‘দৃশ্যম ৩’ দেখে বাবাকে হত্যার ছক, ছোট ভুলেই পুলিশের জালে ছেলে

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
‘দৃশ্যম ৩’ দেখে বাবাকে হত্যার ছক, ছোট ভুলেই পুলিশের জালে ছেলে
নিহত বাবা রঘুবীর সাহনি (বাঁয়ে) ও ঘাতক ছেলে শিবশঙ্কর (ডানে)

বলিউডের আলোচিত সিনেমা দৃশ্যম ৩ দেখে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এক ভারতীয় যুবক। উদ্দেশ্য ছিল তদন্তকারীদের চোখে ধুলা দিয়ে সুদূর গুজরাট থেকে বিহারে এসে কাজ শেষ করে আবার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। স্ত্রীর সঙ্গে করা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি ফোনকলে ভেস্তে যায় তার সব পরিকল্পনা। বিহারের সামস্তিপুর জেলার দারওয়া গ্রামে ঘটা এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী যুবক শিবশঙ্করকে গুজরাটের সুরাট থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুলাই রাতে নিজ বাড়ির উঠানে ঘুমিয়ে ছিলেন ৫০ বছর বয়সী রঘুবীর সাহনি। এ সুযোগে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তার ছেলে শিবশঙ্কর ঘরের ভেতর থেকে একটি কুঠার এনে ঘুমন্ত বাবার ওপর নৃশংস হামলা চালান। ঘটনাস্থলেই রঘুবীরের মৃত্যু হলে রক্তমাখা কুঠারটি সেখানেই ফেলে রেখে নিঃশব্দে সটকে পড়েন তিনি। এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল মূলত পারিবারিক জমিজমা বিক্রি নিয়ে বিরোধ এবং পুত্রবধূ ও ছেলের ওপর রঘুবীরের কথিত নির্যাতনের ক্ষোভ। জীবিকার তাগিদে স্ত্রীকে নিয়ে সুরাটে থাকতেন শিবশঙ্কর, তবে ভেতরে জমা ক্ষোভ থেকেই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে সুরাটের একটি পেক্ষাগৃহে ‘দৃশ্যম ৩’ সিনেমাটি দেখেন শিবশঙ্কর। সেখান থেকেই মূলত অপরাধ ঢেকে রাখা এবং ডিজিটাল নজরদারি এড়ানোর কৌশল শেখার চেষ্টা করেন তিনি। নিজের উপস্থিতি গোপন রাখতে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে সুরাট থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন শিবশঙ্কর। বিহারের পাটনা ও হাজিপুর হয়ে ট্রেনে করে পৌঁছান পাটোরি স্টেশনে। সেখান থেকে অটোরিকশা ও প্রায় চার কিলোমিটার পথ হেঁটে গভীর রাতে নিজ গ্রামে ঢোকেন তিনি। পেছনের দরজা দিয়ে বাড়িতে ঢুকে বাবাকে হত্যা করার পর দ্রুত আবার পাটোরি স্টেশনের দিকে রওনা দেন।

পুরো যাত্রাপথে ফোন বন্ধ রেখে অপরাধের কোনো আধুনিক প্রামাণ্য চিহ্ন না রাখার চেষ্টা করলেও পাটোরি স্টেশনে নেমে কয়েক মুহূর্তের জন্য নিজের মোবাইলটি চালু করেছিলেন শিবশঙ্কর। কেবল স্ত্রীকে একটি কল করেই তড়িঘড়ি আবার ফোনটি বন্ধ করে দেন। তবে তদন্তকারীদের জন্য এই সামান্য ভুলটিই হয়ে ওঠে রহস্যের চাবিকাঠি। অন্যদিকে বাবার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে শিবশঙ্করের অনুপস্থিতি পুলিশ কর্তাদের মনে সন্দেহের বীজ বুনে দেয়। পাটোরির ডিএসপি বি কে মেঘাভি জানান, বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ছেলের না থাকাটা ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এটি তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।

পরবর্তী সময়ে ফরেনসিক দলের সংগৃহীত আলামত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, অপরাধটি পরিবারেরই কোনো পরিচিত ব্যক্তির কাজ। এরপরই শুরু হয় প্রযুক্তিগত তদন্ত। কল ডিটেইলস ও টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার দিন শিবশঙ্করের ব্যবহৃত ফোনটি পাটোরি এলাকার একটি টাওয়ারের আওতায় ছিল এবং এর প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পরই সেই একই ফোনের অবস্থান পাওয়া যায় সুরাটে। এর সঙ্গে পাটোরি থেকে স্ত্রীর কাছে করা সেই সংক্ষিপ্ত ফোনকলটির তথ্য মিলিয়ে দেখতেই পুরো ঘটনার জট খুলে যায়।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সুরাটে অভিযান চালিয়ে শিবশঙ্করকে আটক করে পুলিশ। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি পুলিশের কাছে নিজের পরিকল্পনা ও নিজ হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন। বর্তমানে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

/এমএকে/