শিরোনাম

ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগের ঘোষণা

ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগের ঘোষণা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, তিনি একটি আপদকালীন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই আপদকালীন সময় এখন আর নেই। তাই তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান এবং শিক্ষকতায় ফিরে যেতে চান।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপাচার্য।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আমরা একটি ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। সে সময় প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় অচল ছিল এবং আবাসিক হলগুলো ছিল ভাসমান অবস্থায়। ওই পরিস্থিতিতে আমাদের প্রথম কাজ ছিল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা এবং ক্যাম্পাসকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

উপাচার্য বলেন, দেড় বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় এখন মোটামুটি একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যে আপদকালীন ও বিশেষ পরিস্থিতিতে আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম, সেই আপদকালীন সময় এখন আর নাই। সুতরাং এখন আমি সরে দাঁড়াতে চাচ্ছি।

তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতা যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য একটি স্মুথ ট্রানজিশন প্রয়োজন। এ কারণে সরকার যদি তাকে আরও কিছু সময় দায়িত্বে রাখতে চায়, তাহলে তিনি সেটি বিবেচনা করতে রাজি আছেন।

তিনি বলেন, আমরা এখন সারা দেশের মতোই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেবেন এবং আমরা তাদের পূর্ণ সমর্থন করবো।

সরে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপাচার্য জানান, তিনি এই দায়িত্বকে কখনোই নিয়মিত চাকরি হিসেবে দেখেননি। এই দায়িত্ব তার কাছে একটি আমানতের মতো ছিল। তার ভাষায়, তিনি সরে দাঁড়াতে চান, যাতে রাজনৈতিক সরকার তাদের মতো করে প্রশাসন সাজাতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে তিনি যেকোনো সময় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, আমি ডেপুটেশন থেকে অব্যাহতি চাই এবং আমার মূল কাজে, অর্থাৎ শিক্ষকতায় ফিরে চাই। ভবিষ্যতে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি তখন তা বিবেচনা করবেন বলেও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে দায়িত্বকালীন অর্জন প্রসঙ্গে উপাচার্য জানান, তারা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরেছেন কি না। এ ক্ষেত্রে তিনি তিনটি বিষয় তুলে ধরেন। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কার্যকর হয়েছে এবং ডাকসু ও হল সংসদগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দ্বিতীয়ত, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয়েছে; বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৭ শতাংশ বেড়েছে এবং গবেষণার পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতিহাসের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের বড় অংশের সমাধান হবে।

/জেএইচ/