প্রথমবারের মতো নারী প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে বুলগেরিয়া

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
প্রথমবারের মতো নারী প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে বুলগেরিয়া
নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ইলিয়ানা ইওতোভা

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে বুলগেরিয়া। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত বা দ্বিতীয় ধাপের ভোটগণনা শেষে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইওতোভা। ইতোমধ্যেই নিজের হার মেনে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে গুরভ।

রবিবার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে জরিপকারী সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যে দেখা যায় ইওতোভা পেয়েছেন প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গুরভ পেয়েছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট। সোমবার (২ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসলেই বুলগেরিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নাম লেখাবেন তিনি।

ইওতোভার সম্ভাব্য বিজয়ে তাকে ইতোমধ্যেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে ইওতোভার সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে কাজ করার জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন। অবশ্য এ নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ ছিল আশঙ্কাজনকভাবে কম। এক্সিট পোলের তথ্য অনুযায়ী, ভোট পড়েছে মাত্র ২৭ থেকে ২৯ শতাংশের মতো। যদিও এর আগের সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ভোটের (২৩ শতাংশ) তুলনায় এটি কিছুটা বেশি, তাও এ সংখ্যা দেশটির ইতিহাসেই অন্যতম সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড।

৬১ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ ইওতোভা চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বুলগেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বন্ধু ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ সংসদ নির্বাচনে লড়ার জন্য পদ ছাড়লে এ দায়িত্বে আসেন ইওতোভা। পরে সেই সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পান রাদেভ।

এ নির্বাচনে বড় একটি আলোচনার জায়গাজুড়ে ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এতে সোফিয়ার অবস্থান কী হবে তা নিয়ে। ইওতোভা শুরু থেকেই ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিপক্ষে এবং রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে। ঠিক উল্টো মেরুতে থাকা গুরভ জোর দিয়েছেন ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা পুরোপুরি বন্ধের ওপর।

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে কৃষ্ণসাগরের উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক ড্রোন হামলা ও ২১ জন কর্মী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক মাঠকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এসেই পড়েছে এ অঞ্চলে। প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ সরাসরি না বললেও এ ঘটনার পেছনে মস্কোর হাত থাকার ইঙ্গিত দেন। যদিও ঘটনায় জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ মেলেনি, তবুও এ ইস্যুতে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল দেশটির সরকার।

হামলার বিষয়ে দুই প্রার্থীই তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং কূটনৈতিক উপায়ে ইউক্রেন সংঘাত মেটানোর জোর দাবি তুলেছেন। তবে গুরভের মূল অভিযোগ, ঘটনার পর ইওতোভা রাশিয়ার সরাসরি নাম নিয়ে সমালোচনা করতে দ্বিধা করেছেন। এর জবাবে ইওতোভার বক্তব্য, ‘কেবল আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে।’ নিজের ভোট দেওয়া শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি শক্তিশালী ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হিসেবেই সার্বভৌম ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে বুলগেরিয়া।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/