এবার বন্ধ হলো ১৯ বছর ধরে চলা রপ্তানিমুখী কারখানা

এবার বন্ধ হলো ১৯ বছর ধরে চলা রপ্তানিমুখী কারখানা
সিজেডএন ডেস্ক

১৯ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসার পর শেষ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন রাজধানীর মিরপুরের উদ্যোক্তা মাহবুবুল হাসান ফয়সাল। গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে তার মালিকানাধীন রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা ‘ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস’।
কারখানাটিতে ১৭৭ শ্রমিকসহ মোট ১৯০ জন কর্মরত ছিলেন। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২০ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস-সংকট ও ব্যাংকিং জটিলতায় শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
কারখানা বন্ধের পর বিকেএমইএর সদস্যদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া বার্তায় মাহবুবুল হাসান লিখেছেন, প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে তিনি নানা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যবসায়িক মন্দার পাশাপাশি কিছু মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডও পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে। এখন কারখানাটি বিক্রি করে পাওনাদারদের দেনা পরিশোধের চেষ্টা করছেন তিনি।
শুরুটা যেভাবে
২০০৬ সালে পাঁচ অংশীদারকে নিয়ে মিরপুরে ‘ম্যাট্রিক্স স্টাইল’ নামে পোশাক কারখানা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন মাহবুবুল হাসান। শুরুতে সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের কাজ করলেও পরের বছর সরাসরি রপ্তানিতে যান। অংশীদারদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে আড়াই বছরের মধ্যে সেই ব্যবসার ইতি ঘটে।
২০০৯ সালে ‘ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস’ নামে নতুন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। আগের ব্যবসা থেকে পাওয়া ২৬ লাখ টাকা দিয়ে পুরোনো যন্ত্রপাতি কিনে কার্যক্রম শুরু হয়। তবে আবাসিক ভবনে কারখানা হওয়ায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেতে জটিলতা দেখা দেয়। পরে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণপত্র খুলে নিজের কারখানায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানি করতে থাকেন। এ সময় রপ্তানি আয় নিয়ে জটিলতায় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েন।
২০১১ সালে রূপনগরের একটি বাণিজ্যিক শেডে কারখানা স্থানান্তর করেন মাহবুবুল হাসান। ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংগ্রহ করে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকেই রপ্তানি শুরু করেন। একপর্যায়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের একাধিক ক্রেতার কাছ থেকে নিয়মিত ক্রয়াদেশ পেতে থাকেন।
রপ্তানি বাড়লেও বিপদ আসে
রানা প্লাজা ধসের পর কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি শুরু হলে ম্যাট্রিক্স ড্রেসেসের ভবনটিকেও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২২ সালের শেষ দিকে কারখানাটি মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনের একটি ভাড়া শেডে স্থানান্তর করা হয়।
এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪১ লাখ মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। ফ্রান্স, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, স্পেন ও ইতালির ১০ থেকে ১১টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তখন ব্যবসা চলছিল।
তবে এরপর থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হওয়ায় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ক্রেতারা পোশাকের দাম বাড়াতে রাজি হয়নি। বরং কয়েকজন ক্রেতা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।
এর সঙ্গে যোগ হয় গ্যাস-সংকট, ডায়িং খরচ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা। পরে শ্রমিকদের মজুরিও আরও বাড়ে। ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় সময়মতো ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলতে না পারায় কিছু ক্রয়াদেশের পণ্য নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি করাও সম্ভব হয়নি।
ফলে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি কমে প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার ডলারে নেমে আসে। গত বছর তা আরও কমে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ডলারে। চলতি বছর ক্রয়াদেশের সংকটে কয়েক মাস ধরে মূলত সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের কাজ করে কারখানাটি চালু রাখা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত বন্ধ
মাহবুবুল হাসানের ভাষ্য, গত সাত-আট মাস শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের কাজ করেও উৎপাদন খরচ উঠে আসেনি। প্রতি মাসে নিজের অর্থ থেকে কয়েক লাখ টাকা দিতে হয়েছে। কারখানার ভাড়াও নয় মাস বকেয়া পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি ফ্ল্যাট পর্যন্ত ব্যাংকে বন্ধক রাখতে হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘ব্যবসা করতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা এখন আমার ঘাড়ে। কীভাবে এই দায় থেকে বের হব, বুঝতে পারছি না। ১৯ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা কারখানাটি বিক্রির চেষ্টা করছি। এটি যদি অন্য কারও হাতে বেঁচে থাকে, তাতেও কিছুটা সান্ত্বনা পাব।’

১৯ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসার পর শেষ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন রাজধানীর মিরপুরের উদ্যোক্তা মাহবুবুল হাসান ফয়সাল। গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে তার মালিকানাধীন রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা ‘ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস’।
কারখানাটিতে ১৭৭ শ্রমিকসহ মোট ১৯০ জন কর্মরত ছিলেন। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২০ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস-সংকট ও ব্যাংকিং জটিলতায় শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
কারখানা বন্ধের পর বিকেএমইএর সদস্যদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া বার্তায় মাহবুবুল হাসান লিখেছেন, প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে তিনি নানা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যবসায়িক মন্দার পাশাপাশি কিছু মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডও পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে। এখন কারখানাটি বিক্রি করে পাওনাদারদের দেনা পরিশোধের চেষ্টা করছেন তিনি।
শুরুটা যেভাবে
২০০৬ সালে পাঁচ অংশীদারকে নিয়ে মিরপুরে ‘ম্যাট্রিক্স স্টাইল’ নামে পোশাক কারখানা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন মাহবুবুল হাসান। শুরুতে সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের কাজ করলেও পরের বছর সরাসরি রপ্তানিতে যান। অংশীদারদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে আড়াই বছরের মধ্যে সেই ব্যবসার ইতি ঘটে।
২০০৯ সালে ‘ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস’ নামে নতুন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। আগের ব্যবসা থেকে পাওয়া ২৬ লাখ টাকা দিয়ে পুরোনো যন্ত্রপাতি কিনে কার্যক্রম শুরু হয়। তবে আবাসিক ভবনে কারখানা হওয়ায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেতে জটিলতা দেখা দেয়। পরে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণপত্র খুলে নিজের কারখানায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানি করতে থাকেন। এ সময় রপ্তানি আয় নিয়ে জটিলতায় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েন।
২০১১ সালে রূপনগরের একটি বাণিজ্যিক শেডে কারখানা স্থানান্তর করেন মাহবুবুল হাসান। ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংগ্রহ করে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকেই রপ্তানি শুরু করেন। একপর্যায়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের একাধিক ক্রেতার কাছ থেকে নিয়মিত ক্রয়াদেশ পেতে থাকেন।
রপ্তানি বাড়লেও বিপদ আসে
রানা প্লাজা ধসের পর কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি শুরু হলে ম্যাট্রিক্স ড্রেসেসের ভবনটিকেও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২২ সালের শেষ দিকে কারখানাটি মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনের একটি ভাড়া শেডে স্থানান্তর করা হয়।
এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪১ লাখ মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। ফ্রান্স, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, স্পেন ও ইতালির ১০ থেকে ১১টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তখন ব্যবসা চলছিল।
তবে এরপর থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হওয়ায় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ক্রেতারা পোশাকের দাম বাড়াতে রাজি হয়নি। বরং কয়েকজন ক্রেতা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।
এর সঙ্গে যোগ হয় গ্যাস-সংকট, ডায়িং খরচ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা। পরে শ্রমিকদের মজুরিও আরও বাড়ে। ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় সময়মতো ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলতে না পারায় কিছু ক্রয়াদেশের পণ্য নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি করাও সম্ভব হয়নি।
ফলে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি কমে প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার ডলারে নেমে আসে। গত বছর তা আরও কমে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ডলারে। চলতি বছর ক্রয়াদেশের সংকটে কয়েক মাস ধরে মূলত সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের কাজ করে কারখানাটি চালু রাখা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত বন্ধ
মাহবুবুল হাসানের ভাষ্য, গত সাত-আট মাস শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের কাজ করেও উৎপাদন খরচ উঠে আসেনি। প্রতি মাসে নিজের অর্থ থেকে কয়েক লাখ টাকা দিতে হয়েছে। কারখানার ভাড়াও নয় মাস বকেয়া পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি ফ্ল্যাট পর্যন্ত ব্যাংকে বন্ধক রাখতে হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘ব্যবসা করতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা এখন আমার ঘাড়ে। কীভাবে এই দায় থেকে বের হব, বুঝতে পারছি না। ১৯ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা কারখানাটি বিক্রির চেষ্টা করছি। এটি যদি অন্য কারও হাতে বেঁচে থাকে, তাতেও কিছুটা সান্ত্বনা পাব।’

এবার বন্ধ হলো ১৯ বছর ধরে চলা রপ্তানিমুখী কারখানা
সিজেডএন ডেস্ক

১৯ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসার পর শেষ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন রাজধানীর মিরপুরের উদ্যোক্তা মাহবুবুল হাসান ফয়সাল। গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে তার মালিকানাধীন রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা ‘ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস’।
কারখানাটিতে ১৭৭ শ্রমিকসহ মোট ১৯০ জন কর্মরত ছিলেন। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২০ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস-সংকট ও ব্যাংকিং জটিলতায় শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
কারখানা বন্ধের পর বিকেএমইএর সদস্যদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া বার্তায় মাহবুবুল হাসান লিখেছেন, প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে তিনি নানা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যবসায়িক মন্দার পাশাপাশি কিছু মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডও পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে। এখন কারখানাটি বিক্রি করে পাওনাদারদের দেনা পরিশোধের চেষ্টা করছেন তিনি।
শুরুটা যেভাবে
২০০৬ সালে পাঁচ অংশীদারকে নিয়ে মিরপুরে ‘ম্যাট্রিক্স স্টাইল’ নামে পোশাক কারখানা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন মাহবুবুল হাসান। শুরুতে সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের কাজ করলেও পরের বছর সরাসরি রপ্তানিতে যান। অংশীদারদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে আড়াই বছরের মধ্যে সেই ব্যবসার ইতি ঘটে।
২০০৯ সালে ‘ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস’ নামে নতুন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। আগের ব্যবসা থেকে পাওয়া ২৬ লাখ টাকা দিয়ে পুরোনো যন্ত্রপাতি কিনে কার্যক্রম শুরু হয়। তবে আবাসিক ভবনে কারখানা হওয়ায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেতে জটিলতা দেখা দেয়। পরে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণপত্র খুলে নিজের কারখানায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানি করতে থাকেন। এ সময় রপ্তানি আয় নিয়ে জটিলতায় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েন।
২০১১ সালে রূপনগরের একটি বাণিজ্যিক শেডে কারখানা স্থানান্তর করেন মাহবুবুল হাসান। ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংগ্রহ করে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকেই রপ্তানি শুরু করেন। একপর্যায়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের একাধিক ক্রেতার কাছ থেকে নিয়মিত ক্রয়াদেশ পেতে থাকেন।
রপ্তানি বাড়লেও বিপদ আসে
রানা প্লাজা ধসের পর কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি শুরু হলে ম্যাট্রিক্স ড্রেসেসের ভবনটিকেও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২২ সালের শেষ দিকে কারখানাটি মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনের একটি ভাড়া শেডে স্থানান্তর করা হয়।
এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪১ লাখ মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। ফ্রান্স, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, স্পেন ও ইতালির ১০ থেকে ১১টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তখন ব্যবসা চলছিল।
তবে এরপর থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হওয়ায় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ক্রেতারা পোশাকের দাম বাড়াতে রাজি হয়নি। বরং কয়েকজন ক্রেতা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।
এর সঙ্গে যোগ হয় গ্যাস-সংকট, ডায়িং খরচ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা। পরে শ্রমিকদের মজুরিও আরও বাড়ে। ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় সময়মতো ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলতে না পারায় কিছু ক্রয়াদেশের পণ্য নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি করাও সম্ভব হয়নি।
ফলে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি কমে প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার ডলারে নেমে আসে। গত বছর তা আরও কমে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ডলারে। চলতি বছর ক্রয়াদেশের সংকটে কয়েক মাস ধরে মূলত সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের কাজ করে কারখানাটি চালু রাখা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত বন্ধ
মাহবুবুল হাসানের ভাষ্য, গত সাত-আট মাস শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের কাজ করেও উৎপাদন খরচ উঠে আসেনি। প্রতি মাসে নিজের অর্থ থেকে কয়েক লাখ টাকা দিতে হয়েছে। কারখানার ভাড়াও নয় মাস বকেয়া পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি ফ্ল্যাট পর্যন্ত ব্যাংকে বন্ধক রাখতে হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘ব্যবসা করতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা এখন আমার ঘাড়ে। কীভাবে এই দায় থেকে বের হব, বুঝতে পারছি না। ১৯ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা কারখানাটি বিক্রির চেষ্টা করছি। এটি যদি অন্য কারও হাতে বেঁচে থাকে, তাতেও কিছুটা সান্ত্বনা পাব।’









