শিরোনাম

বাংলাদেশ ব্যাংককে আল্টিমেটাম দিলো ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ব্যাংককে আল্টিমেটাম দিলো ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছেন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নূরুন্নবী মানিক। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

অভিজ্ঞ-পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১১ টায় রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে ২১তম দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।

এসময় ফোরামের সদস্য ও সাধারণ গ্রাহকেরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে এসেছে। কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তবে বছরের পর বছর ধরে চলা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে ব্যাংকটির ভাবমূর্তি ও আর্থিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তারা বলেন, ব্যাংকটির প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দক্ষতা, সততা ও পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান তারা।

ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নূরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি শুধু একটি ব্যাংক নয়, বরং কোটি গ্রাহকের আস্থা, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় শক্তি অপব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের বৈধ মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটি থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি চরম তারল্য ও আস্থার সংকটে ভুগছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকটির পরিচালনা ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের অপসারণের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় এসেছে।

নূরুন্নবী মানিক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ ইতিবাচক মনে হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি! যা ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাত দফা দাবি পূরণ হলে ইসলামী ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আসবে। একইসঙ্গে আমানতকারীদের আস্থার সংকট কেটে যাবে।

এসময় বাংলাদেশ ব্যাংককে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দেন তিনি।

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলো হলো-

  • ১.অবিলম্বে অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।
  • ২.২০১৭ সালে গায়ের জোরে ও রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের যেসকল শেয়ারহোল্ডারদের থেকে বৈধ মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।
  • ৩.ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং এস আলমসহ যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
  • ৪. ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করা এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে যেকোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকতে হবে।
  • ৫.ব্যাংকের লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও এস আলমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
  • ৬.ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধনের মাধ্যমে লুটেরাদের পুনরায় ব্যাংকে পুনর্বাসনের যে ছদ্মবেশী সুযোগ রাখা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
  • ৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং এস আলমের হাতে পুনরায় ব্যাংক তুলে দেওয়ার যে প্রচ্ছন্ন আভাস দেওয়া হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
/এসবি/