শিরোনাম

উপজেলা পর্যায়ে যাচ্ছে গণপূর্তের কার্যক্রম

উপজেলা পর্যায়ে যাচ্ছে গণপূর্তের কার্যক্রম

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্বে থাকা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তর এবার উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানী ও জেলা শহরকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় দাপ্তরিক কাজ শুরু করতে চায় সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে জনবল নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস’ অনুযায়ী সারা দেশে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সরকারি ভবন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে সংস্থাটির কাজের পরিধি বাড়লেও সে তুলনায় জনবল বাড়েনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে ১০টি সিভিল ও ৩টি ই/এম জোন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সদর দপ্তরের ৪টিসহ সংস্থাটির মোট জোন সংখ্যা ১৭টি। প্রতিটি জোনের অধীনে রয়েছে এক বা একাধিক সার্কেল এবং সবগুলো সার্কেলের আওতায় জেলা পর্যায়ে বিভাগ ও উপবিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে অধিদপ্তরটিতে ১ হাজার ৩৮ জন বিসিএস ক্যাডার প্রকৌশলীসহ মোট ২ হাজার ৪০৩ জন প্রকৌশলী কর্মরত রয়েছেন। তবে জেলা সদর থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় দূরবর্তী উপজেলার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ তদারকিতে বাড়তি সময়, ব্যয় ও জনবল সংকটের মতো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, উপজেলা পর্যায়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, অফিস সহায়ক, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান ও এসি মেকানিক পদে জনবল নিয়োগ করা গেলে নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রেখে টেকসই অবকাঠামো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এজন্য ন্যূনতম এক হাজার ৪৭৫টি পদ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত ভবন, পুলিশ স্থাপনা, সরকারি বাসভবন, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামোর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ৫৬০ মডেল মসজিদ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত দুই দশকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ত্রুটি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সরকারি স্থাপনা নির্মাণে গুনগত মান রক্ষায় তুলনামূলক কিছুটা এগিয়ে আছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ কারণে উপজেলা পর্যায়ে সংস্থাটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগকে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার (১৯ মে) গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘আমাদের সেবার মান উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের যে দক্ষ জনবল রয়েছে তা দিয়ে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে তৃণমূল পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে চাই।’

/এসএ/