শিরোনাম

যেভাবে আবিষ্কার হলো মেকআপ

সিটিজেন ডেস্ক
যেভাবে আবিষ্কার হলো মেকআপ

মেকআপ নারীদের অন্যতম পছন্দের অনুষঙ্গ। নিজেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে যুগে যুগে প্রসাধনীর ব্যবহার করে আসছেন তারা। তবে এই সৌন্দর্যচর্চার ইতিহাস যে হাজার বছরের পুরোনো, তা অনেকেরই অজানা।

ইতিহাস বলছে, মেকআপের সূচনা হয়েছিল প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায়। যেখানে এটি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা ও বিশ্বাসেরও প্রতীক ছিল। প্রাচীন মিশরে মেকআপ ছিল আভিজাত্য প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। যদিও সে সময় সাধারণ মানুষও প্রসাধনী ব্যবহার করতেন। তবে কার প্রসাধনী কত দামী পাত্রে রাখা হচ্ছে কিংবা কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দিয়েই বোঝা যেত সামাজিক অবস্থান ও সম্পদের পরিমাণ।

মিশরীয়রা আধুনিক প্রসাধনী তৈরি না করলেও, সৌন্দর্যচর্চার কৌশলে তারা ছিল অত্যন্ত দক্ষ। ক্লিওপেট্রার বিখ্যাত কাজলঘেরা চোখ বা সবুজ ম্যালাকাইট আইশ্যাডোর কথা আজও ইতিহাসে আলোচিত। তবে এসব শুধুই সাজের অংশ ছিল না, এর পেছনে ছিল বাস্তব উপকারিতাও।

চোখের চারপাশে ব্যবহৃত কালো কাজল তীব্র রোদ থেকে চোখকে সুরক্ষা দিত। পাশাপাশি এতে থাকা উপাদান চোখের বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধেও সহায়ক ছিল। ফলে সে সময়ের আইলাইনার ছিল একদিকে ফ্যাশনের অংশ, অন্যদিকে চোখের সুরক্ষারও উপায়।

প্রাচীন মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল, চোখে কাজল ব্যবহার করলে অশুভ শক্তি ও বদনজর থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সবুজ রঙের আইশ্যাডো তৈরি করা হতো ‘ম্যালাকাইট’ নামের এক ধরনের খনিজ গুঁড়ো করে। এটি দেবতা হোরাসের আশীর্বাদের প্রতীক বলেও মনে করা হতো।

ত্বকের যত্নেও প্রাচীন মিশরীয়রা ছিলেন বেশ সচেতন। ত্বক কোমল ও সুস্থ রাখতে তারা ব্যবহার করতেন বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান। মধু দিয়ে তৈরি ফেসমাস্ক ছিল বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া দুধ দিয়ে গোসল করার প্রচলনের কথাও ইতিহাসে পাওয়া যায়। যা ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্যচর্চার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

শুষ্ক মরুভূমির আবহাওয়া থেকে ত্বককে রক্ষা করতে তারা ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল ও তিলের তেল ব্যবহার করতেন। আধুনিক স্কিনকেয়ারের অনেক ধারণার শিকড়ও খুঁজে পাওয়া যায় সেই সময়ের জীবনধারায়।

অন্যদিকে, প্রাচীন মিশরে লিপস্টিক তৈরি করা হতো লাল ওখারের গুঁড়ো ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক চর্বি মিশিয়ে। আরও গাঢ় লাল রং আনতে কখনও কখনও ‘কারমাইন বিটল’ নামের এক ধরনের পোকাও ব্যবহার করা হতো। অর্থাৎ প্রকৃতি থেকে সৌন্দর্য উপাদান সংগ্রহের ধারণা নতুন নয়, বরং এর ইতিহাস বহু পুরোনো।

/এসবি/