শিরোনাম

পশ্চিম তীরে খ্রিস্টান গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অগ্নিসংযোগ

সিটিজেন ডেস্ক
সিটিজেন ডেস্ক
পশ্চিম তীরে খ্রিস্টান গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অগ্নিসংযোগ
অধিকৃত পশ্চিম তীরের তাইবেহ গ্রামের আশেপাশের কৃষি জমিতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অগ্নিসংযোগ। ছবি: দ্য নিউ আরব

অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান গ্রাম তাইবেহর কৃষিজমিতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় ওই এলাকায় একদল উগ্র বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করে ফসলি জমিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রায় ১,৩৪০ জন বাসিন্দার জনপদটি পশ্চিম তীরের শেষ কয়েকটি খ্রিস্টান গ্রামের একটি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক জমি দখল ও অনুপ্রবেশের কারণে স্থানীয়রা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, কৃষকদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা এবং ওই অঞ্চলে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের পথ সুগম করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘আল-বায়দার’-এর তত্ত্বাবধায়ক ফারেস মালিহাত এ ঘটনাকে ইসরায়েলিদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ধারাবাহিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী নাবলুসের ইবাল পর্বতের চূড়ায় নতুন ক্যারাভান পাঠিয়ে বসতি চৌকি সম্প্রসারণ করছে।

পশ্চিম তীর জুড়ে ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোতে ইসরায়েলিদের এ ধরনের সহিংসতা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও তাইবেহ গ্রামের ঘরবাড়ি এবং ঐতিহাসিক আল-খাদের গির্জার মতো ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। এমনকি চলতি জুনের শুরুতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় উৎসবের প্রস্তুতিতেও বাধা দেয় ইসরায়েলি সেনারা।

এ পরিস্থিতিতে তাইবেহর গির্জার নেতা ও স্থানীয় কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন, যেন নতুন ঘাঁটি স্থাপন বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১,১৬৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং সামরিক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

/এমএকে/