁচাতে শুরু হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বন্দোবস্ত। এমনকি আইআরজিসির মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলোকে নিরাপদ বিকল্প অবস্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও পুরোদমে চলছে।

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

আকাশ প্রতিরক্ষা ও ‘মোজাইক ডিফেন্স’ কৌশল

শত্রুপক্ষের যেকোনো বিমান আক্রমণ রুখতে রাশিয়ার এস-৩০০ সিস্টেমের পাশাপাশি ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি খোরদাদ-১৫ এবং বাভার-৩৭৩ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোকে পুরোপুরি সক্রিয় রাখা হয়েছে। দেশের সীমান্ত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখন হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্র্যাকিং মোডে কাজ করছে।

শুধু তাই নয়, যুদ্ধের সময় কোনো কারণে কেন্দ্রীয় কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরও যাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অচল না হয়, তার জন্য চালু করা হয়েছে ‘মোজাইক ডিফেন্স’ কৌশল। এর ফলে সাইবার হামলা বা শত্রুর সুনির্দিষ্ট আঘাতে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হলেও স্থানীয় আইআরজিসি কমান্ডাররা নিজেদের মতো করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে এবং পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারবেন।

একই সঙ্গে নাতাঞ্জ, ফোরডো ও ইসফাহানের মতো স্পর্শকাতর পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে দুর্ভেদ্য নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ড্রোনের গতিবিধি শনাক্ত করা এবং জিপিএস সিগনাল বন্ধ করার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, সংঘাতের পারদ যেভাবে চড়ছে, তাতে ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই মার্কিন নাগরিকদের পশ্চিম এশিয়া সফর অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

/এমএকে/