শিরোনাম
ঝরে গেল ৯টি তাজা প্রাণ

মৃত্যুকূপ পশ্চিমবঙ্গের নিউ মার্কেটের হোটেল, নিরাপত্তা উপেক্ষা করেই চলে ব্যবসা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
মৃত্যুকূপ পশ্চিমবঙ্গের নিউ মার্কেটের হোটেল, নিরাপত্তা উপেক্ষা করেই চলে ব্যবসা
ছবি: সংগৃহীত

অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করা, জরুরি প্রস্থান পথ না রাখা আর বেআইনি নির্মাণের মাশুল গুনতে হলো ৯টি তাজা প্রাণকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশু ও নারীসহ ৯ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। একই তথ্য দিয়েছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস। আহত ব্যক্তিদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুরো ভবনটি মুহূর্তের মধ্যে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ায় অধিকাংশ মানুষেরই দম আটকে মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেল কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা ও আইন অমান্য করার মানসিকতাই এই নির্মম ট্র্যাজেডির মূল কারণ। তিন-চার বছর আগে পাশাপাশি দুটি আবাসিক ভবন জোড়া দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে 'এল' আকৃতির এই ভবনটি তৈরি করা হয়। পরে ভবনের ভেতর ছোট ছোট কক্ষ বানিয়ে চালু করা হয় হোটেল ব্যবসা। পুরো ভবনে ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য ছিল একটিমাত্র অত্যন্ত সংকীর্ণ পথ; রাখা হয়নি কোনো ইমার্জেন্সি এক্সিট বা জরুরি প্রস্থান পথ। এমনকি ভবনটিতে ছিল না কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও।

অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে থাকা আবাসিকরা জানান, আগুন লাগার পর বের হওয়ার পথ খুঁজে না পেয়ে প্রাণ বাঁচাতে অনেকে বাথরুমে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই ফায়ার সার্ভিস দপ্তর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বছরের পর বছর এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত ব্যবসা চলছিল, তা বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ঘটনা তদন্তে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ফায়ার সার্ভিস প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া এই হোটেলগুলো কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স পেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতা সন্তোষ পাঠক অভিযোগ করেছেন, হোটেলের রুম সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে ভবনের মূল পিলার কেটে জায়গা বের করা হয়েছিল, যার ফলে পুরো অবকাঠামোটিই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। সূত্র: এইসময়

/এবি/