শিরোনাম

জবাবদিহিমূলক সরকার ছাড়া পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে না: আমির খসরু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জবাবদিহিমূলক সরকার ছাড়া পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে না: আমির খসরু
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত সেমিনারে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও পুঁজিবাজারের অচলাবস্থার মূল কারণ হলো জবাবদিহির অভাব। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নির্বাচিত সরকার ছাড়া এসব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এখন দেশের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, যাতে নাগরিকরা সংসদে নিজেদের প্রকৃত প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারে।

জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র‍্যাপিড-এর চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. এম এ রাজ্জাক। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন– মো. সাইফুদ্দিন, কমিশনার, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি); মাসরুর আরেফিন, চেয়ারম্যান, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সিটি ব্যাংক।

সেমিনারে আমির খসরু বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারই কেবল জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হয় এবং এই জবাবদিহির মাধ্যমেই অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। আমরা যেসব সমস্যার কথা বলছি, তার প্রায় সবকটির মূলেই রয়েছে জবাবদিহির ঘাটতি।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে পুঁজিবাজার নিয়ে প্রত্যাশা এখন ‘আকাশচুম্বী’। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বাজারের অংশীজনরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। অথচ একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পুঁজিবাজার ছাড়া টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি আমানতের বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পুঁজিবাজার সচল না থাকায় অনেকেই বেপরোয়া ঋণ নিয়েছে, যার একটি অংশ শিল্পে বিনিয়োগ হলেও বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। এর ফলেই আজ পুরো আর্থিক খাত চরম সংকটে।

আঞ্চলিক তুলনা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, ভারতে পুঁজিবাজারের বাজারমূলধন জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানে প্রায় ৪০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে এই অনুপাত ১০ শতাংশেরও কম। একটি কার্যকর পুঁজিবাজার ছাড়া অর্থনীতি এতদূর এগিয়ে এসেছে– এটা যেমন বিস্ময়কর, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেপি মরগানের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বন্ড ইস্যুতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বহু ফান্ড ম্যানেজার, এমনকী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছেন। তবে বিনিয়োগে প্রধান বাধা হিসেবে তিনি নির্বাচনের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দায়বদ্ধ সরকার গঠিত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে।

/এফসি/