শিরোনাম

পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউজিসি কোনো পার্থক্য করে না: চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউজিসি কোনো পার্থক্য করে না: চেয়ারম্যান
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কোনো পার্থক্য করে না বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে এবং উন্নতির চেষ্টা করছে, ইউজিসি তাদের এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণ ২০২৬ ও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইউজিসি শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহায়তা দিতে চায়। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউজিসির কোনো বৈষম্য নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও মানোন্নয়নের প্রচেষ্টার ভিত্তিতেই সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটলেও মানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা চাকরির বাজার ও বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই শিক্ষাকে জীবন ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) ও একাডেমিক প্রশাসনের দায়িত্ব প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আইনে তাদের দায়িত্ব ও এখতিয়ার নির্ধারিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও এখতিয়ারের মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করতে হবে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগও বাড়ানো প্রয়োজন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট কমানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউজিসির সুপারিশে সরকার ভ্যাট ৫ শতাংশ কমিয়েছে। আগামী বছর আরও ৫ শতাংশ কমানোর জন্য ইউজিসি কাজ করছে। ভ্যাট কমানোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে আর্থিক সুযোগ তৈরি হবে, তা শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

গবেষণার ক্ষেত্রেও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান সুযোগের কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নের সময় বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারি না বেসরকারি, পুরোনো না নতুন তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। গবেষণার প্রস্তাবের মেধা ও গুণগত মানই হবে মূল বিবেচ্য। দেশের বাস্তব সমস্যা ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ সমাধানে উদ্ভাবনী গবেষণায় ইউজিসি সহযোগিতা করবে।

শিক্ষার্থীদের মুক্তবুদ্ধির চর্চার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তভাবে কথা বলা, জ্ঞানচর্চা ও মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। তবে মতপ্রকাশ ও জ্ঞানচর্চা অবারিত নয়; এর সঙ্গে দায়িত্ববোধও থাকতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মুক্তবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে একটি সুস্থ একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু মেধা দিয়ে সফল হওয়া যায় না। এর সঙ্গে পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অঙ্গীকার প্রয়োজন। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও অংশ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, কর্মক্ষেত্র ও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানবসম্পদ। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনে বিনিয়োগ করা হলে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। চাকরির সুযোগ সীমিত হলেও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান, ডিন অধ্যাপক ড. অনুপ চৌধুরীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিওটি সদস্য ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

/জেএইচ/