শিরোনাম

যুদ্ধকালীন গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সিটিজেন ডেস্ক
যুদ্ধকালীন গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরুদ্ধে ইরানের নারীদের প্রতিবাদ। ফাইল ছবি

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। রবিবার (২৪ মে) দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

বিচার বিভাগের অনলাইন ওয়েবসাইট মিজান জানিয়েছে, ‘দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ইউনিট সম্পর্কিত তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে পাঠানোর অভিযোগে মোজতবা কিয়ানকে আজ ভোরে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর দণ্ডাদেশটি কার্যকর করা হয়েছে।’

এতে বলা হয়েছে, প্রায় ৪০ দিনব্যাপী চলা এই যুদ্ধের সময় তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করেছিলেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৫ জনের অধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা ও ইসরায়েলে হামলা চালায় তেহরান।

শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করার লক্ষ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ শুরু করেছিল।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান গুপ্তচরবৃত্তি অথবা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বাড়িয়েছে। যদিও রবিবারের আগে ফাঁসিতে ঝোলানো সকলকেই যুদ্ধের আগে সংঘটিত অপরাধের জন্য দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

মিজানের মতে, কিয়ান ‘জায়নবাদী-মার্কিন শত্রুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শত্রুপক্ষের নেটওয়ার্কগুলোতে একাধিক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। যার মধ্যে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সাথে সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলোর স্থান ও তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।’

মিজান বলছে, কিয়ান স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোতে তথ্য পাঠিয়েছেন। যদিও ওই নেটওয়ার্কগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায়শই বিদেশে অবস্থিত ফার্সি ভাষার গণমাধ্যমগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য অভিযুক্ত করে থাকে।

মিজানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবস্থান সম্পর্কে দেওয়া কিয়ানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের একটি ‘লক্ষ্যবস্তু’তে হামলা চালানো হয়েছিল।

ওয়েবসাইটটি জানিয়েছে, কিয়ানের গ্রেপ্তারের ‘৫০ দিনেরও কম সময়ের’ মধ্যে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং তার সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা হয়।’

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

/জেএইচ/