শিরোনাম

প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা: গ্রেপ্তার ১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা: গ্রেপ্তার ১৭
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাওরান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় মোট ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।

আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই হামলার ঘটনায় থানা-পুলিশ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট তিনজনকে এবং গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে আজ সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার এবং দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলায় জড়িত সন্দেহে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— মো. কাশেম ফারুক, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা ও মো. শফিকুল ইসলাম।

গতকাল রবিবার (২১ ডিসেম্বর) পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের নিকটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের মধ্যে তিনজনকে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত কাশেম ফারুক বগুড়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র এবং ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। মো. সাইদুর রহমান ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

শেরপুর জেলার রাকিব হোসেন ভিডিও ফুটেজে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তার আইডি থেকে ধ্বংসস্তূপের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। তিনি ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্টও করেছেন।

এ ঘটনায় লুট হওয়া ৫০,০০০ টাকাসহ মো. নাইমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, মোট ১,২৩,০০০ টাকা লুট করেছেন। লুটকৃত টাকায় মোহাম্মদপুর থেকে একটি টিভি ও একটি ফ্রিজ কেনা হয়েছিল, যা উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকার কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্যান্য ঘটনায় ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।

অন্য গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।