ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে গণবিক্ষোভ: রাস্তায় নামছেন লাখো মানুষ

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে গণবিক্ষোভ: রাস্তায় নামছেন লাখো মানুষ
ফ্রান্সের রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন জীবনযাত্রার ঊর্ধ্বগতি ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক বিশাল গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ধর্মঘটের পাশাপাশি দেশজুড়ে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে প্রধান প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নগুলো।

উচ্চ বিদ্যালয়ের তরুণদের এ আন্দোলন ১৭ অক্টোবর সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গায় রূপ নেয়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ রাস্তায় নামবে এবং রাজধানী প্যারিসেই মিছিল করবে প্রায় আশি হাজার মানুষ।

আন্দোলন সম্পর্কে সিএফডিটি ইউনিয়নের মেরিলিস লিওন বলেন, এটি একটি শক্তিশালী সমাবেশ হতে চলেছে। তিনি আশা করছেন, এবারের জনসমাগম ২০২৩ সালে ফ্রান্সের পেনশন সংস্কার বিরোধী বিক্ষোভের সমতুল্য হবে। উল্লেখ্য ওই বিক্ষোভে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ মিছিল করেছিল।

ইতোমধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রেলকর্মী, সরকারি হাসপাতাল ও ডাক বিভাগের ইউনিয়নগুলো ধর্মঘটের সমর্থন জানিয়েছে। তারা ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো, সার্বজনীন বেতন বৃদ্ধি, কর সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশের দাবি জানাচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বুধবার (৪ নভেম্বর) জানান, সারাদেশে ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

ছাত্রদের এ আন্দোলন মূলত শান্তিপূর্ণ থাকলেও বেশ কিছু স্থানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্যারিসে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের পর হত্যাচেষ্টার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও নৃশংসতার অভিযোগে অভ্যন্তরীণ তদন্তও চলছে। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন কিশোর মারাত্মক আহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।

সুরক্ষার অজুহাতে প্যারিস কর্তৃপক্ষ প্লেস দে লা বাস্তিল থেকে প্লেস দে লা কনকর্ড পর্যন্ত পরিকল্পিত মূল মিছিলটি নিষিদ্ধ করে শহরের পূর্ব দিকে বিকল্প রুট নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে ইউনিয়নগুলো একে বিক্ষোভের স্বাধীনতা দমনের চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে।

ফ্রান্সের এ অসন্তোষের উত্তাপ এখন ছড়িয়ে পড়ছে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও। সম্প্রতি ডেনমার্ক, জার্মানি ও ইতালিতেও তরুণদের নেতৃত্বে এমন প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখা গেছে।

সূত্র: সিএনএ

/এমএকে/