শিরোনাম

গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় রিমান্ড শেষে বিমানের সাবেক এমডি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় রিমান্ড শেষে বিমানের সাবেক এমডি কারাগারে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমান (ছবি:সংগৃহীত)

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় ছয় দিনের রিমান্ড শেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত তাকেসহ দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় হওয়া ওই মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আবেদন করেও জবানবন্দি দেননি সাফিকুর রহমান। তবে মামলার অপর আসামি সুফিয়া খাতুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ছয় দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া। তবে বিচারকের খাস কামরায় গিয়ে সাফিকুর জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেন। অন্য আসামি সুফিয়া জবানবন্দি দিলে বিচারক তা রেকর্ড করেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টায় উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানের পাঁচদিন, তার স্ত্রী বিথীর সাতদিন ও দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচদিন ও মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর মধ্যে রুপালী খাতুনকে গত বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২ নভেম্বর মালার বাদী তার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় আসামির বাসায় দেখে আসেন। কিন্তু ৩১ জানুয়ারি ফোন করে তাকে তার মেয়ের অসুস্থতার কথা জানানো হয়। পরে বাদী সেখানে গিয়ে দেখতে পান তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। পরে তার মেয়ে জানায়, গত ২ নভেম্বর বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান ও বিথীসহ অন্যরা তাকে মারধর করত এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করত। এই ঘটনায় ওই গৃহকর্মীর বাবা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

/বিবি/