শিরোনাম

ঘুমের আগে ভরপেট খাওয়া, অজান্তেই ডেকে আনছেন যে বিপদ

সিটিজেন ডেস্ক
ঘুমের আগে ভরপেট খাওয়া, অজান্তেই ডেকে আনছেন যে বিপদ
গ্রাফিক্স: সিটিজেন জার্নাল

দিনভর ব্যস্ততার শেষে রাতের খাবার যেন একধরনের স্বস্তি। অনেকেই মনে করেন, রাতে পেট ভরে ভাত বা ভারী খাবার খেলে ঘুম ভালো হয়। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই তাই? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ভেতরে নীরবে তৈরি করতে পারে একাধিক সমস্যা, যার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে না বোঝা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে হয়ে উঠতে পারে উদ্বেগজনক। এই সাধারণ অভ্যাসটি কীভাবে আপনার হজম, ঘুম এমনকি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে, তা জানা জরুরি।

হজমে ব্যাঘাত, বাড়ে অস্বস্তি

রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। কারণ, খাবার গ্রহণের পর হজমের জন্য শরীর সক্রিয় থাকতে চায়, কিন্তু ঘুমের সময় শরীর বিশ্রামমুখী হয়ে পড়ে। এতে খাবার পাকস্থলীতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, যা অম্লতা, গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যার জন্ম দেয়।

ওজন বাড়ার নেপথ্যে রাতের খাবার

রাতের খাবার যদি হয় ভারী এবং তার পরপরই ঘুমিয়ে পড়া হয়, তাহলে অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ানোর সুযোগ কমে যায়। শারীরিক কার্যকলাপ না থাকায় সেই ক্যালোরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ঘুমের গুণগত মান কমে যায়

অনেকে মনে করেন পেট ভরে খেলে ঘুম ভালো হয়। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটে। ভারী খাবারের কারণে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয়। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা অস্বস্তিকর ঘুমের অভিজ্ঞতা হতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

রাতে দেরিতে এবং বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত বা অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার রক্তে চর্বির মাত্রা বাড়ায়, যা হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে

রাতে ভারী খাবার খাওয়ার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন বা ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর। নিয়মিত এমন অভ্যাস থাকলে ইনসুলিনের কার্যকারিতাও বিঘ্নিত হতে পারে।

কীভাবে বদলাবেন অভ্যাস?

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উচিত। ভারী খাবারের পরিবর্তে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া ভালো। যেমন: সবজি, ডাল, অল্প পরিমাণ ভাত বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। পাশাপাশি নিয়মিত খাবারের সময় ঠিক রাখা এবং রাত জাগা কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।

রাতে ভরপেট খাবার খাওয়ার অভ্যাস আপাতদৃষ্টিতে ভালো মনে হলেও এটি শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, খাবারের সময়ও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একটু সচেতনতা বদলে দিতে পারে আপনার ঘুম, হজম এবং সার্বিক স্বাস্থ্য।

/এসএ/