শিরোনাম

অনিয়মের অভিযোগে যবিপ্রবির ১১ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
অনিয়মের অভিযোগে যবিপ্রবির ১১ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

অনিয়মের অভিযোগে বৈশ্বিক জার্নাল থেকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে। এ তালিকায় নাম রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য মো. আবদুল মজিদের।

২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যবিপ্রবির চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান আবদুল মজিদ। একই বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিন্দাউইয়ে থেকে তার দুইটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়। তিনি এ দুইটি গবেষণাপত্রের সহলেখক ছিলেন।

প্রত্যাহার হওয়া একটি গবেষণায় দেশে উৎপাদিত শজনে বীজের নির্যাসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছিলো। অন্য গবেষণায় সেলুলোজভিত্তিক বিশেষ ন্যানোকম্পোজিট ব্যবহার করে ক্ষতিকর উপাদান দূর করা এবং জৈব অণু সুরক্ষায় এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বিশ্বের সুপরিচিত জার্নাল বা সাময়িকীগুলো অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করে। গবেষকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবদুল মজিদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়নি। আমি গবেষণায় শুধু ধারণাগত বা আইডিয়া শেয়ারের কাজে যুক্ত ছিলাম।

অবশ্য জার্নাল কর্তৃপক্ষের তদন্তে গুরুতর অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে হিন্দাউই জানায়, পরীক্ষাগারের প্রয়োজনীয় বাস্তব পরীক্ষা না চালিয়েই গবেষণার তথ্য ও ফলাফল তৈরি করা হয়েছিলো। এসব তথ্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

শুধু তা-ই নয়, গবেষণাপত্র দুইটি ‘পেপার মিল’-এর মাধ্যমে তৈরি বা কেনা হয়েছিল বলেও তদন্তে বলা হয়। পেপার মিল বলতে এমন একটি চক্রকে বোঝায়, যারা অর্থের বিনিময়ে গবেষণাপত্র তৈরি, বিক্রি বা প্রকাশের ব্যবস্থা করে।

২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত যবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নাম থাকা ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়। এরপর গত মে মাসে আরও একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১১।

গবেষণাপত্র যাচাইয়ের আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ আনে হিন্দাউই। তাদের তদন্তে বলা হয়, নিরপেক্ষ বিজ্ঞানীদের দিয়ে গবেষণাপত্র যাচাইয়ের যে পিয়ার-রিভিউ প্রক্রিয়া রয়েছে, সেখানে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিলো।

হিন্দাউই বলছে, লেখকদের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়।

২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত যবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নাম থাকা ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়। এরপর গত মে মাসে আরও একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম থাকা প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রত্যাহার সম্পর্কে আবদুল মজিদ বলেন, ‘আমি দু-একটি গবেষণা প্রত্যাহারের কথা শুনেছিলাম। তবে যাদের এই সমস্যা ছিল, তাদের গবেষণার জন্য পুরস্কার দেওয়া বা এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করিনি।’

/এসআর/