শিরোনাম

দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে যা করণীয়

সিটিজেন ডেস্ক
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে যা করণীয়
প্রতীকী ছবি

অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যকে সাধারণ হজমজনিত সমস্যা হিসেবে উপেক্ষা করেন। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘ সময় ধরে চললে তা কেবল অস্বস্তিই নয়, বরং অন্ত্রের কার্যকারিতায় জটিলতার ইঙ্গিতও হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

চিকিৎসা সংজ্ঞা অনুযায়ী, সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ, শক্ত মল, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ কিংবা মলত্যাগের পরও সম্পূর্ণ স্বস্তি না পাওয়ার অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন এবং কিছু শারীরিক অবস্থার সম্মিলিত ভূমিকা থাকে।

আঁশযুক্ত খাবারের ঘাটতি এ সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। শাকসবজি, ফলমূল ও পূর্ণ শস্য কম খেলে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতি কমে যায়। একইভাবে পর্যাপ্ত পানি না পান করলে মল শক্ত হয়ে যায়, যা সহজে বের হতে বাধা সৃষ্টি করে।

নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনও কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত শারীরিক নড়াচড়া না থাকলে অন্ত্রের কার্যক্রম ধীর হয়ে যায়। পাশাপাশি মলত্যাগের তাগিদ দীর্ঘ সময় উপেক্ষা করাও সমস্যা বাড়াতে পারে।

কিছু ওষুধ যেমন ব্যথানাশক, আয়রন বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট, কিছু অ্যান্টাসিড ও বিষণ্নতাবিরোধী ওষুধও কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা, স্নায়বিক রোগ কিংবা কোলন বা রেকটামের গঠনগত জটিলতাও এ সমস্যার পেছনে ভূমিকা রাখে।

সমস্যার সমাধানে করণীয়

চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

নিয়মিত আঁশসমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, ফলমূল ও পূর্ণ শস্য গ্রহণ অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান মল নরম রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়ামের মতো শারীরিক কার্যকলাপ অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি মলত্যাগের তাগিদ কখনোই দীর্ঘ সময় ধরে আটকে না রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘদিন সমস্যা চললে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলেও জানান তারা। প্রাথমিক পর্যায়ে সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উন্নতি সম্ভব বলে মত চিকিৎসকদের।

/এসএ/