শিরোনাম

কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা মামলায় ইনুর রায় ৩০ জুন

আদালত প্রতিবেদক
আদালত প্রতিবেদক
কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা মামলায় ইনুর রায় ৩০ জুন
হাসানুল হক ইনু (মাঝে)

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় ধার্য করা হয়েছে ৩০ জুন।

সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ ঘোষণা দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।

এর আগে গত ১৪ মে ইনুর বিরুদ্ধে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। পরে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনু। বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, বাবলু ফরাজী ও ইউসুফ শেখ নিহত হন। এছাড়া আরও বহু নিরীহ মানুষ আহত হন। হাসানুল হক ইনু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন। তার প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ও বাস্তবায়ন করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে এসব অপরাধের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায় তার ওপরেও বর্তায়।

ওই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর টেলিফোনে বক্তব্যের রেকর্ড আদালতে তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন। যেখানে জাসদ সভাপতি গণআন্দোলনকে ‘জঙ্গিবাদ’ আখ্যা দিয়ে দমনের কথা বলেছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ডের কোথাও ‘আন্দোলন দমনে গুলি, বোম্বিং বা নির্যাতন করতে হবে এমন মন্তব্য নেই। প্রসিকিউশনের দাখিল করা নথিতেও ইনুর এমন বক্তব্য বা তথ্য নেই যে, তিনি আন্দোলন দমনে কাউকে গুলি করতে বা নির্যাতন করতে উস্কানি দিয়েছেন বা ষড়যন্ত্র করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনু আটক হন। পরে জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

/জেএইচ/