শিরোনাম

গ্লোব জনকণ্ঠের সম্পদ নিলামে তুলছে জনতা ব্যাংক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
গ্লোব জনকণ্ঠের সম্পদ নিলামে তুলছে জনতা ব্যাংক
জনকণ্ঠ ভবন। ছবি: সংগৃহীত

গ্লোব জনকণ্ঠের সম্পদ নিলামে বিক্রির বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জনতা ব্যাংক। ২১৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি এ নিলাম ডেকেছে। নিলামে ওঠা সম্পদের মধ্যে ১৫ তলা ‘জনকণ্ঠ ভবন’ রয়েছে।

গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে এ বিজ্ঞাপ্তি প্রকাশিত হয়। আগ্রহী দরদাতাদের ২৮ মে দুপুর ২টার মধ্যে আদালতে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্যের (রিজার্ভ প্রাইস) ১০ শতাংশ পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে জমা দিতে হবে।

নিলামের সময় এই সংরক্ষিত মূল্য ঘোষণা করা হবে এবং আদালতের নিয়ম মেনেই দর উঠবে। তবে সম্পদ বিক্রির পর কোনো ধরনের বিরোধ দেখা দিলে ব্যাংক বা আদালত এর দায়ভার নেবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সুপারিশে ২০২১ সালে এই ঋণ দেওয়া হয়েছিল। জনতা ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখা থেকে ঋণ ছাড় করা হয়।

এর আগে ২০২০ সালের আগস্টে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দেন সালমান এফ রহমান। চিঠিতে গ্লোব জনকণ্ঠের জন্য ২৫০ কোটি টাকার চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণ মঞ্জুরের সুপারিশ করেন তিনি। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোম্পানিটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জনতা ব্যাংকের পর্ষদ গ্লোব জনকণ্ঠের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২২৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণের অনুমোদন দেয়। এর দুই মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংকও এই ঋণের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দেয়।

গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের অধীনে মোট ৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স, গ্লোব ইনসেক্টিসাইডস, গ্লোব কেবলস, গ্লোব প্রিন্টার্স, জনকণ্ঠ, গ্লোব কনস্ট্রাকশন, গ্লোব খামার প্রকল্প এবং গ্লোব টেকনোলজিস।

এর মধ্যে বর্তমানে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই নিষ্ক্রিয়। এ বিষয়ে গ্লোব জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মজিবুর রহমান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘অর্থঋণ আদালত আইন অনুযায়ী খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য প্রথমেই নিলামের মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়। তবে নিলামে সব সময় ভালো সাড়া মেলে না। ছোট ঋণের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে সাড়া পাওয়া যায়। এভাবে টাকা আদায় সম্ভব না হলে আইনের বিধান অনুযায়ী মামলা করতে হয়।’

/টিই/