সীমান্তে চীনের ১১ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, সক্ষমতা গড়তে দিল্লির লাগবে এক দশক

সীমান্তে চীনের ১১ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, সক্ষমতা গড়তে দিল্লির লাগবে এক দশক
সিজেডএন ডেস্ক

ভারতের সীমান্তসংলগ্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের উত্তর সীমান্তে উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে চীনের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো প্রদর্শনী নয়; বরং তা নিয়মিত সামরিক কৌশলের অংশে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত হতে এখনো অন্তত এক দশক সময় লাগতে পারে।
মার্কিন মহাকাশ গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, চলতি বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ ও জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের দিকে মুখ করে থাকা চীনের দুটি বিমানঘাঁটিতে মোট ১১টি জে-২০ যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল।
৯ জুলাই ধারণ করা একটি ছবিতে দেখা যায়, চীনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোতান বিমানঘাঁটিতে রানওয়ের পাশে সাতটি জে-২০ যুদ্ধবিমান রয়েছে। বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত এই ঘাঁটি লাদাখের লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৌলত বেগ ওল্ডি ঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত সংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমান আগে দেখা যায়নি।
আরেকটি স্যাটেলাইট ছবিতে তিব্বতের লাসা প্রশাসনিক অঞ্চলের ডামশুং বিমানঘাঁটির ফ্লাইটলাইনে চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। এই ঘাঁটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।
ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর যোশি বলেন, হোতানে সাতটি এবং ডামশুংয়ে চারটি জে-২০ মোতায়েন থাকার অর্থ হলো, ভারতের দিকে মুখ করে থাকা উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের (পিএলএএফ) নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এটি আর কেবল শক্তি প্রদর্শনের বিষয় নয়।
তার ভাষায়, ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য উত্তর সীমান্তে কম রাডারে ধরা পড়ে এমন স্টেলথ হুমকি এখন নতুন বাস্তবতা। এ পরিস্থিতিতে স্টেলথবিরোধী সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা দ্রুত জোরদার করা প্রয়োজন।
জে-২০ যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্টেলথ প্রযুক্তি। বিশেষ নকশার কারণে এটি রাডারে তুলনামূলক কম শনাক্ত হয়, ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আকাশসীমায় কৌশলগত সুবিধা পায়। বিপরীতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বর্তমান বহরে থাকা রাফালসহ অন্যান্য যুদ্ধবিমান স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন নয়।
ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এগোলেও এটি বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে চীনের জে-২০ বহরের দ্রুত সম্প্রসারণও সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। দ্য ওয়ার জোন–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে যেখানে জে-২০-এর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০টি, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ২০০-তে পৌঁছায়। এরপর উৎপাদনের গতি আরও বৃদ্ধি পায়।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে বছরে প্রায় ১২০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান উৎপাদন করছিল চীন। ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি দেশটির বিমানবাহিনীর এক ডজনের বেশি ইউনিটে মোট ৩০০ থেকে ৫০০টি জে-২০ যুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (RUSI) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের জে-২০ বহরের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছাতে পারে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) নর্মদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, বছরে ১২৫টি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা চীনের উন্নত শিল্পব্যবস্থা ও সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলেরই প্রতিফলন। তার মতে, যুদ্ধবিমান উৎপাদনে তারা এমন গতি অর্জন করেছে, যা অনেকটা বাণিজ্যিক যাত্রীবিমান তৈরির হারের সঙ্গে তুলনীয়।
তিনি আরও বলেন, চীন দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করে দক্ষ জনবল ও শিল্পভিত্তি গড়ে তুলেছে। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকেই তারা বিমানশক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে আসছে।
এনডিটিভির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত এক দশকে ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে জে-২০-এর উপস্থিতি ধাপে ধাপে বেড়েছে। ২০১৬ সালে প্রথম তিব্বতের দাওচেং ইয়াডিং বিমানবন্দরে একটি জে-২০ দেখা যায়। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে সিকিম সীমান্তের কাছাকাছি শিগাতসে বিমানঘাঁটিতেও এ ধরনের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর প্রকাশিত হয়।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান, যা হরিয়ানার আম্বালা ও পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারা ঘাঁটির দুটি স্কোয়াড্রনে মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে আরও ২৬টি রাফাল কেনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল কেনার বিষয়ে ফরাসি নির্মাতা দাসোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ৩৬ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।
এ ছাড়া ভারতের হাতে ২৬০টির বেশি রুশ নকশার সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান রয়েছে, যেগুলোর বড় ধরনের আধুনিকায়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি। পাশাপাশি মিরাজ-২০০০ ও মিগ-২৯-এর মতো পুরোনো যুদ্ধবিমানও এখনো বহরে রয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ভারতের সীমান্তসংলগ্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের উত্তর সীমান্তে উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে চীনের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো প্রদর্শনী নয়; বরং তা নিয়মিত সামরিক কৌশলের অংশে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত হতে এখনো অন্তত এক দশক সময় লাগতে পারে।
মার্কিন মহাকাশ গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, চলতি বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ ও জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের দিকে মুখ করে থাকা চীনের দুটি বিমানঘাঁটিতে মোট ১১টি জে-২০ যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল।
৯ জুলাই ধারণ করা একটি ছবিতে দেখা যায়, চীনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোতান বিমানঘাঁটিতে রানওয়ের পাশে সাতটি জে-২০ যুদ্ধবিমান রয়েছে। বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত এই ঘাঁটি লাদাখের লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৌলত বেগ ওল্ডি ঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত সংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমান আগে দেখা যায়নি।
আরেকটি স্যাটেলাইট ছবিতে তিব্বতের লাসা প্রশাসনিক অঞ্চলের ডামশুং বিমানঘাঁটির ফ্লাইটলাইনে চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। এই ঘাঁটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।
ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর যোশি বলেন, হোতানে সাতটি এবং ডামশুংয়ে চারটি জে-২০ মোতায়েন থাকার অর্থ হলো, ভারতের দিকে মুখ করে থাকা উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের (পিএলএএফ) নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এটি আর কেবল শক্তি প্রদর্শনের বিষয় নয়।
তার ভাষায়, ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য উত্তর সীমান্তে কম রাডারে ধরা পড়ে এমন স্টেলথ হুমকি এখন নতুন বাস্তবতা। এ পরিস্থিতিতে স্টেলথবিরোধী সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা দ্রুত জোরদার করা প্রয়োজন।
জে-২০ যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্টেলথ প্রযুক্তি। বিশেষ নকশার কারণে এটি রাডারে তুলনামূলক কম শনাক্ত হয়, ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আকাশসীমায় কৌশলগত সুবিধা পায়। বিপরীতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বর্তমান বহরে থাকা রাফালসহ অন্যান্য যুদ্ধবিমান স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন নয়।
ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এগোলেও এটি বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে চীনের জে-২০ বহরের দ্রুত সম্প্রসারণও সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। দ্য ওয়ার জোন–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে যেখানে জে-২০-এর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০টি, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ২০০-তে পৌঁছায়। এরপর উৎপাদনের গতি আরও বৃদ্ধি পায়।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে বছরে প্রায় ১২০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান উৎপাদন করছিল চীন। ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি দেশটির বিমানবাহিনীর এক ডজনের বেশি ইউনিটে মোট ৩০০ থেকে ৫০০টি জে-২০ যুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (RUSI) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের জে-২০ বহরের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছাতে পারে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) নর্মদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, বছরে ১২৫টি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা চীনের উন্নত শিল্পব্যবস্থা ও সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলেরই প্রতিফলন। তার মতে, যুদ্ধবিমান উৎপাদনে তারা এমন গতি অর্জন করেছে, যা অনেকটা বাণিজ্যিক যাত্রীবিমান তৈরির হারের সঙ্গে তুলনীয়।
তিনি আরও বলেন, চীন দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করে দক্ষ জনবল ও শিল্পভিত্তি গড়ে তুলেছে। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকেই তারা বিমানশক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে আসছে।
এনডিটিভির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত এক দশকে ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে জে-২০-এর উপস্থিতি ধাপে ধাপে বেড়েছে। ২০১৬ সালে প্রথম তিব্বতের দাওচেং ইয়াডিং বিমানবন্দরে একটি জে-২০ দেখা যায়। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে সিকিম সীমান্তের কাছাকাছি শিগাতসে বিমানঘাঁটিতেও এ ধরনের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর প্রকাশিত হয়।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান, যা হরিয়ানার আম্বালা ও পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারা ঘাঁটির দুটি স্কোয়াড্রনে মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে আরও ২৬টি রাফাল কেনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল কেনার বিষয়ে ফরাসি নির্মাতা দাসোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ৩৬ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।
এ ছাড়া ভারতের হাতে ২৬০টির বেশি রুশ নকশার সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান রয়েছে, যেগুলোর বড় ধরনের আধুনিকায়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি। পাশাপাশি মিরাজ-২০০০ ও মিগ-২৯-এর মতো পুরোনো যুদ্ধবিমানও এখনো বহরে রয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সীমান্তে চীনের ১১ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, সক্ষমতা গড়তে দিল্লির লাগবে এক দশক
সিজেডএন ডেস্ক

ভারতের সীমান্তসংলগ্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের উত্তর সীমান্তে উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে চীনের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো প্রদর্শনী নয়; বরং তা নিয়মিত সামরিক কৌশলের অংশে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত হতে এখনো অন্তত এক দশক সময় লাগতে পারে।
মার্কিন মহাকাশ গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, চলতি বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ ও জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের দিকে মুখ করে থাকা চীনের দুটি বিমানঘাঁটিতে মোট ১১টি জে-২০ যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল।
৯ জুলাই ধারণ করা একটি ছবিতে দেখা যায়, চীনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোতান বিমানঘাঁটিতে রানওয়ের পাশে সাতটি জে-২০ যুদ্ধবিমান রয়েছে। বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত এই ঘাঁটি লাদাখের লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৌলত বেগ ওল্ডি ঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত সংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমান আগে দেখা যায়নি।
আরেকটি স্যাটেলাইট ছবিতে তিব্বতের লাসা প্রশাসনিক অঞ্চলের ডামশুং বিমানঘাঁটির ফ্লাইটলাইনে চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। এই ঘাঁটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।
ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর যোশি বলেন, হোতানে সাতটি এবং ডামশুংয়ে চারটি জে-২০ মোতায়েন থাকার অর্থ হলো, ভারতের দিকে মুখ করে থাকা উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের (পিএলএএফ) নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এটি আর কেবল শক্তি প্রদর্শনের বিষয় নয়।
তার ভাষায়, ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য উত্তর সীমান্তে কম রাডারে ধরা পড়ে এমন স্টেলথ হুমকি এখন নতুন বাস্তবতা। এ পরিস্থিতিতে স্টেলথবিরোধী সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা দ্রুত জোরদার করা প্রয়োজন।
জে-২০ যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্টেলথ প্রযুক্তি। বিশেষ নকশার কারণে এটি রাডারে তুলনামূলক কম শনাক্ত হয়, ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আকাশসীমায় কৌশলগত সুবিধা পায়। বিপরীতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বর্তমান বহরে থাকা রাফালসহ অন্যান্য যুদ্ধবিমান স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন নয়।
ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এগোলেও এটি বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে চীনের জে-২০ বহরের দ্রুত সম্প্রসারণও সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। দ্য ওয়ার জোন–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে যেখানে জে-২০-এর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০টি, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ২০০-তে পৌঁছায়। এরপর উৎপাদনের গতি আরও বৃদ্ধি পায়।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে বছরে প্রায় ১২০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান উৎপাদন করছিল চীন। ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি দেশটির বিমানবাহিনীর এক ডজনের বেশি ইউনিটে মোট ৩০০ থেকে ৫০০টি জে-২০ যুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (RUSI) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের জে-২০ বহরের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছাতে পারে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) নর্মদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, বছরে ১২৫টি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা চীনের উন্নত শিল্পব্যবস্থা ও সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলেরই প্রতিফলন। তার মতে, যুদ্ধবিমান উৎপাদনে তারা এমন গতি অর্জন করেছে, যা অনেকটা বাণিজ্যিক যাত্রীবিমান তৈরির হারের সঙ্গে তুলনীয়।
তিনি আরও বলেন, চীন দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করে দক্ষ জনবল ও শিল্পভিত্তি গড়ে তুলেছে। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকেই তারা বিমানশক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে আসছে।
এনডিটিভির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত এক দশকে ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে জে-২০-এর উপস্থিতি ধাপে ধাপে বেড়েছে। ২০১৬ সালে প্রথম তিব্বতের দাওচেং ইয়াডিং বিমানবন্দরে একটি জে-২০ দেখা যায়। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে সিকিম সীমান্তের কাছাকাছি শিগাতসে বিমানঘাঁটিতেও এ ধরনের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর প্রকাশিত হয়।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান, যা হরিয়ানার আম্বালা ও পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারা ঘাঁটির দুটি স্কোয়াড্রনে মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে আরও ২৬টি রাফাল কেনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল কেনার বিষয়ে ফরাসি নির্মাতা দাসোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ৩৬ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।
এ ছাড়া ভারতের হাতে ২৬০টির বেশি রুশ নকশার সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান রয়েছে, যেগুলোর বড় ধরনের আধুনিকায়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি। পাশাপাশি মিরাজ-২০০০ ও মিগ-২৯-এর মতো পুরোনো যুদ্ধবিমানও এখনো বহরে রয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।








