শিরোনাম

বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ

বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বর্তমানে দেশের অর্থনীতি বহুমুখী চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, পোশাক রপ্তানিতে ধস, বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতাশাজনক। এই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করানোসহ নানা ক্ষেত্রে নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা ও কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার রূপরেখায় অর্থনীতিকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের সদিচ্ছার ইঙ্গিত প্রশংসনীয়। তবে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ থাকায় বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদেরা।

নানা কারণে বিএনপি সরকারের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটকে অনেকে বলছেন উচ্চাভিলাষী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরও এই বাজেট বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতিতে বিদ্যমান নানা সংকটের কারণে এই বাজেট বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন হবে। কারণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে না সরকার। আর বাজেটে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা পাওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি অর্জন করাও সম্ভব হবে না। এতে অভ্যন্তরীণ খাতে চাপ বাড়বে। তাই এই বাজেট বাস্তবায়নে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ আছে। এসব চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করা হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় এই বাজেট কেবলই একগুচ্ছ সংখ্যার খতিয়ান নয়, বরং সাধারণ মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ের সঙ্গে এর গভীর সংযোগ রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা আর দেশীয় বাজারের অস্থিরতার কারণে এবারের বাজেট বাস্তবায়ন করা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জটিল। খাতা-কলমে উন্নয়ন আর প্রবৃদ্ধির যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাস্তবে রূপ দিতে গেলে সরকারকে বেশ কিছু বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

মোটাদাগে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর আদায়ে বাড়তি চাপ, বিদেশি ঋণ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা, নতুন কমসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারা, ডলার সংকট ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও অপচয়।

প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, জনমুখী এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সম্পদ সংগ্রহ, সঠিক বরাদ্দ, কার্যকর তদারকি এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন। সরকারের উচিত অগ্রাধিকারভিত্তিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ শুরু করা।

বাজেটের আকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বড় বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বাজেট বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা, ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা এবং প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কোয়ালিটি, সময়ানুবর্তিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করে তা বাস্তবায়নের ওপর। এই বিষয়গুলোই আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

চ্যালেঞ্জ

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষাসহ নানা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন নানা কারণে প্রায় অসম্ভব। উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা’নেই সরকারের। এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো হলো;

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ

বর্তমানে সাধারণ মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সংকট বাজার সিন্ডিকেট আর নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দাম। মাছ, মাংস, ডাল কিংবা ওষুধের দাম যেভাবে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনাই হবে এই বাজেটের প্রথম এবং প্রধান পরীক্ষা। কারণ বাজার স্থিতিশীল না হলে বাজেটের অন্যান্য সাফল্য ফিকে হয়ে যাবে।

সরকার একদিকে মূল্যস্ফীতি ৯-১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে আনতে চায়, অন্যদিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬.৭ শতাংশ । অর্থনীতির নিয়মানুযায়ী এই দুটি লক্ষ্য সাংঘর্ষিক। মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে সুদের হার বাড়াতে হবে এবং টাকার সরবরাহ কমাতে হবে, যা প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। আবার প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চাইলে সম্প্রসারণমূলক নীতি বা বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে।

কর আদায়ের বাড়তি চাপ

এক বছরের মধ্যে প্রস্তাবিত বিশাল পরিকল্পনা বা খাতগুলো বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হলো সম্পদের (অর্থের) সীমাবদ্ধতা। রাজস্ব আদায় বাড়াতে না পারলে এটি অসম্ভব।

বাজেটের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো অবাস্তব রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা। বাজেটের বিশাল খরচ মেটানোর জন্য প্রতিবছরই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের বাজেটের ৮০-৮৫ ভাগের বেশি বাস্তবায়ন হয় না। এর মূল কারণ রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি (যেমন— প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে বা ভূমি অধিগ্রহণে দেরি হওয়া)। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে, তা আরও বিশাল আকার ধারন করবে।

ঋণের ওপর নির্ভরতা ও শর্তের চাপ

সরকার ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্নয়ন সহায়তা কমে যাচ্ছে। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বা নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর সুদের হার বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং রেয়াতি সময় বা গ্রেস পিরিয়ডও কম। ফলে এটি সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

অপরদিকে, আইএমএফ বা অন্যান্য সংস্থার ঋণ পেতে কঠোর শর্ত ও দীর্ঘমেয়াদি দরকষাকষির প্রয়োজন হয়। তারপরেও বিদেশি ঋণ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয় বলে রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ে। ফলে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি ঋণ না পেলে বাজেট বাস্তবায়ন হোঁচট খাবে।

ডলারের টানাপোড়েন ও রিজার্ভের সংকট

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, সার ও শিল্পের কাঁচামাল কেনার জন্য প্রচুর ডলারের প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যে চাপ রয়েছে, তা যদি দ্রুত সামাল দেওয়া না যায়, তবে দেশের ভেতরে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের আয়ে।

কর্মসংস্থান ও তরুণদের ভবিষ্যৎ

প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগ থমকে থাকায় ভালো চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। ব্যাংক ঋণ এবং ডলার সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন করে শিল্পকারখানা খুলতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য একটি বড় বাধা।

প্রকল্পের ধীরগতি ও জনগণের টাকার অপচয়

রাস্তাঘাট বা মেগা প্রজেক্টের কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা খরচ বাড়তে থাকে । এই অপচয় আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

উত্তরণের পথ কী

কঠিন বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে এই সুযোগকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।

সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এই বাজেট কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটের সুফল মানুষের জীবনে পৌঁছে দিতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি;

বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ

কৃত্রিম উপায়ে যারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে, তাদের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিধি প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে, যেন কোনো পরিবারকে না খেয়ে থাকতে না হয়।

ধনী ও ফাঁকিবাজদের করের আওতায় আনা

সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা আর না বাড়িয়ে, যারা কোটি টাকা আয় করেও কর ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। কর আদায়ের পুরো ব্যবস্থা ডিজিটাল করা হলে দুর্নীতি কমবে এবং কোষাগারে আরও বেশি অর্থ জমা হবে।

অপচয় ও বিলাসিতা বন্ধে কঠোরতা

সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকল্পগুলোর অপ্রয়োজনীয় খরচ, বিলাসবহুল গাড়ি কেনা বা বিদেশ ভ্রমণের মতো খাতে ব্যয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এ খাতের সাশ্রয় হওয়া টাকা সরাসরি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ দিতে হবে।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও খেলাপি ঋণ আদায়

দেশের ব্যাংকিং খাতকে সচল করতে হলে প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে হবে। সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যেন সহজে এবং কম সুদে ঋণ পেয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

কৃষি ও স্থানীয় উৎপাদনের সুরক্ষা

দেশের কৃষকরাই আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার মেরুদণ্ড। তাই সার, বীজ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা কোনোভাবেই কমানো যাবে না। দেশের উৎপাদন ঠিক থাকলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডলার সংকট আপনাআপনি কেটে যাবে।

কৌশলগত অগ্রাধিকারের খাত

ব্যবসায়ী ও বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে এলএনজি আমদানি বা সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটিয়ে জ্বালানি সংকটের সমাধান করতে হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং সেই বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নতুন করে মেগা প্রজেক্ট বা বড় অবকাঠামো হাতে না নিয়ে, বর্তমানে যে গ্রামীণ বা ছোট রাস্তাগুলো আছে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দিকে নজর দিতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও তদারকি

আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর প্রায় সবকটিতেই সুশাসন ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। প্রকল্প সময়মতো শুরু করতে দেরি হয় এবং বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য বা শিক্ষা খাতের মতো জায়গায় অর্থ সঠিকভাবে ও দ্রুত ব্যয় করা যায় না।

এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাময়িক রিপোর্ট বা পরিকল্পনা কমিশনের মাঝে মাঝে মিটিংয়ের ওপর ভরসা না করে, অন্তত তিন মাস পর পর সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড ধরে প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। যেকোনো প্রকল্প সফল করতে দক্ষ ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায়

বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চমূল্যস্ফীতি অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জনে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন। সেটা অর্জন করতে হলে ভালো পদক্ষেপ নিতে হবে। বাস্তবসম্মত মুদ্রানীতি অবলম্বন করতে হবে। বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। বিশেষ করে চাল সরবরাহ চেইনে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানিসংকটেরও সমাধান প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই এখন চাপে রয়েছে। যদিও রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো দুর্বল। ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বাড়ার ঝুঁকির আশঙ্কাও আছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গিয়ে বিনিয়োগ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে উন্নয়ন ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কৌশল স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি ঋণ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে ঋণের চাপ আরও বাড়বে।

/বিবি/