সম্পদে গ্রীন ডেল্টা, বিনিয়োগ ও মুনাফায় শীর্ষে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স

সম্পদে গ্রীন ডেল্টা, বিনিয়োগ ও মুনাফায় শীর্ষে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স
নিজস্ব প্রতিবেদক

নন-লাইফ ইনস্যুরেন্স বা সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে শীর্ষে আছে গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স। আর ৫৪১ কোটি টাকা মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স লিমিটেড মাইলফলক অর্জন করেছে।
দেশের ছয়টি নন-লাইফ বিমা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের সম্পদ বিবরণী যাচাই করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পাইওনিয়ার, রিলায়েন্স, সেনা, ক্রিস্টাল, সিটি জেনারেল এবং গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স।
প্রতিষ্ঠানগুলোর কর দেওয়ার পর নিট মুনাফা অর্জনের দিক দিয়ে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা আয় করে শীর্ষে আছে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স। রিলায়েন্সের তুলনায় পাইওনিয়ার ৪৪ কোটি টাকা কম মুনাফা করেও ২২ কোটি টাকা বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। অন্যদিকে গ্রীন ডেল্টা রিলায়েন্সের চেয়ে ২০ কোটি টাকা বেশি মুনাফা করেও ৪৪ কোটি টাকার বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। সবচেয়ে কম মাত্র ১৬ কোটি টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে সেনা ইনস্যুরেন্স ।
তবে সম্পদের বিপরীতে ৪৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ ও ৩১৯ কোটি টাকা এফডিআর করে শীর্ষে রয়েছে রিলায়েন্স । এদিকে গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ৫৪০ কোটি টাকার মোট প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১১৮ কোটি টাকা অবলোপন মুনাফা অর্জন করে শীর্ষে রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশাধ এবং প্রায় ৭০ কোটি টাকা নিট মুনাফায়ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রীন ডেল্টা ।
সম্পদের চিত্র
মোট সম্পদ বিবেচনায় ১ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স। এ ছাড়া পাইওনিয়ারের ৬৬১ কোটি টাকা, সিটির ২৪৫ কোটি টাকা, ক্রিস্টালে ২২৩ কোটি টাকা এবং সেনা ইনস্যুরেন্সের ২০৪ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
বিনিয়োগে দ্বিতীয় গ্রীন ডেল্টা
সম্পদ বিনিয়োগে রিলায়েন্সের ৪৬৯ কোটি টাকা পরে মোট সম্পদের মধ্যে ৪১০ কোটি টাকা বিনিযোগ করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রীন ডেল্টা। তবে গ্রীন ডেল্টার রিলায়েন্স থেকে ৩০ কোটি টাকার কম সম্পদ থাকলেও রিল্যায়েন্স ৫৯ কোটি টাকার সম্পদ বেশি বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া মোট সম্পদের মধ্যে পাইওনিয়ার ২৬৫ কোটি টাকা, সেনা ইন্সুরেন্স ১৭০ কোটি টাকা, সিটি ইন্সুরেন্স ১৬৮ কোটি টাকা এবং ক্রিস্টাল ইন্সুরেন্স ১৪৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানিক এফডিআরে দিক দিয়ে ৩১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে শীর্ষে রয়েছে রিলায়েন্স। বাকি সবার এফডিআর ১২০ থেকে ১৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
প্রিমিয়াম সংগ্রহের চিত্র
প্রকৃত প্রিমিয়াম সংগ্রহে শীর্ষে রয়েছে গ্রিন ডেল্টা। তার পরের অবস্থানে ২০৬ কোটি টাকা নিয়ে রয়েছে পাইওনিয়ার এবং ১৬০ কোটি টাকা নিয়ে রয়েছে রিলায়েন্স। বাকিদের প্রকৃত প্রিমিয়াম সেনার ৫০ কোটি, ক্রিস্টালের ৭০ কোটি এবং সিটি জেনারেলের ৬১ কোটি টাকা।
বিমা দাবি পরিশোধের চিত্র
মোট ও প্রকৃত প্রিমিয়াম সংগ্রেহের বিপরীতে ৩৯ কোটি টাকা করে বিমা দাবি পরিশোধ করেছে পাইওনিয়ার ও গ্রিন ডেল্টা। রিলায়েন্সও প্রায় ৩৬ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধ করেছে। ক্রিস্টাল ২৬ কোটি এবং সেনা প্রায় ১৭ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধ করে। আর সবচেয়ে কম ১০ কোটি টাকা বিমা দাবি পরিশোধ করেছে সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স।
ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের চিত্র
এদিকে মোট প্রিমিয়ামের সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় ৮৬ কোটি টাকা খরচ করেছে গ্রীন ডেল্টা। পাইওনিয়ার ইন্সুরেন্স ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা এবং রিলায়েন্স ৪২ কোটি টাকা। সবচেয়ে কম ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে সেনা ইন্সুরেন্স মাত্র ১৬ কোটি টাকা। ২২ কোটি ও ২৫ কোটি টাকা করে ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে ক্রিস্টাল ও সিটি জেনারেল। তবে পাইওনিয়ার রিলায়েন্স থেকে ৪৪ কোটি টাকা কম মুনাফা করেও ২২ কোটি বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। আবার গ্রিন ডেল্টা রিলায়েন্স থেকেও ২০ কোটি টাকা কম মুনাফা করে ৪৪ কোটি টাকার বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে।
মুনাফার চিত্র
এদিকে সিটি জেনারেল ২৩ কোটি টাকার বেশি আয় করলেও সেনা ইনস্যুরেন্স আয় করেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। তবে ক্রিস্টাল ইনস্যুরেন্সের আয় প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘দ্রুত বিমা দাবি পরিশোধ করাই আমাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তবে আমরা বিশ্বের ‘এ রেটেড’ কোম্পানির সাথেও কাজ করছি।’ ভালো ব্যবস্থাপনা ও সততার দৃষ্টান্ত নিয়ে কাজ করছে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স বলে তিনি দাবি করেন। তবে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিমা খাতের উন্নয়ন ও সমস্যা নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যারা গ্রাহকদের ভালো সেবা দিয়ে যাচ্ছে, তাদের মুনাফা ও সুনাম রয়েছে সর্বত্র। তবে তাদের ভালো করার পেছনে ব্যবস্থাপনা পর্ষদের অবদান রয়েছে। যেখানে ব্যবস্থাপনা পর্ষদের দুর্বলতা রয়েছে বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। তবে সরকার যদি এ খাতে নজর দেয় তাহলে বিমা খাত দেশের জিডিপিতে ভালো করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

নন-লাইফ ইনস্যুরেন্স বা সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে শীর্ষে আছে গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স। আর ৫৪১ কোটি টাকা মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স লিমিটেড মাইলফলক অর্জন করেছে।
দেশের ছয়টি নন-লাইফ বিমা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের সম্পদ বিবরণী যাচাই করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পাইওনিয়ার, রিলায়েন্স, সেনা, ক্রিস্টাল, সিটি জেনারেল এবং গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স।
প্রতিষ্ঠানগুলোর কর দেওয়ার পর নিট মুনাফা অর্জনের দিক দিয়ে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা আয় করে শীর্ষে আছে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স। রিলায়েন্সের তুলনায় পাইওনিয়ার ৪৪ কোটি টাকা কম মুনাফা করেও ২২ কোটি টাকা বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। অন্যদিকে গ্রীন ডেল্টা রিলায়েন্সের চেয়ে ২০ কোটি টাকা বেশি মুনাফা করেও ৪৪ কোটি টাকার বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। সবচেয়ে কম মাত্র ১৬ কোটি টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে সেনা ইনস্যুরেন্স ।
তবে সম্পদের বিপরীতে ৪৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ ও ৩১৯ কোটি টাকা এফডিআর করে শীর্ষে রয়েছে রিলায়েন্স । এদিকে গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ৫৪০ কোটি টাকার মোট প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১১৮ কোটি টাকা অবলোপন মুনাফা অর্জন করে শীর্ষে রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশাধ এবং প্রায় ৭০ কোটি টাকা নিট মুনাফায়ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রীন ডেল্টা ।
সম্পদের চিত্র
মোট সম্পদ বিবেচনায় ১ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স। এ ছাড়া পাইওনিয়ারের ৬৬১ কোটি টাকা, সিটির ২৪৫ কোটি টাকা, ক্রিস্টালে ২২৩ কোটি টাকা এবং সেনা ইনস্যুরেন্সের ২০৪ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
বিনিয়োগে দ্বিতীয় গ্রীন ডেল্টা
সম্পদ বিনিয়োগে রিলায়েন্সের ৪৬৯ কোটি টাকা পরে মোট সম্পদের মধ্যে ৪১০ কোটি টাকা বিনিযোগ করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রীন ডেল্টা। তবে গ্রীন ডেল্টার রিলায়েন্স থেকে ৩০ কোটি টাকার কম সম্পদ থাকলেও রিল্যায়েন্স ৫৯ কোটি টাকার সম্পদ বেশি বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া মোট সম্পদের মধ্যে পাইওনিয়ার ২৬৫ কোটি টাকা, সেনা ইন্সুরেন্স ১৭০ কোটি টাকা, সিটি ইন্সুরেন্স ১৬৮ কোটি টাকা এবং ক্রিস্টাল ইন্সুরেন্স ১৪৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানিক এফডিআরে দিক দিয়ে ৩১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে শীর্ষে রয়েছে রিলায়েন্স। বাকি সবার এফডিআর ১২০ থেকে ১৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
প্রিমিয়াম সংগ্রহের চিত্র
প্রকৃত প্রিমিয়াম সংগ্রহে শীর্ষে রয়েছে গ্রিন ডেল্টা। তার পরের অবস্থানে ২০৬ কোটি টাকা নিয়ে রয়েছে পাইওনিয়ার এবং ১৬০ কোটি টাকা নিয়ে রয়েছে রিলায়েন্স। বাকিদের প্রকৃত প্রিমিয়াম সেনার ৫০ কোটি, ক্রিস্টালের ৭০ কোটি এবং সিটি জেনারেলের ৬১ কোটি টাকা।
বিমা দাবি পরিশোধের চিত্র
মোট ও প্রকৃত প্রিমিয়াম সংগ্রেহের বিপরীতে ৩৯ কোটি টাকা করে বিমা দাবি পরিশোধ করেছে পাইওনিয়ার ও গ্রিন ডেল্টা। রিলায়েন্সও প্রায় ৩৬ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধ করেছে। ক্রিস্টাল ২৬ কোটি এবং সেনা প্রায় ১৭ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধ করে। আর সবচেয়ে কম ১০ কোটি টাকা বিমা দাবি পরিশোধ করেছে সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স।
ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের চিত্র
এদিকে মোট প্রিমিয়ামের সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় ৮৬ কোটি টাকা খরচ করেছে গ্রীন ডেল্টা। পাইওনিয়ার ইন্সুরেন্স ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা এবং রিলায়েন্স ৪২ কোটি টাকা। সবচেয়ে কম ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে সেনা ইন্সুরেন্স মাত্র ১৬ কোটি টাকা। ২২ কোটি ও ২৫ কোটি টাকা করে ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে ক্রিস্টাল ও সিটি জেনারেল। তবে পাইওনিয়ার রিলায়েন্স থেকে ৪৪ কোটি টাকা কম মুনাফা করেও ২২ কোটি বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। আবার গ্রিন ডেল্টা রিলায়েন্স থেকেও ২০ কোটি টাকা কম মুনাফা করে ৪৪ কোটি টাকার বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে।
মুনাফার চিত্র
এদিকে সিটি জেনারেল ২৩ কোটি টাকার বেশি আয় করলেও সেনা ইনস্যুরেন্স আয় করেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। তবে ক্রিস্টাল ইনস্যুরেন্সের আয় প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘দ্রুত বিমা দাবি পরিশোধ করাই আমাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তবে আমরা বিশ্বের ‘এ রেটেড’ কোম্পানির সাথেও কাজ করছি।’ ভালো ব্যবস্থাপনা ও সততার দৃষ্টান্ত নিয়ে কাজ করছে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স বলে তিনি দাবি করেন। তবে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিমা খাতের উন্নয়ন ও সমস্যা নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যারা গ্রাহকদের ভালো সেবা দিয়ে যাচ্ছে, তাদের মুনাফা ও সুনাম রয়েছে সর্বত্র। তবে তাদের ভালো করার পেছনে ব্যবস্থাপনা পর্ষদের অবদান রয়েছে। যেখানে ব্যবস্থাপনা পর্ষদের দুর্বলতা রয়েছে বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। তবে সরকার যদি এ খাতে নজর দেয় তাহলে বিমা খাত দেশের জিডিপিতে ভালো করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সম্পদে গ্রীন ডেল্টা, বিনিয়োগ ও মুনাফায় শীর্ষে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স
নিজস্ব প্রতিবেদক

নন-লাইফ ইনস্যুরেন্স বা সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে শীর্ষে আছে গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স। আর ৫৪১ কোটি টাকা মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স লিমিটেড মাইলফলক অর্জন করেছে।
দেশের ছয়টি নন-লাইফ বিমা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের সম্পদ বিবরণী যাচাই করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পাইওনিয়ার, রিলায়েন্স, সেনা, ক্রিস্টাল, সিটি জেনারেল এবং গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স।
প্রতিষ্ঠানগুলোর কর দেওয়ার পর নিট মুনাফা অর্জনের দিক দিয়ে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা আয় করে শীর্ষে আছে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স। রিলায়েন্সের তুলনায় পাইওনিয়ার ৪৪ কোটি টাকা কম মুনাফা করেও ২২ কোটি টাকা বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। অন্যদিকে গ্রীন ডেল্টা রিলায়েন্সের চেয়ে ২০ কোটি টাকা বেশি মুনাফা করেও ৪৪ কোটি টাকার বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। সবচেয়ে কম মাত্র ১৬ কোটি টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে সেনা ইনস্যুরেন্স ।
তবে সম্পদের বিপরীতে ৪৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ ও ৩১৯ কোটি টাকা এফডিআর করে শীর্ষে রয়েছে রিলায়েন্স । এদিকে গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ৫৪০ কোটি টাকার মোট প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১১৮ কোটি টাকা অবলোপন মুনাফা অর্জন করে শীর্ষে রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশাধ এবং প্রায় ৭০ কোটি টাকা নিট মুনাফায়ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রীন ডেল্টা ।
সম্পদের চিত্র
মোট সম্পদ বিবেচনায় ১ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স। এ ছাড়া পাইওনিয়ারের ৬৬১ কোটি টাকা, সিটির ২৪৫ কোটি টাকা, ক্রিস্টালে ২২৩ কোটি টাকা এবং সেনা ইনস্যুরেন্সের ২০৪ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
বিনিয়োগে দ্বিতীয় গ্রীন ডেল্টা
সম্পদ বিনিয়োগে রিলায়েন্সের ৪৬৯ কোটি টাকা পরে মোট সম্পদের মধ্যে ৪১০ কোটি টাকা বিনিযোগ করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রীন ডেল্টা। তবে গ্রীন ডেল্টার রিলায়েন্স থেকে ৩০ কোটি টাকার কম সম্পদ থাকলেও রিল্যায়েন্স ৫৯ কোটি টাকার সম্পদ বেশি বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া মোট সম্পদের মধ্যে পাইওনিয়ার ২৬৫ কোটি টাকা, সেনা ইন্সুরেন্স ১৭০ কোটি টাকা, সিটি ইন্সুরেন্স ১৬৮ কোটি টাকা এবং ক্রিস্টাল ইন্সুরেন্স ১৪৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানিক এফডিআরে দিক দিয়ে ৩১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে শীর্ষে রয়েছে রিলায়েন্স। বাকি সবার এফডিআর ১২০ থেকে ১৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
প্রিমিয়াম সংগ্রহের চিত্র
প্রকৃত প্রিমিয়াম সংগ্রহে শীর্ষে রয়েছে গ্রিন ডেল্টা। তার পরের অবস্থানে ২০৬ কোটি টাকা নিয়ে রয়েছে পাইওনিয়ার এবং ১৬০ কোটি টাকা নিয়ে রয়েছে রিলায়েন্স। বাকিদের প্রকৃত প্রিমিয়াম সেনার ৫০ কোটি, ক্রিস্টালের ৭০ কোটি এবং সিটি জেনারেলের ৬১ কোটি টাকা।
বিমা দাবি পরিশোধের চিত্র
মোট ও প্রকৃত প্রিমিয়াম সংগ্রেহের বিপরীতে ৩৯ কোটি টাকা করে বিমা দাবি পরিশোধ করেছে পাইওনিয়ার ও গ্রিন ডেল্টা। রিলায়েন্সও প্রায় ৩৬ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধ করেছে। ক্রিস্টাল ২৬ কোটি এবং সেনা প্রায় ১৭ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধ করে। আর সবচেয়ে কম ১০ কোটি টাকা বিমা দাবি পরিশোধ করেছে সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স।
ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের চিত্র
এদিকে মোট প্রিমিয়ামের সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় ৮৬ কোটি টাকা খরচ করেছে গ্রীন ডেল্টা। পাইওনিয়ার ইন্সুরেন্স ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা এবং রিলায়েন্স ৪২ কোটি টাকা। সবচেয়ে কম ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে সেনা ইন্সুরেন্স মাত্র ১৬ কোটি টাকা। ২২ কোটি ও ২৫ কোটি টাকা করে ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে ক্রিস্টাল ও সিটি জেনারেল। তবে পাইওনিয়ার রিলায়েন্স থেকে ৪৪ কোটি টাকা কম মুনাফা করেও ২২ কোটি বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। আবার গ্রিন ডেল্টা রিলায়েন্স থেকেও ২০ কোটি টাকা কম মুনাফা করে ৪৪ কোটি টাকার বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে।
মুনাফার চিত্র
এদিকে সিটি জেনারেল ২৩ কোটি টাকার বেশি আয় করলেও সেনা ইনস্যুরেন্স আয় করেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। তবে ক্রিস্টাল ইনস্যুরেন্সের আয় প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘দ্রুত বিমা দাবি পরিশোধ করাই আমাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তবে আমরা বিশ্বের ‘এ রেটেড’ কোম্পানির সাথেও কাজ করছি।’ ভালো ব্যবস্থাপনা ও সততার দৃষ্টান্ত নিয়ে কাজ করছে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স বলে তিনি দাবি করেন। তবে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিমা খাতের উন্নয়ন ও সমস্যা নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যারা গ্রাহকদের ভালো সেবা দিয়ে যাচ্ছে, তাদের মুনাফা ও সুনাম রয়েছে সর্বত্র। তবে তাদের ভালো করার পেছনে ব্যবস্থাপনা পর্ষদের অবদান রয়েছে। যেখানে ব্যবস্থাপনা পর্ষদের দুর্বলতা রয়েছে বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। তবে সরকার যদি এ খাতে নজর দেয় তাহলে বিমা খাত দেশের জিডিপিতে ভালো করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।




