ছুটি শেষে আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
ছুটি শেষে আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
ফ্রান্স শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ফ্রান্সে দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে স্কুল-কলেজ খুললেও পুরোপুরি থামেনি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আগের তুলনায় আন্দোলনের তেজ বেশ কমে এসেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) দেশটির মাত্র ৪১টি উচ্চবিদ্যালয়ে অবরোধের খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে প্যারিস, মার্সেই এবং রেনের মতো বড় শহরগুলোতে তীব্র আন্দোলন দেখা গেলেও এখন পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ছুটি শুরুর আগের সপ্তাহে দেশজুড়ে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরুদ্ধ ছিল, অথচ এখন সে চিত্র বদলে গেছে।

ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সম্প্রতি ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অবরোধ বা এর চেষ্টার ঘটনা এখন খুবই সীমিত। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই কেবল এমনটা ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে, তবে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া বেআইনি। কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, এমন পরিস্থিতি সরকার মেনে নিতে পারে না।

উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে প্যারিসের কাছে শুরু হওয়া এ আন্দোলন দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। গত মাসে শিক্ষার মান বাড়ানোর দাবির পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় মানুষের ক্ষোভও এতে যুক্ত হয়। একপর্যায়ে শ্রমিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীরাও আন্দোলনে সংহতি জানান। কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, দাঙ্গা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সংখ্যালঘু সরকার বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পুরোনো স্কুল ভবনগুলোর সংস্কার, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা বাড়ানো এবং বৈষম্যমূলক ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল করা।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার কিছু ছাড়ও দিয়েছে। গত সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ‘পারকুরসুপ’ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্ল্যাটফর্মটি ধাপে ধাপে সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষা খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা বাতিল, নতুন ৫০০ পদ সৃষ্টি, উচ্চবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে প্রতি ক্লাসে সর্বোচ্চ ২৮ জন শিক্ষার্থী রাখার প্রতিশ্রুতি এবং বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য ৪০০ কোটি ইউরো ও উচ্চশিক্ষায় ১৫ হাজার নতুন আসন তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে সরকারের এসব পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা। তারা এগুলোকে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা সময়ই বলে দেবে, তবে এরই মধ্যে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ও বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নতুন করে অবরোধের ডাক দিয়েছে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মঙ্গলবার ‘কালো দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থী ইউনিয়ন ইউএনইএফ।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/