শিরোনাম

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে আইন করছে সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে আইন করছে সরকার
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন–২০২৬’ এর খসড়া তৈরি করেছে সরকার।

সোমবার (২৭ জুলাই) খসড়াটি মতামতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আধুনিকায়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য এই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন অংশীজন ও সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে এটি উন্মুক্ত করা হয়েছে।

প্রকাশিত খসড়া বিলে বিদ্যমান আইনের বেশ কিছু ধারা সংশোধন এবং নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধ এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক সংস্থাসমূহের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মাত্রায় দেখা দেওয়া অপরাধসমূহকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে অপরাধের সংজ্ঞা প্রসারিত করা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে জেল-জরিমানার বিধান যুগোপযোগী করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিতকরণ এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান বেশ কিছু পুরোনো আইনি কাঠামো বর্তমান বাস্তবতায় অপর্যাপ্ত ছিল। প্রস্তাবিত খসড়া বিলে সেই ঘাটতিগুলো পূরণের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং আইনি প্রক্রিয়া সহজ করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

আইন সংস্কারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-বিশ্লেষকরা। তবে তারা বেশকিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। সেগুলো হলো:

  • গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ণ থাকে।
  • আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধে তদারকি সেল গঠন করা প্রয়োজন।
  • সাধারণ মানুষের মতামত ও আইন বিশেষজ্ঞদের সুপারিশগুলো চূড়ান্ত বিলে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

খসড়াটি মতামতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ করে খসড়াটি সংশোধন করা হবে। এরপর এটি মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হবে। সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ও সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনার পর পাস হলে রাষ্ট্রপতি অনুচ্ছায়নের মাধ্যমে তা গেজেট আকারে কার্যকর হবে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, গুমের মতো গুরুতর অপরাধ রোধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ প্রণয়ন ও খসড়া চূড়ান্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যা জাতীয় সংসদে আইন হিসেবে পাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের ‘সব ব্যক্তির জোরপূর্বক গুম হওয়া থেকে সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন’ অনুসমর্থন করেছে। গুমের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি স্বাধীন ‘গুম অনুসন্ধান কমিশন’ গঠন করা হয়েছে।

/এসবি/