শিরোনাম

শিগগিরই শিক্ষকরা পাচ্ছেন অবসরসুবিধার একাংশের টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিগগিরই শিক্ষকরা পাচ্ছেন অবসরসুবিধার একাংশের টাকা
টাকা

আবেদনকারী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধার একাংশের টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এতে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার টাকা পেতে ভোগান্তি কমবে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, চাকরিকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে মাসে যে টাকা কেটে রাখা হয়েছে, মূলত সেই অর্থ এখন দেওয়া হবে। বাকি টাকা পরে আবেদনের ক্রমিক অনুযায়ী দেওয়া হবে। আপাতত একেকজন শিক্ষক অবসরসুবিধার জন্য সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং কল্যাণসুবিধার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পর্যন্ত পাবেন। তবে গ্রেড অনুযায়ী টাকার পরিমাণ কমবেশি হবে। এই প্রক্রিয়ায় কল্যাণসুবিধার জন্য গত ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন করা শিক্ষক-কর্মচারীরা এবং অবসরসুবিধার জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করা শিক্ষক-কর্মচারীরা এই সুবিধা পাবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার অবসরসুবিধার টাকা পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। এ জন্য খরচ হবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে কল্যাণসুবিধা দেওয়া হবে। এ জন্য লাগবে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা। একজন শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ও অবসর– এ দুই সুবিধাই পান।

এ বিষয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের একজন কর্মকর্তা বলেন, এখন আংশিক টাকা দেওয়া হবে। সরকার হয়তো পরে এ খাতে তহবিল দেবে। তখন বাকি টাকা দেওয়া হবে।

সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। তাদের অবসর ও কল্যাণসুবিধা পরিচালিত হয় দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট কল্যাণসুবিধার অর্থ দেয়। আর অবসরসুবিধার অর্থ দেয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড।

শিক্ষকদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা থাকা টাকার সুদ এবং মাঝেমধ্যে সরকারের দেওয়া থোক বরাদ্দ ও বন্ড সুবিধার ভিত্তিতে এই টাকা দেওয়া হয়। অবসরসুবিধার জন্য চাকরিকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ প্রতি মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণসুবিধার জন্য কাটা হয় আরও ৪ শতাংশ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে অবসরসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হতো। এ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরসুবিধা ও ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধা তহবিলে জমা হয়। বাকি অর্থ সরকার এবং জমা করা অর্থের সুদ থেকে সমন্বয় করা হয়।

সূত্রমতে, অধ্যক্ষদের ক্ষেত্রে অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধা হিসেবে একজন অধ্যক্ষ মোট ২০ লাখের বেশি টাকা পান। অন্যদিকে মাধ্যমিকের একজন সহকারী শিক্ষক অবসরসুবিধা হিসেবে পান প্রায় ১৭ লাখ টাকা।

অবসরসুবিধা বোর্ডের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এখন আবেদনকারী প্রায় সব শিক্ষক-কর্মচারীই তাদের চাঁদার টাকার অংশ পাবেন। বাকি টাকা যখনই আসবে, তখনই তা দেওয়া হবে।

/এসআর/