শিরোনাম

ভারত যা চাইবে, তাই পাবে: ট্রাম্প

সিটিজেন ডেস্ক
ভারত যা চাইবে, তাই পাবে: ট্রাম্প
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক অভাবনীয় বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভারত পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারে এবং নয়াদিল্লি যা চাইবে, ওয়াশিংটন তা-ই দেবে।

রবিবার (২৪ মে) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। উক্ত অনুষ্ঠানে ফোনকলের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, সার্জিওকে যুক্তরাষ্ট্রের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। তবে তিনি উপস্থিত সবার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে মূল মনোযোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দিকে। ট্রাম্প বলেন, তিনি মোদির একজন বড় ভক্ত। মোদিকে অসাধারণ এক নেতা ও বন্ধু হিসেবেও স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক এখন সবচেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ। ভারতের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে তারা জানে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে। তিনি বলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর শতভাগ নির্ভর করতে পারে। অনুষ্ঠানে নিজ দেশের অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের বর্তমান উল্লম্ফনের প্রশংসা করার পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘সেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ হিসেবেও আখ্যা দেন ট্রাম্প। একই অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

ট্রাম্পের এ বার্তার পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যা উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত লাভজনক হবে। এর আগে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক ও বাণিজ্য ইস্যুতে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কিছু মতবিরোধ দেখা গেলেও এ সফর এবং ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/