জাপানে নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ঐতিহাসিক জয়

জাপানে নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ঐতিহাসিক জয়

জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন জোট করছাড় বাস্তবায়ন এবং চীনকে মোকাবিলায় সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর মতো বিতর্কিত নীতিগুলো সহজেই এগিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একাই ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে ৩১৬টি আসনে জয় পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, এটি কোনো নির্বাচনে এলডিপির সর্বোচ্চ সাফল্য।
জোট শরিক জাপান ইনোভেশন পার্টির (ইশিন) সমর্থনে এলডিপি এখন নিম্নকক্ষের মোট ৩৫২টি আসনের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে। এতে পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে তাকাইচির জন্য, যা উচ্চকক্ষের বাধা উপেক্ষা করেও আইন পাসের সুযোগ এনে দেবে। যদিও উচ্চকক্ষে এখনো তাকাইচির দল সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়।
বড় নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত
ভোটের ফল আসতে শুরু করলে টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাকাইচি বলেন, এই নির্বাচন বড় নীতি পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতিতে বড় রদবদল এবং নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই নীতিগুলোর বিরুদ্ধে এতদিন ব্যাপক বিরোধিতা ছিল। কিন্তু যদি জনগণের সমর্থন পাই, তাহলে সর্বশক্তি দিয়েই এসব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে যাব।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার তার রক্ষণশীল এজেন্ডা বাস্তবায়নে শুভকামনা।
আগামী মাসে হোয়াইট হাউসে তাকাইচির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
শীতের মধ্যে ভোট, তুষারঝড়ের বাধা
গত বছরের শেষ দিকে এলডিপির নেতৃত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকাইচির জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬৪ বছর বয়সী এই নেতা শীতকালেই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন।
তবে রেকর্ড তুষারপাতের মধ্যেই ভোট দিতে হয়েছে জাপানিদের। কিছু এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, কোথাও কোথাও আগেভাগেই ভোটকেন্দ্র বন্ধ করতে হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ছিল ফেব্রুয়ারিতে জাপানের তৃতীয় নির্বাচন। সাধারণত দেশটিতে তুলনামূলক অনুকূল আবহাওয়ায় ভোট হয়ে থাকে।
নিগাতা প্রদেশের উওনামা শহরের এক ভোটার, ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষক কাজুশিগে চো বলেন, মনে হয় তিনি দেশকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, যেন পুরো দেশ এক হয়ে এগোচ্ছে।
করছাড় নিয়ে দুশ্চিন্তা, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ
নির্বাচনী প্রচারে খাদ্যপণ্যে ৮ শতাংশ বিক্রয়কর বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন তাকাইচি। মূল্যস্ফীতি সহনীয় করতে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত জাপান এই করছাড় বাস্তবায়নে অর্থ পাবে কোথা থেকে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার তাকাইচি জানান, করছাড় বাস্তবায়নে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন, তবে একই সঙ্গে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকেও নজর রাখবেন।
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কেইদানরেনের প্রধান ইয়োশিনোবু সুৎসুই তাকাইচির জয়কে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির জন্য জাপানের অর্থনীতি এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে।”
তরুণদের উন্মাদনা, চীনের অস্বস্তি
তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায় করে তাকাইচি এলডিপির হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন। তাঁকে ঘিরে জাপানে শুরু হয়েছে ‘সানাকাতসু’—অর্থাৎ ‘সানায়ে পাগলামি’। তার ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ কিংবা গোলাপি কলমের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।
তবে চীন তাকাইচির উত্থানে স্পষ্টতই অস্বস্তিতে। ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তবে জাপান পাল্টা জবাব দিতে পারে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনায় পৌঁছায়। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করে।
নির্বাচনে জয়ের পর তাকাইচিকে শুভেচ্ছা জানানো বিদেশি নেতাদের মধ্যে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে অন্যতম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগোবে।
প্রতিরক্ষা জোরদারে অগ্রগতি, উত্তেজনার আশঙ্কা
পার্লামেন্টে শক্ত অবস্থান পাওয়ায় তাকাইচি জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে জাপানের যুদ্ধপূর্ব শক্ত অবস্থান ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলতে পারে, যা বেইজিংকে আরও ক্ষুব্ধ করতে পারে।
রবিবার সন্ধ্যায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, প্রতিরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেও তিনি।
ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ডেভিড বোলিং বলেন, বেইজিং তাকাইচির জয়কে ভালো চোখে দেখবে না। চীন এখন বুঝতে পারছে, তাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা সফল হয়নি।

জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন জোট করছাড় বাস্তবায়ন এবং চীনকে মোকাবিলায় সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর মতো বিতর্কিত নীতিগুলো সহজেই এগিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একাই ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে ৩১৬টি আসনে জয় পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, এটি কোনো নির্বাচনে এলডিপির সর্বোচ্চ সাফল্য।
জোট শরিক জাপান ইনোভেশন পার্টির (ইশিন) সমর্থনে এলডিপি এখন নিম্নকক্ষের মোট ৩৫২টি আসনের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে। এতে পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে তাকাইচির জন্য, যা উচ্চকক্ষের বাধা উপেক্ষা করেও আইন পাসের সুযোগ এনে দেবে। যদিও উচ্চকক্ষে এখনো তাকাইচির দল সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়।
বড় নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত
ভোটের ফল আসতে শুরু করলে টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাকাইচি বলেন, এই নির্বাচন বড় নীতি পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতিতে বড় রদবদল এবং নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই নীতিগুলোর বিরুদ্ধে এতদিন ব্যাপক বিরোধিতা ছিল। কিন্তু যদি জনগণের সমর্থন পাই, তাহলে সর্বশক্তি দিয়েই এসব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে যাব।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার তার রক্ষণশীল এজেন্ডা বাস্তবায়নে শুভকামনা।
আগামী মাসে হোয়াইট হাউসে তাকাইচির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
শীতের মধ্যে ভোট, তুষারঝড়ের বাধা
গত বছরের শেষ দিকে এলডিপির নেতৃত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকাইচির জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬৪ বছর বয়সী এই নেতা শীতকালেই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন।
তবে রেকর্ড তুষারপাতের মধ্যেই ভোট দিতে হয়েছে জাপানিদের। কিছু এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, কোথাও কোথাও আগেভাগেই ভোটকেন্দ্র বন্ধ করতে হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ছিল ফেব্রুয়ারিতে জাপানের তৃতীয় নির্বাচন। সাধারণত দেশটিতে তুলনামূলক অনুকূল আবহাওয়ায় ভোট হয়ে থাকে।
নিগাতা প্রদেশের উওনামা শহরের এক ভোটার, ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষক কাজুশিগে চো বলেন, মনে হয় তিনি দেশকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, যেন পুরো দেশ এক হয়ে এগোচ্ছে।
করছাড় নিয়ে দুশ্চিন্তা, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ
নির্বাচনী প্রচারে খাদ্যপণ্যে ৮ শতাংশ বিক্রয়কর বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন তাকাইচি। মূল্যস্ফীতি সহনীয় করতে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত জাপান এই করছাড় বাস্তবায়নে অর্থ পাবে কোথা থেকে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার তাকাইচি জানান, করছাড় বাস্তবায়নে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন, তবে একই সঙ্গে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকেও নজর রাখবেন।
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কেইদানরেনের প্রধান ইয়োশিনোবু সুৎসুই তাকাইচির জয়কে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির জন্য জাপানের অর্থনীতি এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে।”
তরুণদের উন্মাদনা, চীনের অস্বস্তি
তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায় করে তাকাইচি এলডিপির হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন। তাঁকে ঘিরে জাপানে শুরু হয়েছে ‘সানাকাতসু’—অর্থাৎ ‘সানায়ে পাগলামি’। তার ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ কিংবা গোলাপি কলমের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।
তবে চীন তাকাইচির উত্থানে স্পষ্টতই অস্বস্তিতে। ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তবে জাপান পাল্টা জবাব দিতে পারে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনায় পৌঁছায়। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করে।
নির্বাচনে জয়ের পর তাকাইচিকে শুভেচ্ছা জানানো বিদেশি নেতাদের মধ্যে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে অন্যতম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগোবে।
প্রতিরক্ষা জোরদারে অগ্রগতি, উত্তেজনার আশঙ্কা
পার্লামেন্টে শক্ত অবস্থান পাওয়ায় তাকাইচি জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে জাপানের যুদ্ধপূর্ব শক্ত অবস্থান ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলতে পারে, যা বেইজিংকে আরও ক্ষুব্ধ করতে পারে।
রবিবার সন্ধ্যায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, প্রতিরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেও তিনি।
ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ডেভিড বোলিং বলেন, বেইজিং তাকাইচির জয়কে ভালো চোখে দেখবে না। চীন এখন বুঝতে পারছে, তাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা সফল হয়নি।

জাপানে নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ঐতিহাসিক জয়

জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন জোট করছাড় বাস্তবায়ন এবং চীনকে মোকাবিলায় সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর মতো বিতর্কিত নীতিগুলো সহজেই এগিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একাই ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে ৩১৬টি আসনে জয় পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, এটি কোনো নির্বাচনে এলডিপির সর্বোচ্চ সাফল্য।
জোট শরিক জাপান ইনোভেশন পার্টির (ইশিন) সমর্থনে এলডিপি এখন নিম্নকক্ষের মোট ৩৫২টি আসনের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে। এতে পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে তাকাইচির জন্য, যা উচ্চকক্ষের বাধা উপেক্ষা করেও আইন পাসের সুযোগ এনে দেবে। যদিও উচ্চকক্ষে এখনো তাকাইচির দল সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়।
বড় নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত
ভোটের ফল আসতে শুরু করলে টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাকাইচি বলেন, এই নির্বাচন বড় নীতি পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতিতে বড় রদবদল এবং নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই নীতিগুলোর বিরুদ্ধে এতদিন ব্যাপক বিরোধিতা ছিল। কিন্তু যদি জনগণের সমর্থন পাই, তাহলে সর্বশক্তি দিয়েই এসব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে যাব।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার তার রক্ষণশীল এজেন্ডা বাস্তবায়নে শুভকামনা।
আগামী মাসে হোয়াইট হাউসে তাকাইচির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
শীতের মধ্যে ভোট, তুষারঝড়ের বাধা
গত বছরের শেষ দিকে এলডিপির নেতৃত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকাইচির জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬৪ বছর বয়সী এই নেতা শীতকালেই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন।
তবে রেকর্ড তুষারপাতের মধ্যেই ভোট দিতে হয়েছে জাপানিদের। কিছু এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, কোথাও কোথাও আগেভাগেই ভোটকেন্দ্র বন্ধ করতে হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ছিল ফেব্রুয়ারিতে জাপানের তৃতীয় নির্বাচন। সাধারণত দেশটিতে তুলনামূলক অনুকূল আবহাওয়ায় ভোট হয়ে থাকে।
নিগাতা প্রদেশের উওনামা শহরের এক ভোটার, ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষক কাজুশিগে চো বলেন, মনে হয় তিনি দেশকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, যেন পুরো দেশ এক হয়ে এগোচ্ছে।
করছাড় নিয়ে দুশ্চিন্তা, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ
নির্বাচনী প্রচারে খাদ্যপণ্যে ৮ শতাংশ বিক্রয়কর বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন তাকাইচি। মূল্যস্ফীতি সহনীয় করতে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত জাপান এই করছাড় বাস্তবায়নে অর্থ পাবে কোথা থেকে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার তাকাইচি জানান, করছাড় বাস্তবায়নে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন, তবে একই সঙ্গে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকেও নজর রাখবেন।
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কেইদানরেনের প্রধান ইয়োশিনোবু সুৎসুই তাকাইচির জয়কে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির জন্য জাপানের অর্থনীতি এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে।”
তরুণদের উন্মাদনা, চীনের অস্বস্তি
তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায় করে তাকাইচি এলডিপির হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন। তাঁকে ঘিরে জাপানে শুরু হয়েছে ‘সানাকাতসু’—অর্থাৎ ‘সানায়ে পাগলামি’। তার ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ কিংবা গোলাপি কলমের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।
তবে চীন তাকাইচির উত্থানে স্পষ্টতই অস্বস্তিতে। ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তবে জাপান পাল্টা জবাব দিতে পারে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনায় পৌঁছায়। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করে।
নির্বাচনে জয়ের পর তাকাইচিকে শুভেচ্ছা জানানো বিদেশি নেতাদের মধ্যে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে অন্যতম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগোবে।
প্রতিরক্ষা জোরদারে অগ্রগতি, উত্তেজনার আশঙ্কা
পার্লামেন্টে শক্ত অবস্থান পাওয়ায় তাকাইচি জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে জাপানের যুদ্ধপূর্ব শক্ত অবস্থান ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলতে পারে, যা বেইজিংকে আরও ক্ষুব্ধ করতে পারে।
রবিবার সন্ধ্যায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, প্রতিরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেও তিনি।
ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ডেভিড বোলিং বলেন, বেইজিং তাকাইচির জয়কে ভালো চোখে দেখবে না। চীন এখন বুঝতে পারছে, তাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা সফল হয়নি।




