শিরোনাম

ঈদে যে খাবারগুলো পছন্দের শীর্ষে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদে যে খাবারগুলো পছন্দের শীর্ষে
কাবুলি পোলাও। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল ফিতর মুসলিমদের জন্য আনন্দ এবং মিলনমেলার এক অনন্য উৎসব। এক মাস রোজা রাখার পর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পরদিন উদযাপিত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। নতুন পোশাক, ঈদের নামাজ, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ আর নানা সুস্বাদু খাবার তৈরী এবং খাওয়ার মাধ্য দিয়ে পালিত হয় ঈদ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঈদুল ফিতরের অন্যতম আকর্ষণ হলো ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।

ঈদের দিনের শুরুতেই যে খাবারটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়, তা হলো সেমাই। দুধ সেমাই, লাচ্ছা সেমাই, কুনাফাসহ বিভিন্ন রকমের সেমাই জায়গা করে নিয়েছে বাঙালির ঈদ আয়োজনে । সকালে নামাজ শেষে ঘরে ফিরে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে সেমাই খাওয়ার দৃশ্য যেন ঈদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আবার প্রতিবেশীর ঘরে সেমাই নিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি ঈদ আনন্দকে দ্বিগুণ করে।

দুপুরের দিকে খাবারের আয়োজন হয়ে ওঠে আরও জমকালো। পোলাও কিংবা বিরিয়ানি এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ হিসেবে বিবেচিত। মোরগ পোলাওয়ের পাশাপাশি কাবুলি পোলাও বা সাদা পোলাও প্রচলিত।

পোলাওয়ের সঙ্গে মুরগির রোস্ট, গরু বা খাসির মাংস থাকে প্রায় প্রতিটি ঘরেই। যে মাংসই রান্না করা হোক তাতে বাড়তি কিছু যোগ করে ভিন্ন স্বাদ আনার চেষ্টাও করে থাকেন অনেকে। মসলার সুষম ব্যবহার ও নরম মাংসের স্বাদ এই খাবারগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

অতিথি আপ্যায়নে অবশ্য বিকল্প হিসেবে অনেকে আজকাল ফ্রাইড রাইসও খুব পছন্দ করেন। সাথে থাকে ফ্রাইড চিকেন আর চাইনিজ সবজি ।

লাচ্ছা সেমাই। ছবি: সংগৃহীত
লাচ্ছা সেমাই। ছবি: সংগৃহীত

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের কাবাব যেমন শামি কাবাব, জালি কাবাব খাবারের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে। শহরের অভিজাত পরিবার থেকে শুরু করে গ্রামীণ পরিবেশ সবখানেই এই খাবারগুলোর জনপ্রিয়তা সমানভাবে লক্ষ্য করা যায়।

মিষ্টান্নের দিক থেকেও ঈদুল ফিতর বেশ সমৃদ্ধ। ফিরনি, পায়েস, শাহি টুকরা, নবাবী সেমাই এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার ঈদের টেবিলকে পূর্ণতা দেয়। ফিরনির মোলায়েম স্বাদ ও পায়েসের ঘরোয়া ঐতিহ্য অনেকের শৈশবের স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে।

ঈদের খাবারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সামাজিক তাৎপর্য। এই দিনে মানুষ একে অপরের বাড়িতে গিয়ে খাবার ভাগাভাগি করে, যা পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। খাবারের মাধ্যমে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়, যা সমাজে সম্প্রীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

ঈদুল ফিতরে খাবারের আয়োজন শুধু স্বাদের জন্য নয় এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতীক।

নানা খাবারের মধ্য দিয়েই ঈদের আনন্দ হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ।

/এসএনআর/টিই/