ম্যান্ডেলসনের কেলেঙ্কারি নিয়ে স্টারমারের স্বীকারোক্তি
সিটিজেন ডেস্ক

ম্যান্ডেলসনের কেলেঙ্কারি নিয়ে স্টারমারের স্বীকারোক্তি
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ২৫

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনকে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার ও সরকারি কার্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলার তদন্ত শুরু করে যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ। একসময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন ম্যান্ডেলসন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত ই–মেইলগুলোতে দেখা গেছে, লর্ড ম্যান্ডেলসন ২০০৯ সালে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে এপস্টেইনের কাছে সরকারি তথ্য পাচার করেছিলেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পার্লামেন্টে এসব অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত পুরো ঘটনাটি ‘অবিশ্বাস্য’।
সোমবার (২০ এপ্রিল) হাউস অফ কমন্স-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল, যা সরকার ও সংসদের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
স্টারমার জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম ঘোষণার পরও তাকে জানানো হয়নি যে তিনি নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হননি। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ডাউনিং স্ট্রিটকে না জানিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার ভাষায়, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য যে এমন তথ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গোপন রাখা হয়েছে।’
এই মন্তব্যের সময় বিরোধী বেঞ্চ থেকে বিদ্রূপ ও হাসির শব্দ শোনা যায়। তখন স্টারমার নিজেই বলেন, ‘আপনারা এটাকে অবিশ্বাস্য মনে করবেন—আমি বলব, আপনারা ঠিকই ভাবছেন।’
এ ঘটনায় তিনি পররাষ্ট্র দপ্তরের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বরখাস্ত হওয়া শীর্ষ কর্মকর্তা স্যার অলি রবিন্স-কে দায়ী করেন। রবিন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে সংসদকে অন্ধকারে রেখেছেন।
তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এখনও স্পষ্ট করেনি, প্রধানমন্ত্রী বা তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা নিয়োগের আগে যথাযথভাবে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন কি না। আরও জানা গেছে, সাবেক ক্যাবিনেট সচিব লর্ড কেস আগেই পরামর্শ দিয়েছিলেন যে নিয়োগ ঘোষণার আগে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত ছিল—কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়।
স্টারমার সংসদে বলেন, দেশের মানুষ আশা করে না যে সরকার এভাবে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও মনে করেন না যে এটি সঠিক পদ্ধতি।
এদিকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সামনে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে স্যার অলি রবিন্সের। সেখানে তিনি দাবি করতে পারেন যে, নিরাপত্তা যাচাই সংক্রান্ত আইনগত গোপনীয়তার কারণে তিনি পুরো তথ্য প্রকাশ করতে পারেননি। যদিও প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই আইন তার কাছে প্রাসঙ্গিক তথ্য পৌঁছে দিতে বাধা হওয়ার কথা নয়।
স্টারমার চারটি আলাদা ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তার মতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সতর্ক করা উচিত ছিল যে ম্যান্ডেলসন যাচাইয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে রবিন্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও রয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল সব কিছু ‘স্বাভাবিক নিয়মে’ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ম্যান্ডেলসনকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল—এ তথ্য কুপার গত সপ্তাহের আগে জানতেন না। তিনি নিজেকে রক্ষা করে বলেন, সেপ্টেম্বরে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সত্যই বলেছিলেন, কারণ তখন তার কাছে পূর্ণ তথ্য ছিল না।
এ ঘটনায় তিনি আরও একটি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দেখা হবে ম্যান্ডেলসনের কর্মকাণ্ডে কোনো নিরাপত্তা লঙ্ঘন হয়েছিল কি না। একইসঙ্গে যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা তদন্ত করবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি স্যার অ্যাড্রিয়ান ফুলফোর্ড।
পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ার এমিলি থর্নবেরি অভিযোগ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি এই নিয়োগে ভূমিকা রেখে নিরাপত্তা ইস্যুকে গুরুত্বহীন করে তুলেছিলেন। তবে স্টারমার এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ বাড়ছে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক এই ইস্যুতে জরুরি বিতর্কের আয়োজন করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা কতটা যৌক্তিক।
বিতর্কে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি লর্ড ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে ‘খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরেও অস্বস্তি বাড়ছে। পার্টির অভ্যন্তরে সমালোচনা ঠেকাতে ডাউনিং স্ট্রিট প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে। দলীয় বৈঠকে নেতারা এমপিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন, বিরোধীরা এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।
সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জন ম্যাকডোনেল এবং ডায়ান অ্যাবট প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অ্যাবট বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন তাকে কিছু জানানো হয়নি—তাহলে প্রশ্ন হলো, তিনি কেন জানতে চাননি?’
এ ঘটনার জেরে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়, এমনকি দুই এমপিকে ‘মিথ্যাবাদী’ মন্তব্য করার জন্য বহিষ্কারও করা হয়।
সব মিলিয়ে, এই কেলেঙ্কারি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দলীয় ভেতরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জনও জোরালো হচ্ছে, যেখানে অ্যাঞ্জেলা রেইনার ও অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনকে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার ও সরকারি কার্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলার তদন্ত শুরু করে যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ। একসময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন ম্যান্ডেলসন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত ই–মেইলগুলোতে দেখা গেছে, লর্ড ম্যান্ডেলসন ২০০৯ সালে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে এপস্টেইনের কাছে সরকারি তথ্য পাচার করেছিলেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পার্লামেন্টে এসব অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত পুরো ঘটনাটি ‘অবিশ্বাস্য’।
সোমবার (২০ এপ্রিল) হাউস অফ কমন্স-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল, যা সরকার ও সংসদের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
স্টারমার জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম ঘোষণার পরও তাকে জানানো হয়নি যে তিনি নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হননি। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ডাউনিং স্ট্রিটকে না জানিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার ভাষায়, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য যে এমন তথ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গোপন রাখা হয়েছে।’
এই মন্তব্যের সময় বিরোধী বেঞ্চ থেকে বিদ্রূপ ও হাসির শব্দ শোনা যায়। তখন স্টারমার নিজেই বলেন, ‘আপনারা এটাকে অবিশ্বাস্য মনে করবেন—আমি বলব, আপনারা ঠিকই ভাবছেন।’
এ ঘটনায় তিনি পররাষ্ট্র দপ্তরের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বরখাস্ত হওয়া শীর্ষ কর্মকর্তা স্যার অলি রবিন্স-কে দায়ী করেন। রবিন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে সংসদকে অন্ধকারে রেখেছেন।
তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এখনও স্পষ্ট করেনি, প্রধানমন্ত্রী বা তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা নিয়োগের আগে যথাযথভাবে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন কি না। আরও জানা গেছে, সাবেক ক্যাবিনেট সচিব লর্ড কেস আগেই পরামর্শ দিয়েছিলেন যে নিয়োগ ঘোষণার আগে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত ছিল—কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়।
স্টারমার সংসদে বলেন, দেশের মানুষ আশা করে না যে সরকার এভাবে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও মনে করেন না যে এটি সঠিক পদ্ধতি।
এদিকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সামনে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে স্যার অলি রবিন্সের। সেখানে তিনি দাবি করতে পারেন যে, নিরাপত্তা যাচাই সংক্রান্ত আইনগত গোপনীয়তার কারণে তিনি পুরো তথ্য প্রকাশ করতে পারেননি। যদিও প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই আইন তার কাছে প্রাসঙ্গিক তথ্য পৌঁছে দিতে বাধা হওয়ার কথা নয়।
স্টারমার চারটি আলাদা ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তার মতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সতর্ক করা উচিত ছিল যে ম্যান্ডেলসন যাচাইয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে রবিন্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও রয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল সব কিছু ‘স্বাভাবিক নিয়মে’ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ম্যান্ডেলসনকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল—এ তথ্য কুপার গত সপ্তাহের আগে জানতেন না। তিনি নিজেকে রক্ষা করে বলেন, সেপ্টেম্বরে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সত্যই বলেছিলেন, কারণ তখন তার কাছে পূর্ণ তথ্য ছিল না।
এ ঘটনায় তিনি আরও একটি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দেখা হবে ম্যান্ডেলসনের কর্মকাণ্ডে কোনো নিরাপত্তা লঙ্ঘন হয়েছিল কি না। একইসঙ্গে যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা তদন্ত করবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি স্যার অ্যাড্রিয়ান ফুলফোর্ড।
পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ার এমিলি থর্নবেরি অভিযোগ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি এই নিয়োগে ভূমিকা রেখে নিরাপত্তা ইস্যুকে গুরুত্বহীন করে তুলেছিলেন। তবে স্টারমার এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ বাড়ছে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক এই ইস্যুতে জরুরি বিতর্কের আয়োজন করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা কতটা যৌক্তিক।
বিতর্কে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি লর্ড ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে ‘খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরেও অস্বস্তি বাড়ছে। পার্টির অভ্যন্তরে সমালোচনা ঠেকাতে ডাউনিং স্ট্রিট প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে। দলীয় বৈঠকে নেতারা এমপিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন, বিরোধীরা এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।
সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জন ম্যাকডোনেল এবং ডায়ান অ্যাবট প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অ্যাবট বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন তাকে কিছু জানানো হয়নি—তাহলে প্রশ্ন হলো, তিনি কেন জানতে চাননি?’
এ ঘটনার জেরে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়, এমনকি দুই এমপিকে ‘মিথ্যাবাদী’ মন্তব্য করার জন্য বহিষ্কারও করা হয়।
সব মিলিয়ে, এই কেলেঙ্কারি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দলীয় ভেতরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জনও জোরালো হচ্ছে, যেখানে অ্যাঞ্জেলা রেইনার ও অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় রয়েছে।

ম্যান্ডেলসনের কেলেঙ্কারি নিয়ে স্টারমারের স্বীকারোক্তি
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ২৫

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনকে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার ও সরকারি কার্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলার তদন্ত শুরু করে যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ। একসময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন ম্যান্ডেলসন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত ই–মেইলগুলোতে দেখা গেছে, লর্ড ম্যান্ডেলসন ২০০৯ সালে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে এপস্টেইনের কাছে সরকারি তথ্য পাচার করেছিলেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পার্লামেন্টে এসব অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত পুরো ঘটনাটি ‘অবিশ্বাস্য’।
সোমবার (২০ এপ্রিল) হাউস অফ কমন্স-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল, যা সরকার ও সংসদের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
স্টারমার জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম ঘোষণার পরও তাকে জানানো হয়নি যে তিনি নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হননি। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ডাউনিং স্ট্রিটকে না জানিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার ভাষায়, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য যে এমন তথ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গোপন রাখা হয়েছে।’
এই মন্তব্যের সময় বিরোধী বেঞ্চ থেকে বিদ্রূপ ও হাসির শব্দ শোনা যায়। তখন স্টারমার নিজেই বলেন, ‘আপনারা এটাকে অবিশ্বাস্য মনে করবেন—আমি বলব, আপনারা ঠিকই ভাবছেন।’
এ ঘটনায় তিনি পররাষ্ট্র দপ্তরের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বরখাস্ত হওয়া শীর্ষ কর্মকর্তা স্যার অলি রবিন্স-কে দায়ী করেন। রবিন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে সংসদকে অন্ধকারে রেখেছেন।
তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এখনও স্পষ্ট করেনি, প্রধানমন্ত্রী বা তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা নিয়োগের আগে যথাযথভাবে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন কি না। আরও জানা গেছে, সাবেক ক্যাবিনেট সচিব লর্ড কেস আগেই পরামর্শ দিয়েছিলেন যে নিয়োগ ঘোষণার আগে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত ছিল—কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়।
স্টারমার সংসদে বলেন, দেশের মানুষ আশা করে না যে সরকার এভাবে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও মনে করেন না যে এটি সঠিক পদ্ধতি।
এদিকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সামনে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে স্যার অলি রবিন্সের। সেখানে তিনি দাবি করতে পারেন যে, নিরাপত্তা যাচাই সংক্রান্ত আইনগত গোপনীয়তার কারণে তিনি পুরো তথ্য প্রকাশ করতে পারেননি। যদিও প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই আইন তার কাছে প্রাসঙ্গিক তথ্য পৌঁছে দিতে বাধা হওয়ার কথা নয়।
স্টারমার চারটি আলাদা ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তার মতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সতর্ক করা উচিত ছিল যে ম্যান্ডেলসন যাচাইয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে রবিন্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও রয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল সব কিছু ‘স্বাভাবিক নিয়মে’ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ম্যান্ডেলসনকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল—এ তথ্য কুপার গত সপ্তাহের আগে জানতেন না। তিনি নিজেকে রক্ষা করে বলেন, সেপ্টেম্বরে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সত্যই বলেছিলেন, কারণ তখন তার কাছে পূর্ণ তথ্য ছিল না।
এ ঘটনায় তিনি আরও একটি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দেখা হবে ম্যান্ডেলসনের কর্মকাণ্ডে কোনো নিরাপত্তা লঙ্ঘন হয়েছিল কি না। একইসঙ্গে যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা তদন্ত করবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি স্যার অ্যাড্রিয়ান ফুলফোর্ড।
পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ার এমিলি থর্নবেরি অভিযোগ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি এই নিয়োগে ভূমিকা রেখে নিরাপত্তা ইস্যুকে গুরুত্বহীন করে তুলেছিলেন। তবে স্টারমার এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ বাড়ছে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক এই ইস্যুতে জরুরি বিতর্কের আয়োজন করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা কতটা যৌক্তিক।
বিতর্কে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি লর্ড ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে ‘খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরেও অস্বস্তি বাড়ছে। পার্টির অভ্যন্তরে সমালোচনা ঠেকাতে ডাউনিং স্ট্রিট প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে। দলীয় বৈঠকে নেতারা এমপিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন, বিরোধীরা এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।
সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জন ম্যাকডোনেল এবং ডায়ান অ্যাবট প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অ্যাবট বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন তাকে কিছু জানানো হয়নি—তাহলে প্রশ্ন হলো, তিনি কেন জানতে চাননি?’
এ ঘটনার জেরে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়, এমনকি দুই এমপিকে ‘মিথ্যাবাদী’ মন্তব্য করার জন্য বহিষ্কারও করা হয়।
সব মিলিয়ে, এই কেলেঙ্কারি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দলীয় ভেতরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জনও জোরালো হচ্ছে, যেখানে অ্যাঞ্জেলা রেইনার ও অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় রয়েছে।
/এমআর/




