শিরোনাম

যুদ্ধ শেষের পথে দাবি ট্রাম্পের, বিশ্লেষকদের মতে কঠোর অবস্থানে ইরান

সিটিজেন ডেস্ক
যুদ্ধ শেষের পথে দাবি ট্রাম্পের, বিশ্লেষকদের মতে কঠোর অবস্থানে ইরান
ইরানের হামলার পর দোহার শিল্পাঞ্চলে ধোঁয়ার কুণ্ডলীর পাশ দিয়ে গাড়িচালকরা গাড়ি চালাচ্ছেন। ছবি: আল-জাজিরা

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের পরিস্থিতিকে প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে শেষের দিকে চলে এসেছে বলে তুলে ধরছেন। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি ততটা সরল নয়; বরং তেহরান পিছু না হটে আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধের ময়দানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় পূর্ণাঙ্গ সফলতা অর্জন করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌবাহিনীকে প্রায় ধ্বংস করে দিচ্ছে।

এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড় বড় তেল কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি তাদের হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রণালীতে পেতে রাখা সব মাইন সরিয়ে নিয়েছে।

তবে তার এই আশ্বাসের পরও তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা এবং ইরাকি তেলবাহী দুটি জাহাজে আক্রমণের খবর তাদের সতর্ক করে তুলেছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইন সরিয়ে নেওয়া হলেও হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি। ইরান কেবল মাইনের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের হাতে সাবমেরিন, ড্রোন কিংবা বিস্ফোরকবোঝাই ছোট নৌযানের মতো বিভিন্ন কৌশল রয়েছে, যা দিয়ে সমুদ্রপথে হামলা চালানো সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যেখানে যুদ্ধের শেষ পর্যায় দেখছেন এবং ইরানের পতন আসন্ন বলে দাবি করছেন, সেখানে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। বরং তেহরান পিছু না হটে আরও শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে বলেই ধারণা করছেন তারা।

এক পর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিড অচল করে দিতে পারে। তবে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা আসলে এমনটা করতে চাই না।’ তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক বক্তব্য নাকি সম্ভাব্য সামরিক হুমকি– তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

সূত্র: আল–জাজিরা

/এসএ/