শিরোনাম

অনুমতি ছাড়া ছবি তুললেই কী শাস্তি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অনুমতি ছাড়া ছবি তুললেই কী শাস্তি?

অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশে আইনি জটিলতা বাড়ছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, মানহানি, ব্ল্যাকমেইল কিংবা হয়রানির অভিযোগে একাধিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে দুর্নীতি, অপরাধ বা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রমাণ হিসেবে কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।

স্মার্টফোনের ক্যামেরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারে ছবি-ভিডিও ধারণ এবং মুহূর্তেই অন্যের কাছে পাঠানো এখন খুব সহজ। কিন্তু প্রযুক্তির এই সুবিধার সঙ্গে বেড়েছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকিও।

সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ও গোপনীয় ছবি অনুমতি ছাড়া তার প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি।

বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। প্রায়ই ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ধারণ, সংরক্ষণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ সামনে আসে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অভিনেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও নিয়েও বিভিন্ন সময় তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দিলে পরিস্থিতি ও অভিযোগের ধরন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও প্রকাশের ক্ষেত্রে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬, দণ্ডবিধি-১৮৬০ কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু কোনো ছবি ‘অশ্লীল’ কি না, সেটিই আইনি বিবেচনার একমাত্র বিষয় নয়। ছবি বা ভিডিও প্রকাশের কারণে কেউ সামাজিকভাবে হেয়, অপমানিত কিংবা মানহানির শিকার হলে সেখান থেকেও আইনি প্রতিকার চাইতে পারে ভুক্তভোগী। এছাড়াও কোনো ব্যক্তির ছবির সঙ্গে মানহানিকর ক্যাপশন বা বক্তব্য যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলেও দণ্ডবিধির অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

ইশরাত হাসান বলেন, পাবলিক প্লেসে ধারণ করা কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আপত্তি জানাতে পারেন। ক্ষতির প্রমাণ থাকলে দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কোনো ছবি বা ভিডিও যদি দুর্নীতি, ঘুষ, ধর্ষণ কিংবা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ হিসেবে সামনে আসে, তাহলে আদালত সেটির উদ্দেশ্য ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। অর্থাৎ, কারও ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে ধারণ করা ভিডিও এবং কোনো অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ধারণ করা ভিডিওকে একইভাবে দেখা হবে না।আদালত প্রয়োজনে ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্য, জনস্বার্থ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষতি এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকিও নতুন রূপ পেয়েছে। এখন আসল ছবি বা ভিডিওর পাশাপাশি এআই ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি-ভিডিও দিয়েও কাউকে হয়রানি বা ব্ল্যাকমেইল করা সম্ভব।

আইনজীবীদের মতে, আসল বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে কাউকে ব্ল্যাকমেইল করলে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।

/এসবি/