শিরোনাম

আইন ভাঙলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ইউজিসি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
আইন ভাঙলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ইউজিসি চেয়ারম্যান
সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও নীতিমালা মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। একইসঙ্গে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুসরণে ব্যত্যয় কিংবা কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য না রেখে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউজিসি কাজ করছে। শিক্ষার্থীর সাফল্য নির্ভর করে সে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে তার চেয়ে বেশি- সে কী শিখছে, কী ধরনের দক্ষতা অর্জন করছে এবং নিজেকে কর্মক্ষেত্রের জন্য কতটা প্রস্তুত করছে তার ওপর।

তিনি বলেন, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের জ্ঞান ও তথ্য এখন শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় নতুন না পুরোনো, সেটি নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও গবেষণায় নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা হয়েছে, সেটি মুখ্য নয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে এবং ইউজিসি তাদের সবার অভিভাবক। সরকারি-বেসরকারি, পুরোনো-নতুন কিংবা প্রকৌশল-কৃষি-কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই বৈষম্য করা হবে না। পারস্পরিক যোগাযোগ, জ্ঞান বিনিময় ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সমন্বিত উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। আরও ৫ শতাংশ কমানোর জন্য সরকারের সঙ্গে ইউজিসি আলোচনা করছে। ভ্যাট কমার ফলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কল্যাণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ব্যয় করার প্রত্যাশা করছে কমিশন।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ট্রাস্টি বোর্ডের হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হবে শিক্ষার্থী, জ্ঞান, গবেষণা ও মুক্তচিন্তার কেন্দ্র। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রচলিত আইন, বিধি ও ইউজিসির নির্দেশনা অনুসরণ না করলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির প্রায় ২০ হাজার সাবেক শিক্ষার্থীর অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের প্রশংসা করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অ্যালামনাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ ও সহযোগিতা শিক্ষার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।

/এসবি/