শিরোনাম

রাতে পেট্রোল-অকটেন বিক্রি বন্ধ চান পাম্প মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাতে পেট্রোল-অকটেন বিক্রি বন্ধ চান পাম্প মালিকরা
রাজধানীর মগবাজারে সংবাদ সম্মেলনে নিজের দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক।

‘দুষ্টু লোকজনের বিশৃঙ্খলা’ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় রাতের বেলায় পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখতে চায় পেট্রোল পাম্প মালিকরা। এ জন্য সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই দুই জ্বালানি বিক্রির সময় নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাতের বেলায় পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। রাতে দুষ্টু ছেলে ও অসাধু লোকজনের আনাগোনা বাড়ে। এ কারণে আমরা বলছি, রাতের বেলায় পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখা হোক।

মিরপুরে সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের সামনেজ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
মিরপুরে সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের সামনেজ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

তবে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে জানান তিনি, যাতে বাস-ট্রাকসহ গণপরিবহন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে।

সংবাদ সম্মেলনে পাম্প মালিকরা আরও কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে– পাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাস্তবতার ভিত্তিতে তেল সরবরাহ বাড়ানো, সরকারি মনিটরিং জোরদার করা এবং ট্যাংক লরি পূর্ণ ধারণক্ষমতায় তেল সরবরাহ করা।

নাজমুল হক বলেন, ট্যাংক লরিতে আংশিক তেল দিলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। তাই প্রতিটি লরিতে পূর্ণ পরিমাণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

তেলের সংকট না থাকার সরকারি বক্তব্যের বিপরীতে পাম্পগুলোতে তেল না পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এটা এক ধরনের প্যানিক বায়িং। আগে যে পাম্পে দৈনিক ৫ হাজার লিটার বিক্রি হতো, এখন সেখানে ২৫ হাজার লিটার চাহিদা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন এক মোটরসাইকেল চালক। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন এক মোটরসাইকেল চালক। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

তিনি আরও দাবি করেন, পাম্পের ট্যাংক পুরোপুরি খালি হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে তেল সরবরাহে কারিগরি জটিলতা (এয়ার লক) তৈরি হয়। এ কারণে কিছু তেল রেখে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়।

তবে তেল মজুত বা কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে নাজমুল হক বলেন, কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বর্তমানে দেশে মোট ২ হাজার ৩২৯টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ১৯৮টি চালু আছে বলে জানান তিনি। বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

/এসএ/